kalerkantho

বুধবার । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭। ১২ আগস্ট ২০২০ । ২১ জিলহজ ১৪৪১

বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের

ইসি সম্পর্কে ফখরুলের বক্তব্য ষড়যন্ত্রমূলক

সেনাবাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্নের অপচেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইসি সম্পর্কে ফখরুলের বক্তব্য ষড়যন্ত্রমূলক

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে দলের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, মির্জা ফখরুলের এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্য দেশবাসীকে গভীরভাবে হতাশ করেছে।

এক অনলাইন আলোচনায় বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, ‘ইসি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন আইনের সংশোধনের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার উদ্দেশ্য হলো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে বারবার ক্ষমতায় আনা। ওয়ান-ইলেভেন থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’ তাঁর এ বক্তব্যকে বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সার্বভৌমত্ব ও সাংবিধানিক নিয়মনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল নেতা এ ধরনের মন্তব্য করতে পারেন না।’

তিনি বলেন, ‘এই কথাগুলো বলে তিনি কী বোঝাতে চাইছেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়। সেনাবাহিনীকে অকার্যকর করেছে—এই কথার অর্থ কী? কিভাবে অকার্যকর করা হলো? সেনাবাহিনীর মতো রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকা একটি জাতীয় বাহিনীকে নিয়ে এই ধরনের আপত্তিকর ও বিতর্কিত মন্তব্য মোটেও সমীচীন নয়। এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য থেকে সবার বিরত থাকা উচিত। এ ধরনের বক্তব্য প্রদান করে আমাদের গর্বিত সেনাবাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২-এ রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনসংক্রান্ত যে বিধান রয়েছে, সেগুলো আরপিও থেকে বের করে এবং এর মৌলিক বিধান অক্ষুণ্ন রেখে বাংলায় আলাদা একটি আইন করতে যাচ্ছে ইসি। ওই প্রস্তাবিত আইনের যে খসড়া ইসি রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের জন্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, আইনের অর্থাৎ আরপিওর ওই অংশগুলো মূলত বাংলায় রূপান্তরিত করার জন্যই এই আইন করা হচ্ছে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, “মির্জা ফখরুলের কথায় মনে হচ্ছে, এ দেশে তত দিন পর্যন্ত কোনো নির্বাচনই বিএনপির দৃষ্টিতে নিরপেক্ষ বিবেচিত হবে না, যত দিন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন বিএনপিকে নির্বাচনে জেতার কোনো গ্যারান্টি না দেবে। মনে হচ্ছে, নির্বাচন কমিশনের কাছে বিএনপি সে ধরনের একটি ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ চাচ্ছে।” 

‘দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে খালেদা জিয়াকে জেল খাটতে হয়েছে, তারেক রহমানকে বিদেশে নির্বাসিত জীবন যাপন করতে হচ্ছে’—বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপিপ্রধান ফৌজদারি আইনের অধীন দেশের প্রচলিত আদালতের বিচারে প্রথমে অভিযুক্ত ও পরে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে ছিলেন। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের আইনি ব্যবস্থায় কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। বরং আওয়ামী লীগ সরকার সম্পূর্ণ মানবিক কারণে সরকারের সর্বোচ্চ আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাঁকে মুক্তি দিয়েছে।’

তিনি বলেন, “তারেক রহমানকে আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাসনে পাঠায়নি। এ দেশে দুর্নীতির প্রতিভূ খ্যাত ফ্রাঙ্কেনস্টাইন তারেক জিয়া ওয়ান-ইলেভেন সরকারের কাছে ‘আর কখনো রাজনীতি করব না’—এই মর্মে মুচলেকা দিয়ে ও তাদের কাছে মাফ চেয়ে জেল থেকে মুক্তি পেয়ে দেশ ত্যাগ করেছিল।” তাঁর এই তথাকথিত নির্বাসনে আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো ভূমিকা নেই দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তবে তারেক একজন দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি, যাঁর জেলে থাকার কথা। এ জন্য তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে দণ্ড কার্যকর করার জন্য সরকার আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা