kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

উদ্ভাবন

পাটশাকের পরিবারে দুই নতুন অতিথি

বাকৃবি প্রতিনিধি   

১০ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাটশাকের পরিবারে দুই নতুন অতিথি

ভাতের সঙ্গে ‘ডাল-শাক’ না হলে অনেকের চলেই না। শাকপ্রেমীদের জন্য সুখবর এসেই গেল। এবার পাটশাকের পরিবারে যুক্ত হলো আরো দুটি নতুন জাত। বিজেআরআই দেশি পাটশাক-২ (ম্যাড়া লাল) ও বিজেআরআই দেশি পাটশাক-৩ (ম্যাড়া সবুজ) নামের এই জাত দুটি বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) এরই মধ্যে অবমুক্ত করেছে। জাতীয় বীজ বোর্ডও জাত দুটির অনুমোদন দিয়েছে। দীর্ঘ পাঁচ বছরের গবেষণায় জাত দুটি উদ্ভাবন করেন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের পাটবিষয়ক মৌলিক ও ফলিত গবেষণা প্রকল্পের বিজ্ঞানী মো. জ্যাবলুল তারেক। বুনো পাট থেকে শাকের এ দুটি জাত উদ্ভাবন করেছেন তিনি।

জানা যায়, স্বাদে তিতা নয় বলে এটি বেশি সুস্বাদু ও সুুমিষ্ট। প্রচুর পুষ্টিগুণসম্পন্ন হওয়ায় শাকের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি মানুষের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে সহায়তা করবে এই দুটি জাত। শাকটি মালভেসি (Malvaceae) পরিবাবের অন্তর্ভুক্ত, যার বৈজ্ঞানিক নাম Corchorus capsularis। পুষ্টি বিবেচনায় ম্যাড়া পাটশাকে অন্যান্য পাটশাকের চেয়ে গড়ে প্রায় দেড় গুণ বেশি পুষ্টিগুণ রয়েছে। অন্যান্য পাটশাকে যেখানে গড়ে ক্যালসিয়াম ১.৭৭ শতাংশ, পটাসিয়াম ১.৫৭ শতাংশ, আয়রন ১১৬৮.৫ মিলিগ্রাম/কেজি, প্রোটিন ২২.৭৫ শতাংশ, ভিটামিন ‘এ’ ১০৫.৭০ মাইক্রোগ্রাম/গ্রাম ও ভিটামিন ‘সি’ ৬৫.৭৯ মিলিগ্রাম/১০০গ্রাম, সেখানে ম্যাড়া দুটি জাত পাটশাকে গড়ে প্রায় দেড় গুণ ক্যালসিয়াম ২.১৫ শতাংশ, পটাসিয়াম ১.৬৪ শতাংশ, আয়রন ৭৯০.৫ মিলিগ্রাম/কেজি, প্রোটিন ২০.৫০ শতাংশ, ভিটামিন ‘এ’ ১২৬.৪৫ মাইক্রোগ্রাম/গ্রাম ও ভিটামিন ‘সি’ ৭৫.১৭ মিলিগ্রাম/১০০ গ্রাম রয়েছে।

এ ব্যাপারে গবেষক মো. জ্যাবলুল তারেক বলেন, “বুনো পাট থেকে উন্নত মানের আঁশ পাওয়া যায় কি না, সেটিই ছিল আমার গবেষণার লক্ষ্য। দেখা গেল, বুনো পাটে বীজ বপনের ৪০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যেই শাখা-প্রশাখায় ঝোপালো হয়ে ফুল-ফল আসতে শুরু করে। ফলে এ জাত থেকে কোনো লাভজনক আঁশ পাওয়া সম্ভব হয় না। পরে শাক হিসেবে ব্যবহারের লক্ষ্যে নতুন করে গবেষণা চালাতে থাকি। পাঁচ বছর গবেষণার পর সম্প্রতি জাতীয় বীজ বোর্ড ‘ম্যাড়া লাল’ ও ‘ম্যাড়া সবুজ’ নামের দুটি শাকের জাতের অনুমোদন দেয়। এ কাজে বিশেষভাবে সহযোগিতা করেন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, ড. মো. আইয়ুব খান, ড. মো. সামিউল হক, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আবুল ফজল মোল্লা ও ড. মো. শহিদুল ইসলাম। গবেষণার উপাত্ত বিজেআরআইয়ের প্রজনন বিভাগে উপস্থাপনের মাধ্যমে জাত দুটি পাটশাক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।”

তিনি বলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী দিনের আলো নিরপেক্ষ স্বল্প জীবনকাল উদ্ভিদ বলে এটি সব ধরনের জমিতে প্রায় সারা বছর চাষ করা যায়। এমনকি এটি অল্পমাত্রার লবণাক্ত এলাকায়ও আবাদ করা সম্ভব। পোকা-মাকড় ও রোগবালাই কম হয় বলে ভালোভাবে পরিচর্যা করলে ঝোপালো এই শাকগাছ থেকে কয়েকবার পাতা সংগ্রহ করা সম্ভব। বীজ বপনের ২৫ থেকে ৩৫ দিনের ভেতরেই শাকপাতা সংগ্রহ করা যায় এবং ফলন হেক্টরপ্রতি তিন-চার টন পাওয়া সম্ভব। বুনো জাত থেকে বাছাই করা বলে বর্তমানে এ শাকে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ক্যান্সার প্রতিরোধী উপাদান এবং পরিমাণ নির্ণয়ের উদ্দেশ্যে গবেষণা কার্যক্রম চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা