kalerkantho

সোমবার । ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭। ১০ আগস্ট ২০২০ । ১৯ জিলহজ ১৪৪১

করোনায় প্রাণ গেল আরো দুই চিকিৎসকের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও চট্টগ্রাম   

১৫ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনায় প্রাণ গেল আরো দুই চিকিৎসকের

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সুলতানা লতিফা জামান আইরিনের (৩৪) মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) তাঁর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে ১১ চিকিৎসক প্রাণ হারালেন। এদিকে গতকাল ভোরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে করোনায় মারা গেছেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ডা. এমদাদুল হক। তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি।

মৃত আইরিন চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে গাইনি অ্যান্ড অবস বিভাগে রেজিস্ট্রার ছিলেন। তাঁর স্বামী ডা. মুইজ্জুল আকবর চৌধুরী একই হাসপাতালের হৃদেরাগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। এই চিকিৎসক দম্পতির ছয় বছরের একটি কন্যাসন্তান আছে। বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার সদস্য ডা. আইরিন কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের এমবিবিএস ১৪তম ব্যাচের ছাত্রী ছিলেন।

গত ২৮ জুন বিএমএ চট্টগ্রামে বুথে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন ডা. আইরিন। পরদিন ২৯ জুন তাঁর করোনা পজিটিভ ফল আসে। এরপর গত ১১ জুলাই আবার নমুনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। ১২ জুলাই পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এলেও তাঁর ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আইরিনের স্বামী বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী গতকাল বলেন, ডা. সুলতানা লতিফা জামান আইরিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও পরবর্তী পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ এসেছিল। কিন্তু করোনায় তাঁর ফুসফুস অনেকটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। চমেক হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজকে (গতকাল) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে মারা গেছেন।

চমেক হাসপাতালে আইসিইউর সহযোগী অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, হঠাৎ করে ডা. আইরিনের ডায়রিয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ডায়রিয়া কমলে হঠাৎ খিচুনি শুরু হয়।  চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল থেকে তাঁকে গত শুক্রবার বিকেলে চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

এদিকে গতকাল আসরের নামাজের পর চমেক হাসপাতাল কেন্দ্রীয় মসজিদে ডা. সুলতানা লতিফা জামান আইরিনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন চিকিৎসক, রাজনীতিবিদসহ নানা শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা অংশ নেন। এরপর তাঁর মরদেহ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে দাফন সম্পন্ন হয়। বিএমএ চট্টগ্রাম শাখা সূত্রে জানা গেছে, গতকাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে আইরিনসহ ১১ চিকিৎসক প্রাণ হারালেন। চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত ৩৭৩ জন চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

এদিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে গতকাল প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ডা. এমদাদুল হকের মৃত্যু হয়েছে। বিসিএস লাইভস্টক ক্যাডারের নবম ব্যাচের এই কর্মকর্তা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পিপিআর রোগ নির্মূল এবং ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি ১৯৬৩ সালে সালে নওগাঁ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা