kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবি

মর্নিং বার্ড ডুবিয়ে প্রকাশ্যেই সদরঘাট ছাড়ে আসামিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মর্নিং বার্ড ডুবিয়ে প্রকাশ্যেই সদরঘাট ছাড়ে আসামিরা

সদরঘাটের কাছে বুড়িগঙ্গা নদীতে ‘মর্নিং বার্ড’ লঞ্চটিকে ডুবিয়ে দেওয়ার পর ময়ূর-২-এর সব স্টাফ সদরঘাটে প্রকাশ্যে ঘুরে অনেক সময় পরে এলাকা ছাড়েন। কিছু সময় পরে প্রশাসন লঞ্চটি জব্দ করলেও তখন আসামি গ্রেপ্তারে কোনো উদ্যাগই নেয়নি। ৩৪ যাত্রী নিহতের ঘটনায় মামলা হলেও রাজধানীর সোবহানবাগের ভাড়া বাসায় অবস্থান করছিলেন ময়ূর-২ লঞ্চের মালিক মোসাদ্দেক হানিফ সোয়াদ। সেখান থেকেই বিভিন্ন স্থানে তদবির করছিলেন মামলা এবং গ্রেপ্তার থেকে বাঁচতে। ৯ দিন পর গত বুধবার দিবাগত রাতে ওই বাসা থেকেই নৌ পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার দ্বিতীয় আসামি লঞ্চের মাস্টার আবুল বাশার মোল্লাও মাগুরার মহম্মদপুরে গ্রামের বাড়ি থেকে ঘুরে এসে রাজধানীর সদরঘাটের কাছে কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকেই গত রবিবার রাতে র‌্যাব তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। এর আগে ৭ জুলাই সদরঘাটের লালকুঠি এলাকা থেকে লঞ্চটির সুপারভাইজর আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, আগের অনেক লঞ্চ দুর্ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করা এবং তদন্ত না হওয়ায় এ ঘটনায়ও আসামিরা রেহাই পেয়ে যাবেন বলে ধারণা করেছিলেন। তিন দিনের রিমান্ডে সোয়াদ ও সালাম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় ময়ূর-২ চালানোর দায়িত্বে

লঞ্চের প্রধান চালক বা মাস্টার আবুল বাশার মোল্লা ছিলেন না। লঞ্চ চালাচ্ছিলেন ইঞ্জিন সহকারী নাসির উদ্দিন মৃধা। এটি লঞ্চ চালনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অপরাধ।

গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি কাইয়ুমুজ্জামান খান বলেন, ‘ঘটনায় আবুল বাশারের অবহেলার তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার পর তিনি মাগুরায় গ্রামের বাড়ি চলে যান। সেখান থেকে ফরিদপুর হয়ে আবার কেরানীগঞ্জে চলে আসেন। গোপন সোর্সের মাধ্যমে তাঁকে আমরা গ্রেপ্তার করি।’

সদরঘাট নৌ পুলিশ থানার ওসি রেজাউল করিম বলেন, ‘র‌্যাবের হস্তান্তরের পর বাশারকে বিজ্ঞ ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হবে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মর্নিং বার্ডকে ডুবিয়ে দেওয়ার পর ময়ূর-২-এর সব স্টাফ সদরঘাট এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরেফিরে পরে স্থান ত্যাগ করেন। কিছু সময় পরে প্রশাসন লঞ্চটি জব্দ করলেও তখন আসামি গ্রেপ্তারে কোনো উদ্যাগই নেয়নি। মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা সোয়াদ সোবহানবাগের ভাড়া বাসায় থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির করছিলেন আর কর্মীদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে মামলায় কারো কিছু হবে না। কারণ অতীতে লঞ্চ দুর্ঘটনার মামলায় কিছুই হয়নি এ দেশে!’

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বুড়িগঙ্গায় সেদিন যাত্রীবোঝাই মর্নিং বার্ড লঞ্চটিকে ডুবিয়ে দিয়ে ময়ূর-২ লালকুঠির ঘাটে চলে যায়। তখন লালকুঠি ঘাটের দায়িত্বে থাকা বিআইডাব্লিউটিএর পরিবহন পরিদর্শকের কাছে যান লঞ্চের মাস্টার আবুল বাশার। সেখানে আসেন শাহ আলম নামের এক লঞ্চ শ্রমিক নেতা। সেখানে শলাপরামর্শ করে ময়ূর-২-কে আবার উল্টো দিকে নিয়ে রেখে তাঁরা সদরঘাট ত্যাগ করেন। তদন্তের ব্যাপারে জানতে চাইলে নৌ পুলিশ সুপার (এসপি) খন্দকার ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আসামিদের গাফিলতির বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। এগুলো নিয়ে কাজ চলছে।’

প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুন সকালে বুড়িগঙ্গায় চাঁদপুর রুটের লঞ্চ ময়ূর-২ যাত্রীবোঝাই ছোট লঞ্চ মর্নিং বার্ডকে ডুবিয়ে দেয়। এ ঘটনায় ৩৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা