kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

কক্সবাজার সৈকত

বর্জ্য ভেসে আসার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

১৪ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বর্জ্য ভেসে আসার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

সাগরে বিপন্ন প্রাণী : ভেসে আসা বর্জ্যে সমুদ্রের প্রাণীরা পড়েছে চরম সংকটে। সৈকতে ভেসে আসছে মৃত প্রাণীর দেহ। কখনো দেখা মিলছে মুমূর্ষু কচ্ছপের। ছবি : কালের কণ্ঠ

জোয়ারের পানিতে কক্সবাজার সৈকতে বর্জ্য ভেসে আসার ঘটনা নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সাত সদস্যের এ কমিটি গঠন করে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসারকে প্রধান করে গঠিত কমিটি জোয়ারে আকস্মিক ভেসে আসা বর্জ্যের উৎসর সন্ধান করবে। সেই সঙ্গে সাগরে পরিবেশদূষণের বিষয়টিও কমিটি খুঁজে দেখবে।

আষাঢ়ের এমন ঘোর বর্ষার সময় কাছিম, সাপসহ সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু নিয়ে সমুদ্রবিজ্ঞানীরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। কাছিমের মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটন করার জন্য গতকালই ভেসে আসা কাছিম উদ্ধার করে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারের পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও জেলা প্রশাসকের গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব শেখ মো. নাজমুল হুদা জানিয়েছেন, আশা করা যাচ্ছে, ল্যাবে ময়নাতদন্তে সামুদ্রিক প্রাণীটির মৃত্যুর কারণ জানা যেতে পারে।

এদিকে জোয়ারের পানিতে বর্জ্য ভেসে আসার পরিমাণ কমে গেলেও মৃত এবং অর্ধমৃত সামুদ্রিক কাছিম ও সামুদ্রিক সাপ আসা অব্যাহত আছে। গতকালও বিপুলসংখ্যক কাছিম সৈকতে ভেসে এসেছে। সাগরে গত ২০ মে থেকে যেখানে মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে, সেখানে গভীর সাগরের তলদেশের প্রাণী কাছিমসহ সামুদ্রিক সাপ ভেসে আসার বিষয়টি সমুদ্রবিজ্ঞানীদেরও বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। কী কারণে এমন অসময়ে কাছিম মারা যাচ্ছে, তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন সমুদ্রবিজ্ঞানীরা।

কক্সবাজার সামুদ্রিক মত্স্য গবেষণা কেন্দ্রের (এফআরআই) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, এ সময়টা সামুদ্রিক কাছিমের প্রজনন সময় নয়। কাছিম ডিম দিতে তীরে উঠে আসে ডিসেম্বর-জানুয়ারির শীত মৌসুমে। বর্জ্যের কারণে সাগরের পানিদূষণের শিকার হয়েছে কি না, তা গতকাল পরীক্ষা করা হয়েছে। তিনি জানান, ল্যাবে গতকাল সাগরের পানি পরীক্ষা করে স্বাভাবিক পাওয়া গেছে। তবু আরো পরীক্ষা করার জন্য ঢাকায় সামুদ্রিক জোয়ারের পানি পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার সামুদ্রিক মত্স্য গবেষণা কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ সমুদ্রবিজ্ঞানী মো. আশরাফুল হকের নেতৃত্বে তিনজনের একটি বিজ্ঞানীদল গতকাল দিনব্যাপী সৈকত এলাকা পরিদর্শন করেছে। তাদের প্রাথমিক ধারণা, সাগরে নিক্ষিপ্ত বর্জ্যগুলো জাল দিয়ে আটকানো ছিল। বর্ষার এমন সময়ে সাগরের বৈরী আবহাওয়ায় আটকানো জালসহ এসব বর্জ্য ভাসতে ভাসতে কক্সবাজারের সৈকতে আসতে পারে। আর সামুদ্রিক কাছিম ও সাপ বর্জ্যবোঝাই জালের বিশাল থলির সঙ্গে আটকা পড়ে ভেসে আসতে পারে।

অন্যদিকে সৈকতের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় গত তিন দিনে ভেসে আসা বর্জ্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও এগিয়ে চলছে। সরকারি ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর ব্যবস্থাপনায় এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে সৈকত পরিচ্ছন্নতার কাজ। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান জাহিদ খান জানান, কক্সবাজার সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে শুরু করে দরিয়ানগর ও হিমছড়ি পর্যন্ত এলাকায় পরিচ্ছন্নতার কাজ চালানো হচ্ছে। সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির কর্মী, পরিবেশবাদী সংগঠনের কর্মী থেকে শুরু করে স্থানীয় দরিদ্র লাকড়ি কুড়ানি বহুসংখ্যক নারী-পুরুষের দলও সৈকতের বর্জ্য তুলে ফেলছে।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, গতকাল সকাল থেকে বর্ষণের কারণে সৈকতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ব্যাহত হলেও বিকেলে বৃষ্টি কমে যাওয়ায় ২৫ জনের একটি পরিচ্ছন্নতাকর্মীর দল শুধু দরিয়ানগর সৈকত থেকে ২৬ বস্তা বর্জ্য কুড়িয়ে তুলে নেয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা