kalerkantho

বুধবার । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭। ১২ আগস্ট ২০২০ । ২১ জিলহজ ১৪৪১

করোনা টেস্ট নিয়ে স্বাস্থ্যসচিবের মুখে হতাশার কথা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৪ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা টেস্ট নিয়ে স্বাস্থ্যসচিবের মুখে হতাশার কথা

করোনা সংকটকালে নিজের পরিবারের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আব্দুল মান্নান বলেছেন, ‘দেশে করোনার নমুনা পরীক্ষায় নানা রকম ঘাটতি আছে। টেস্ট নিয়ে আমাদেরও হতাশা আছে।’ গতকাল সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও উপজেলা স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

স্বাস্থ্যসচিব বলেন, ‘করোনায় আমার স্ত্রীকে হারিয়েছি। তাঁর সঙ্গে শেষ সময় পর্যন্ত হাসপাতালে থাকলেও পরে দুইবার পরীক্ষা করানোর পরও আমার বড় ছেলের করোনা নেগেটিভ আসে। সন্দেহ হওয়ায় তৃতীয়বার পরীক্ষা করা হয়। তখন তার করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। করোনা নেগেটিভের রিপোর্ট ফলস হতে পারে, কিন্তু পজিটিভ মানে পজিটিভ। ফলে টেস্ট নিয়ে আমাদেরও হতাশা আছে।’

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে সালমা তানজিয়া, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন চৌধুরী, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ, খানপুর করোনা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. গৌতম রায়, আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সায়মা আফরোজ ইভা, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

স্বাস্থ্যসচিব বলেন, ‘বড় ছেলে হাসপাতালে আমার স্ত্রীর সঙ্গে একটানা চার দিন ছিল। মাকে ছেড়ে এক ঘণ্টার জন্যও সে অন্য কোথাও যায়নি। মাও ছেলেকে ছাড়েনি। ছেলের মুখের কাছেই তার শেষনিঃশ্বাস পড়েছে। বড় ছেলের সঙ্গে আমার মেয়ে ও ছোট ছেলেও ছিল। স্ত্রীর দাফন করে এসে দেখলাম চার দিন হাসপাতালে মায়ের সঙ্গে থাকলেও বড় ছেলের করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। আমরা বললাম, তার রিপোর্ট তো নেগেটিভ হতে পারে না। পরে আরেক জায়গায় টেস্ট করালাম, সেখানেও নেগেটিভ। দুইবার নেগেটিভ আসায় আমি ভাবলাম কী আর করা যায়। কিন্তু আমার ছেলে ডাক্তার হওয়ার কারণে বলল, কভিডের যে চরিত্র, তাতে কোনোভাবেই আমার নেগেটিভ হতে পারে না। ছোট ভাই ও বড় বোনেরও নেগেটিভ হতে পারে না। যেহেতু মৃত্যুর আগে সবাই মাকে জড়িয়ে ধরেছে।’

স্বাস্থ্যসচিব জানান, পরে তৃতীয়বার টেস্টে তাঁর ছেলের করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। তখন তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি ১৩ দিন ছিল। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের বয়স ২৭ বছর, তাঁকে আল্লাহ রক্ষা করেছেন। আমি যদি তাঁর নেগেটিভ রিপোর্ট নিয়ে বসে থাকতাম আর বলতাম, বাবা, যেহেতু নেগেটিভ ঘরেই থাকো, তাহলে জানি না কী হতো। এ জন্য টেস্ট নিয়ে আমাদের হতাশা রয়েছে।’

স্বাস্থ্যসচিব আরো বলেন, ‘এর মধ্যে দুর্বৃত্তরা আবার কোনো টেস্ট না করেই বলছে নেগেটিভ। তাদের কোনো রেহাই নেই। নারায়ণগঞ্জেও যদি এমন কিছু হয়ে থাকে, তাহলে আমি বলে যাচ্ছি, সিভিল সার্জন ব্যবস্থা নেবেন। এসব দুর্বৃত্ত বিদেশেও লোক পাঠিয়ে দিচ্ছে মানুষকে ফলস করোনা সার্টিফিকেট দিয়ে। এয়ারপোর্টে নামার পর সেসব দেশ আবারও বাংলাদেশের মানুষকে ফেরত পাঠাচ্ছে। এই রিজেন্টের মতো, জেকেজির মতো আরো অনেকেই আছে। আমরা এসব ব্যাপারে অনুসন্ধান করছি, কাউকেই ছাড়ব না। দেশ নিয়ে, দেশের মানুষ নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলছে তাদের ছাড় নেই।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা