kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭। ৭ আগস্ট  ২০২০। ১৬ জিলহজ ১৪৪১

কক্সবাজার সৈকতে ভেসে আসছে বিপুল বর্জ্য

লকডাউনের সুযোগে বিদেশি জাহাজ থেকে ফেলা হয়েছে বলে সন্দেহ

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

১৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কক্সবাজার সৈকতে ভেসে আসছে বিপুল বর্জ্য

কক্সবাজারের সৈকতে দুই দিন ধরে জোয়ারের পানিতে ব্যাপকহারে বর্জ্য ভেসে আসছে। মদের খালি বোতল, প্লাস্টিকসামগ্রী এবং মাছ ধরার জাহাজে ব্যবহূত নানা সামগ্রীসহ এসব বর্জ্যের সঙ্গে আসছে জীবিত ও মৃত সামুদ্রিক কাছিম, সাপ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীও। বর্তমানে ৬৫ দিনের জন্য সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে। এমন সময়ে বিপুল পরিমাণে বর্জ্য ভেসে আসার ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও জনমনে। বিদেশি জাহাজ থেকে গভীর সাগরে বর্জ্য ফেলার ঘটনা ঘটেছে বলে সন্দেহ করছে তারা।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কক্সবাজারের সৈকতে ভেসে আসা বর্জ্যের কিছু জিনিস আমি ভালোভাবে দেখেছি। প্লাস্টিকসহ আরো অন্য কিছু আইটেম দেখে আমার মনে হয়েছে এসব আমাদের দেশে ব্যবহূত হয় না এবং এগুলো আমাদের দেশীয় পণ্যসামগ্রীও নয়।’ তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার কথাও জানিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক আরো জানান, গত ২০ মে থেকে সাগরে টানা ৬৫ দিনের জন্য মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে। সামুদ্রিক মাছের প্রজননের সময় এটা। আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত মাছ ধরা বন্ধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। সাগরে এখন কোনো মাছ ধরার জেলে নৌকাও নেই। এদিকে দেশের স্থলভাগেও চলছে করোনাকালের লকডাউন পরিস্থিতি। এমন সুযোগে কোনো  বিদেশি জাহাজ থেকে গভীর সাগরে বর্জ্য ফেলার ঘটনা ঘটেছে কি না, উপকূলের লোকজন তেমন সন্দেহ করছে।

কক্সবাজার মাছ ধরা নৌকা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন শনিবার রাতে এ বিষয়ে জানান, কোনো বিদেশি জাহাজ থেকে এসব বর্জ্য ফেলা হতে পারে। চট্টগ্রাম বন্দরে যাতায়াতকারী কোনো পণ্যবাহী জাহাজ থেকেও এ জাতীয় বর্জ্য ফেলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে তাঁর সন্দেহ।

সাগরপারের মানুষের ধারণা, এসব বর্জ্যের সঙ্গে কেমিক্যাল জাতীয় পদার্থ রয়েছে। তা না হলে কাছিম ও সামুদ্রিক সাপের মতো প্রাণী কিছুতেই ভেসে আসত না। কক্সবাজারের হিমছড়ির আবুল কালাম (৫০) নামের এক বাসিন্দা তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সকাল থেকে হিমছড়ি সৈকতে ভেসে আসা বর্জ্যের নানা পণ্য সংগ্রহ করছিলেন। তিনি জানান, মাছ ধরার জালসহ নানা রকমের বর্জ্য বেঁধে সাগরে ফেলা হয়েছে। তিনি প্রথমে মনে করেছিলেন, সাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে হয়তো কোনো মাছ ধরার নৌকাডুবি হয়েছে। কিন্তু পরে তিনি জানতে পারেন, বর্তমানে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে। তিনি কিছু প্লাস্টিকসামগ্রী দেখে জানান, এসব বিদেশি জাহাজে ব্যবহার করা হয়।

একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তা ইকতিয়ার উদ্দিন বায়েজীদ জানান, তিনি হিমছড়ি, কলাতলী থেকে কক্সবাজার শহরসংলগ্ন সৈকতের কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত ভেসে আসা বর্জ্য প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সাগরে এমন সময়ে স্নান করা মোটেই নিরাপদ হবে না। সাগরপারের বাহারছড়া এলাকার যুবক রাশেদুল আলম রিপন জানান, স্থানীয় যুবকরা বেশ কয়েকটি ভেসে আসা আধামরা কাছিম সাগরে আবার ভাসিয়ে দিয়েছেন।

এদিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান জাহিদ খানের নেতৃত্বে গতকাল রবিবার সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির কর্মীরা প্রায় ২৫টি জীবিত সামুদ্রিক কাছিম সৈকত থেকে উদ্ধার করে গভীর সাগরে ছেড়ে দিয়েছেন। তাঁরা পাঁচটি মৃত কাছিম, বেশ কিছু মৃত মাছ ও জীবিত সাপও উদ্ধার করেন। সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির কর্মী মাহবুব আলম জানান, তাঁরা গতকাল দিনব্যাপী বর্জ্য সরানোর কাজ করেছেন। স্থানীয় ভাঙ্গারিরাও বর্জ্য কুড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা