kalerkantho

সোমবার । ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭। ১০ আগস্ট ২০২০ । ১৯ জিলহজ ১৪৪১

‘পচনশীল ব্যাগে’ আটকা করোনা বর্জ্য সংগ্রহ

প্রচার চালালেও দুই সিটির ৫০ শতাংশ বাসিন্দাও আলাদাভাবে বর্জ্য দিচ্ছে না

শাখাওয়াত হোসাইন   

১৫ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে




‘পচনশীল ব্যাগে’ আটকা করোনা বর্জ্য সংগ্রহ

সংক্রামক বর্জ্য আলাদাভাবে ব্যবস্থাপনা করার ঘোষণা দিয়েছিল রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন। সে লক্ষ্যে করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সুরক্ষাসামগ্রীর বর্জ্য বাসাবাড়ি থেকে পৃথকভাবে সংগ্রহ করতে পচনশীল পলিথিন ব্যাগ নগরবাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণাও এসেছিল। কিন্তু ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এখনো সেই ব্যাগের সংস্থান পুরোপুরি করতে পারেনি। ফলে ভেস্তে যাওয়ার পথে সংক্রামক বর্জ্য পৃথকভাবে সংগ্রহ করার পরিকল্পনা।

নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে দুই সিটি কাজ করলেও এখনো বেশির ভাগ এলাকায় গৃহস্থালি বর্জ্যের সঙ্গেই সংগ্রহ করা হচ্ছে সংক্রামক বর্জ্য। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পাঁচটি অঞ্চলে সংক্রামক বর্জ্য পৃথকভাবে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব প্রিজম বাংলাদেশ নামের একটি কম্পানিকে দেওয়া হলেও সংগৃহীত বর্জ্যের পরিমাণ খুব কম। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এখনো আলাদা ব্যবস্থাপনায় যেতে পারেনি।

তিনটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে পরিচালনা করা একটি সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, শুধু ঢাকা মহানগরে প্রতিদিন ২০৬.২১ মেট্রিক টন করোনা বর্জ্য হচ্ছে। ৪৯ শতাংশের বেশি নগরবাসী অন্যান্য বর্জ্যের সঙ্গে করোনা বর্জ্য রাখে এবং সিটি করপোরেশনের কর্মীদের কাছে হস্তান্তর করে।

গত মঙ্গলবার অর্থাৎ ৭ জুলাই থেকে গৃহস্থালি বর্জ্যের সঙ্গে মাস্ক, ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী (পিপিই) হ্যান্ডগ্লাভসসহ অন্যান্য বর্জ্য থাকলে তা নেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন ডিএনসিসির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। গত ২৩ জুন তিনি এ ঘোষণা দেন। করোনা বর্জ্যের বিষয়ে এ ধরনের ঘোষণা এসেছিল ডিএসসিসি থেকেও। কিন্তু করোনা বর্জ্য আলাদা সংগ্রহ করতে পচনশীল পলিথিন ব্যাগ এখনো নগরবাসীর সবার কাছে পৌঁছাতে পারেনি সিটি করপোরেশন।

গত মঙ্গল বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রাহকরা

বাসাবাড়ির সামনে থেকে সব ধরনের বর্জ্য একসঙ্গে সংগ্রহ করে ভ্যানে তুলছিল। এসব বর্জ্যের মধ্যে মাস্কসহ অন্যান্য সংক্রামক বর্জ্যও ছিল। একসঙ্গে থাকা বর্জ্যের মধ্য থেকে করোনা বর্জ্য আলাদা করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে বর্জ্য সংগ্রহকারীরা। আর একসঙ্গে থাকা বর্জ্য নিতে না চাইলে বাড়ির মালিকরা খারাপ ব্যবহার করে বলে দাবি রবিউল ইসলাম নামের ডিএনসিসির একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর। 

সিটি করপোরেশনের তথ্য মতে, করোনা বর্জ্য সংগ্রহের জন্য ডিএসসিসি সব কয়টি ওয়ার্ডে আলাদা করে ডাস্টবিন স্থাপন করেছে। এসব ডাস্টবিনে সংক্রামক বর্জ্য আলাদাভাবে এনে ফেলার জন্য বলা হয়েছে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের। প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার ডাস্টবিন থেকে প্রিজমের ভ্যান মেডিক্যাল বর্জ্যের সঙ্গে এসব ব্যবস্থাপনা করার কথা।

লকডাউনে থাকা ঢাকা দক্ষিণের ওয়ারীর ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন বাসায় এরই মধ্যে ১০ হাজারের মতো পলিথিন বিতরণ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে ৩০ হাজার মতো পচনশীল পলিথিন বণ্টন করা হবে। এ ধরনের পলিথিনের সংকট থাকার কারণে করোনা বর্জ্য আলাদাভাবে সংগ্রহ বিঘ্নিত হচ্ছে। এ ছাড়া পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মধ্যে ১০ হাজার মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। এর বাইরে করোনা বর্জ্য আলাদাভাবে দেওয়ার জন্য ওয়ার্ডের প্রতিটি মসজিদে কাউন্সিলরদের মাধ্যমে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মাইকিং ও প্রচারপত্র বিতরণও করা হয়েছে। কিন্তু এত কিছুর পরও ৫০ শতাংশ বাসিন্দাও করোনা বর্জ্য আলাদাভাবে দিচ্ছে না।

ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. বদরুল আমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নগরবাসীকে সচেতন করার চেষ্টা করছি, কিন্তু এখনো ৫০ শতাংশ বাসিন্দাও আলাদাভাবে সংক্রামক বর্জ্য দিচ্ছে না। তবে পলিথিন সংগ্রহের জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন চেষ্টার পরও এখনো পলিথিন ব্যাগ সংস্থান করতে পারেনি। তবে আলাদাভাবে করোনা বর্জ্য দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। বেসরকারিভাবে সোনালি ব্যাগ সংগ্রহের জন্য এরই মধ্যে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যর্থ হয়েছে সংস্থাটি। ইতিমধ্যে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর এম সাইদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের চেষ্টার কোনো কমতি নেই। নগরবাসী অনেকটা সচেতন হয়েছে। তবে এখনই কোনো কঠোরতার দিকে যাচ্ছি না আমরা। চেষ্টা করছি সচেতনতা ব্যাপক হারে বাড়ানোর। পলিব্যাগ সংগ্রহের চেষ্টা করছি।’

প্রিজম জানিয়েছে, করোনার মধ্যে অন্য রোগীরা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে ভয় পাচ্ছে। ফলে হাসতাপাল বর্জ্য কমে গেছে অনেকাংশে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ১০টি অঞ্চলের মধ্যে পাঁচটির করোনা বর্জ্য সংগ্রহ করার জন্য প্রিজমকে বলেছে। প্রিজম গত বুধবার থেকে কাজও শুরু করেছে। কিন্তু করোনা বর্জ্যের পরিমাণ খুব কম। অর্থাৎ সচেতনতায় এখনো ঘাটতি হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এখনো করোনা বর্জ্য আলাদা করতে পারছে না। ফলে তা সংগ্রহ করাও যাচ্ছে না।

প্রিজম বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার আনিসুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সংক্রামক বর্জ্য পৃথকভাবে ব্যবস্থাপনা করতে না পারলে লকডাউন বা অন্য কোনো পন্থা অবলম্বন করে লাভ হবে না। কিন্তু করোনা বর্জ্য এখনো আলাদাভাবে দিচ্ছে না কেউ। তাই বিষয়টি নিয়ে কাজ করা উচিত।’

বিজেএমসি সোনালি ব্যাগ প্রকল্পের প্রধান মোবারক হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারি প্রকল্প এটি। বিজেএমসিতে এক ধরনের টানাপড়েন চলছে। খুব স্বল্প পরিসরে পচনশীল পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন করা হচ্ছে। তাই সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে পুরোদমে উৎপাদনে যাওয়ার বিষয়টি।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা