kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

২৩ জেলায় বন্যার আভাস

আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২৩ জেলায় বন্যার আভাস

দেশজুড়ে মৌসুমি বায়ু এখনো সক্রিয় না হলেও উত্তরাঞ্চলে মোটামুটি গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে সক্রিয় হতে শুরু করেছে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গতকাল বেশ কয়েকটি জেলায় হালকা থেকে ভারি বর্ষণও হয়েছে। ঢাকায় ২১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ শুক্রবার দেশের রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট—এই চারটি বিভাগের  বেশির ভাগ জেলায় হালকা থেকে ভারি বর্ষণ হবে। অন্য বিভাগগুলোতে কিছু জায়গায় বৃষ্টির কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মৌসুমি বায়ু দেশজুড়ে এখনো সক্রিয় হয়নি। উত্তরাঞ্চলে সক্রিয় হয়েছে। সে কারণে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেটে ভারি বর্ষণ হবে। এতে নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে।

অন্যদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি শুরু হতে পারে। আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে উত্তরের তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্রে পানি বাড়তে শুরু করবে। এ ছাড়া আগামী সপ্তাহে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনায় পাহাড়ি ঢলের আভাসও দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। তারপর পানি বাড়বে উত্তর-মধ্যাঞ্চলের জেলাগুলোয়।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া জানান, ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিসের গাণিতিক মডেল অনুযায়ী আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-মধ্যাঞ্চল এবং তত্সংলগ্ন ভারতের হিমালয়, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয় প্রদেশে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস আছে। ফলে এই সময়ে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বাড়বে। তাঁদের পর্যবেক্ষণে থাকা ১০১টি স্টেশনের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় পানি কমেছে ৭০টি স্টেশনের, বেড়েছে ২৭টি স্টেশনের। আর চারটি স্টেশনে অপরিবর্তিত রয়েছে। হাতিয়ায় গতকাল সর্বোচ্চ ৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। অবশ্য গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

নতুন করে ২৩ জেলায় বন্যা

নতুন করে ২৩ জেলায় বন্যা দেখা দেবে বলে আভাস দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। তাই সেসব জেলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ কঠিন সময় মোকাবেলা করছে। আমরা আম্ফান মোকাবেলা করলাম, এরপরই ২৬ জুন থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি বন্যা মোকাবেলা করছি। ৭ জুলাই থেকে ১২টি জেলায় বন্যা অনেকটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে চলে এসেছে।’

তিনি জানান, ১০-১১ জুলাই থেকে আবারও পানি বাড়বে। ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা নদীর পানি বাড়ায় ২০ থেকে ২৪টি জেলা প্লাবিত হবে। এবার বন্যার স্থায়িত্ব দীর্ঘায়িত হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

তিনি আরো বলেন, ‘বন্যার স্থায়িত্ব দীর্ঘায়িত হবে। এ জন্য আমরা প্রতিটি জেলায় ২০০ টন চাল, পাঁচ লাখ টাকা, দুই লাখ টাকা শিশুখাদ্যের জন্য, দুই লাখ টাকা গবাদি পশুর জন্য এবং দুই হাজার শুকনা খাবারের প্যাকেট গতকালই পাঠিয়ে দিয়েছি। পানি বাড়লেও মাঠ প্রশাসন ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যেন জনগণের পাশে দাঁড়াতে পারে।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, গইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, জামালপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, চাঁদপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর ও নওগাঁ জেলায় বন্যা দেখা দেবে। এই ২৩ জেলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা