kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

চড়েছে চাল ডাল ডিমের দাম

কমছে মসলাজাতীয় পণ্যের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চড়েছে চাল ডাল ডিমের দাম

নিত্যপণ্যের বাজার কিছুটা সহনশীল হয়ে এলেও এখনো বেশ কিছু পণ্যের দাম চড়া। এর মধ্যে চাল, ডাল ও ডিম অন্যতম। এসব পণ্যের দাম চলতি সপ্তাহে না বাড়লেও আগের বাড়তি দামই রয়েছে। তবে পেঁয়াজ, রসুন, আদাসহ সব ধরনের মসলাজাতীয় পণ্যের দাম কমেছে। এ ছাড়া ব্রয়লার মুরগি, ভোজ্য তেল, ছোলাসহ দাম কমেছে বেশ কিছু পণ্যের।

বিক্রেতারা বলেন, নিত্যপণ্যের বেশির ভাগ আইটেমের বাজার নির্ভর করে আমদানির ওপর। যখন যে পণ্যের আমদানি বাড়ে, তখন সেসব পণ্যে দাম কমে আসে। এখন ভারত থেকে পেঁয়াজ-রসুন ব্যাপক আকারে আমদানি হচ্ছে। ফলে এসবের দাম কমেছে। রাজধানীর গোপীবাগ, মানিকনগর, মুগদা, মালিবাগসহ বেশ কিছু বাজার ঘুরে এবং খোঁজ নিয়ে এমন তথ্য পাওয়া যায়।

দেখা যায়, চালের দাম বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই বাড়তি রয়েছে। খুচরা বাজারগুলোতে সরু চাল মিনিকেট ও নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৬২ টাকা কেজি। গত সপ্তাহেও এই দামই ছিল। মাঝারি মানের পাইজাম, আটাশ ও লতা বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। আর মোটা স্বর্ণা ও চায়না ইরি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি।

মানিকনগর বাজারের চাল বিক্রেতা মরিয়ম স্টোরের মালিক আল আমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চালের বাজার মাসখানেক আগে কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু মিল মালিকদের নানা অজুহাতে দাম আবার বাড়তে শুরু করে। তিন সপ্তাহ ধরে চালের দাম বাড়তি। তবে আমরাও চাই দাম কমুক। বাড়তি থাকলে আমাদের বিক্রিও কমে আসে।’

চাল ছাড়া দাম কমছে না ডালের। বাজারে বড় দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। এই দাম তিন মাস ধরে চলছে। অথচ গত বছর এই সময়ে এ ডালের দাম ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি। কমেনি মাঝারি ও ছোট দানারটাও। মাঝারি ৯০ থেকে ১০০ টাকা আর ছোট দানা ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি।

তবে লিটারে এক টাকা কমেছে ভোজ্য তেল সয়াবিনের দাম। এখন খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ৮৩ থেকে ৮৬ টাকা লিটার। বোতলজাত ১০০ থেকে ১০৫ টাকা লিটার। ৬৫ থেকে ৭৫ টাকায় স্থির রয়েছে সব ধরনের পাম তেলের দাম। কেজিতে পাঁচ টাকা কমে ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। গত সপ্তাহের ৫৭ থেকে ৬৫ টাকাতেই বিক্রি হচ্ছে চিনি। স্থির আটা, ময়দার দামও।

গত দুই সপ্তাহ চড়া থাকার পর কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে এখন ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা

কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে আগের বাড়তি দামই রয়েছে ডিমের। ফার্মের মুরগির ডিম এখনো ৩৩ থেকে ৩৫ টাকা হালি ও ১০০ থেকে ১০৫ টাকা ডজন। গরুর মাংস ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি।

চলতি সপ্তাহে কেজিতে আরো ৫ থেকে ১০ টাকা কমেছে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম। এ ছাড়া  শুকনা মরিচ, হলুুদসহ প্রায় সব ধরনের মসলাজাতীয় পণ্যের দামই কমেছে। চলতি সপ্তাহে কেজিতে পাঁচ টাকা কমে দেশি ও আমদানি করা সব ধরনের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। আমদানির আদা ১০ টাকা কমে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, দেশি ১০০ থেকে ১৩০ টাকায়, রসুন ১০ টাকা কমে দেশি ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং আমদানি করা ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

মুগদা বাজারের বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের ব্যবসায়ী মামুন খান কালের কণ্ঠকে বলেন, পাইকারি বাজারে কিছু পণ্যের সংকট থাকায় সেগুলোর দাম বেশি রয়েছে। যেসব পণ্যের সরবরাহ বেশি ও চাহিদা কম সেগুলোর দাম কমে যাচ্ছে। তবে করোনার কারণে এখনো সব ক্ষেত্রে আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক হয়নি বলেই মনে হচ্ছে।’

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুসারে গত সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে ১৩টি পণ্যের দামে পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে তিনটির দাম বেড়েছে, বাকি ১০টির কমেছে। তবে এর মধ্যে মসলাজাতীয় পণ্যই বেশি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা