kalerkantho

মঙ্গলবার  । ২০ শ্রাবণ ১৪২৭। ৪ আগস্ট  ২০২০। ১৩ জিলহজ ১৪৪১

প্রায় সব প্রত্যঙ্গেই আঘাত হানতে পারে করোনা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



প্রায় সব প্রত্যঙ্গেই আঘাত হানতে পারে করোনা

শুধু ফুসফুস নয়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে মানুষের মস্তিষ্ক, কিডনি, লিভার, হৃদ্যন্ত্র থেকে শুরু করে স্নায়ুব্যবস্থাও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার কারণে চামড়ায় ফুসকুড়িও (র‌্যাশ) উঠতে পারে। ক্ষতি হতে পারে পরিপাকতন্ত্রেরও। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, চিকিৎসকদের উচিত হবে ‘করোনাভাইরাস ডিজিস ২০১৯’ কে (কভিড-১৯) এখন থেকে বহুমাত্রিক স্বাস্থ্য-জটিলতা হিসেবে বিবেচনা করা।

মানবদেহে ব্যাপক পরিসরে করোনার এই আঘাতের বিষয়টি সামনে এনেছেন নিউ ইয়র্কের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি ইরভিং মেডিক্যাল সেন্টারের একদল গবেষক। করোনাভাইরাস মানব শরীরে কী কী প্রভাব ফেলে, সেটা জানার জন্য তাঁরা কয়েক হাজার রোগীর তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করেছেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশ্বের অন্যান্য স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনও বিশ্লেষণ করেছেন তাঁরা। তাঁদের গবেষণা প্রতিবেদনটি ছাপা হয়েছে ‘ন্যাচার মেডিসিন’ সাময়িকীতে। তাতে বলা হয়েছে, ভাইরাসটি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব প্রত্যঙ্গেই আঘাত হানতে সক্ষম। এর আঘাতে রক্ত জমাট বেঁধে যেতে পারে। স্বাভাবিক স্পন্দন হারাতে পারে হৃদ্যন্ত্র। কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি চামড়ায় ফুসকুড়িও দেখা যেতে পারে। এর বাইরে মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরানো, মাংসপেশিতে ব্যথা, পেট ব্যথা ও ঠাণ্ডাজনিত অন্যান্য সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

গবেষকদলের সদস্য ড. আকৃতি গুপ্তা  মনে করেন, ‘করোনাভাইরাসকে এখন বহুবিধ স্বাস্থ্যজটিলতা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনা অনেক রোগীর ক্ষেত্রেই ঘটে। কিন্তু তাঁদের মধ্যে অনেকেই কিডনি, হৃদ্যন্ত্র কিংবা মস্তিষ্কের জটিলতায় ভোগেন। চিকিৎসকদের উচিত হবে, ফুসফুসের পাশাপাশি এসব প্রত্যঙ্গেরও চিকিৎসা করা।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসিই-২ নামের রিসেপটরের প্রতি করোনাভাইরাসের আকর্ষণের কারণেই মূলত এসব স্বাস্থ্যজটিলতা দেখা দেয়। করোনাভাইরাস মূলত এই ‘এসিই-২’ নামক ঝিল্লি প্রোটিনের দ্বারা মানবদেহে প্রবেশ করে। কারণ, ভাইরাসটি সহজেই এই রিসেপটরের সঙ্গে আবদ্ধ হতে পারে। এরপর ভাইরাসটি প্রতিনিয়ত নিজের প্রতিলিপি তৈরি করতে থাকে।

গবেষকরা বলছেন, রক্তনালি, কিডনি, লিভারের নালি, অগ্ন্যাশয়, পরিপাকতন্ত্র এবং ফুসফুসের বাহ্যিক অংশ এই ‘এসিই-২’ রিসেপটর দ্বারা আবৃত থাকে। ফলে এই রিসেপটরের সঙ্গে আবদ্ধ হয়ে গেলে ভাইরাসটি বিস্তৃত পরিসরে আঘাতের সক্ষমতা অর্জন করে। সূত্র : সিএনএন।

 

মন্তব্য