kalerkantho

মঙ্গলবার  । ২০ শ্রাবণ ১৪২৭। ৪ আগস্ট  ২০২০। ১৩ জিলহজ ১৪৪১

দুই বেলা খাবারও জোটে না কাদিরের অসহায় পরিবারে

নিয়ামুল কবীর সজল ও মোস্তফা খান (ফুলপুর) ময়মনসিংহ   

১২ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুই বেলা খাবারও জোটে না কাদিরের অসহায় পরিবারে

কখনো দিনমজুর, কখনো ইটভাটার শ্রমিক, আবার কখনো গ্রামে অথবা আশপাশে ছুটা কাজ করে যেটুকু আয় করতেন তা দিয়েই পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতেন হতদরিদ্র আব্দুল কাদির (৫৫)। নিজেদের মাথা গোঁজার সামান্য ঠাঁইও নেই। থাকেন অন্যের আশ্রয়ে। ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বালিযা ইউনিয়নের কাইচাপুর গ্রামের দিনমজুর আব্দুল কাদির আক্রান্ত হয়েছিলেন করোনাভাইরাসে। প্রায় বিনা চিকিৎসায় মারা যান গত ১৬ এপ্রিল। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় কাদিরের মৃত্যুর পর অথই সাগরে পড়ে যায় পরিবারটি।

কাদিরের স্ত্রী নাসিমা খাতুন (২৮) দুই ছেলে হায়াতুর (১০) ও আলাল (৮) এবং বৃদ্ধা শাশুড়িকে নিয়ে বর্তমানে দিন কাটাচ্ছেন অর্ধাহারে-অনাহারে। তাঁদের সংসারে চুলায় আগুন জ্বলে না। কোনো দিন পাড়া-প্রতিবেশী বা কারো দয়ায় একবেলা সামান্য খাবারের সংস্থান হলেও আরেক বেলা দুই ছেলে আর শাশুড়িকে নিয়ে উপোস থাকতে হয় নাসিমা খাতুনকে।

কখনো কখনো ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে বৃদ্ধা শাশুড়ি বাড়ির পাশের বাজারে গিয়ে মানুষের কাছে হাত পাতেন। যদি কিছু চাল-ডাল মেলে, বাড়ি ফিরে তাই রান্না করে সবাই মিলে খান। করোনাভাইরাসে আব্দুল কাদির মারা যাওয়ার পর পরিবারটির ওপর নেমে আসে মহাদুর্যোগ। চরম দুর্ভোগে পড়ে যায় পরিবারটি।

সম্প্র্রতি আব্দুল কাদিরের কাইচাপুর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় পরিবারটির চরম দুর্দশার চিত্র। একদিকে খাবারের কষ্ট, অন্যদিকে নেই নিজেদের সামান্য মাথা গোঁজার ঠাঁই। আব্দুল কাদিরের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি দিশাহারা। তাঁর মৃত্যুর পর দু-একবার সরকারি সাহায্য মিললেও, পাড়া-প্রতিবেশীরা সামান্য সহায়তা করলেও এখন আর কেউ খোঁজ নেয় না। পুরো পরিবারটিই অর্ধাহারে-অনাহারে কোনো রকম টিকে আছে নাসিমা খাতুনের বৃদ্ধা শাশুড়ির বাজার থেকে চেয়ে আনা টুকটাক খাবার খেয়ে।

জানা যায়, আব্দুল কাদির আগেও এক বিয়ে করেছিলেন। সেই সংসারে রয়েছে দুই মেয়ে ও এক ছেলে। তবে তারা অন্যত্র বাস করে। বর্তমানে পরিবার নিয়ে কোনো মতে কাটছিল আব্দুল কাদিরের। কিন্তু করোনার ছোবল সব কিছু শেষ করে দেয়। যে প্রতিবেশী দয়া করে তাঁদের থাকার একটি ঘর দিয়েছিলেন তিনি বর্তমানে ওই জায়গা বিক্রি করে দিতে চাইছেন। একদিকে ঘরে নেই খাবার, অন্যদিকে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও ছেড়ে দেওয়ার চাপে দিশাহারা নাসিমা খাতুন।

নাসিমা খাতুন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর ইউএনও অফিস থেকে কিছু চাল-ডাল দিয়েছিল—তা দিয়ে কয়েক দিন চলেছে। এরপর আর কেউ খবর নেয় না। বৃদ্ধা শাশুড়িও এখন অসুস্থ। ফলে বাজারে গিয়ে মানুষের কাছে হাত পেতে কিছু চেয়েচিন্তেও আনতে পারেন না। ছোট ছোট দুই ছেলে নিয়ে না খেয়ে মরছি। কোনো সাহায্য যদি না পাই না খেয়ে মারা যাব।’

বালিযা ইউনিয়নের মেম্বার আব্দুল রশিদ শেখ জানান, আব্দুল কাদিরের বৃদ্ধা মাকে বয়স্ক ভাতা আর স্ত্রীকে বিধবা ভাতা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

 

মন্তব্য