kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

নেত্রকোনায় কিশোরী ধর্ষণের পর হত্যা করেন দুলাভাই

পদ্মার চরে যাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

নেত্রকোনা ও শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি    

১০ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নেত্রকোনায় কিশোরী ধর্ষণের পর হত্যা করেন দুলাভাই

ভারতের মেঘালয়ের পাদদেশে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’-এর কাছ থেকে হাফসানা বেগমের (১৬) লাশ উদ্ধারের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, কিশোরীটি দুর্গম পাহাড়ের চূড়ায় কচুর লতা তুলতে গেলে তার দুলাভাই তাকে ধর্ষণ করেন। সেই ঘটনা প্রকাশ করে দেওয়ার কথা বললে তাকে হত্যা করেন দুলাভাই। এদিকে মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে এক যাত্রীকে শিমুলিয়া ঘাটে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে পদ্মার চরে নিয়ে ধর্ষণ করেছে তিন বখাটে।

নেত্রকোনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী গতকাল বিকেলে সম্মেলনকক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, মাদরাসাছাত্রী হাফসানার দুলাভাই কলিকাপুর গ্রামের আবু হানিফের ছেলে আবুল কাশেম পাহাড়ে শ্যালিকাকে একা পেয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন। হাফসানা ঘটনাটি সবাইকে বলে দেওয়ার কথা বলায় তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন কাশেম। পরে হাফসানার জন্য কাশেমের অতি কান্নাকাটি এবং ঘটনার দুই দিন পর তাঁর ওপর মুখোশধারীদের হামলার কথা বললে তিনি তদন্ত ভিন্ন দিকে নেওয়ার অপচেষ্টা করছেন বলে পুলিশের সন্দেহ হয়। এরপর পুলিশ কাশেমকে থানায় নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দেন। গতকাল তিনি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নের কলিকাপুর গ্রামের হাফসানা গত ১ জুলাই সকাল ১১টার দিকে মায়ের কথায় রান্নার জন্য কামারখালী টিলার পাশে কচুর লতা তুলতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি। পরে পরিবার তাকে খুঁজেও পায়নি। ২ জুলাই সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন বিএসএফ ক্যাম্পের কাছে ঝরনা থেকে পানি আনতে গিয়ে একটি গর্তে লাশ পড়ে থাকতে দেখে দুর্গাপুর থানায় জানায়। পুলিশ রাত ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে থেকে মুখে কাপড় গোঁজানো ও গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে থানায় নেয়। এ ব্যাপারে কিশোরীর বাবা দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।

এদিকে মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে এক নারী যাত্রীকে দ্রুত শিমুলিয়া ঘাটে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ফেরি থেকে নামিয়ে স্পিডবোটে তুলে পদ্মার চরে নিয়ে ধর্ষণ করেছে তিন বখাটে। এ ঘটনায় কাঁঠালবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে ওই তিন বখাটে ও স্পিডবোট চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিবচর থানায় মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীর মেডিক্যাল রিপোর্ট শেষে আদালতে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার তিন ধর্ষককে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, যশোরের বাসিন্দা ওই নারীর সাত দিন আগে বিয়ে হয় চাঁদপুরের এক যুবকের সঙ্গে। যুবকটি ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা সেতুর প্রজেক্টে রান্নার কাজ করেন। মেয়েটি গত মঙ্গলবার শিবচরের কাঁঠালবাড়ী এলাকায় তাঁর বোনের বাড়ি বেড়াতে যান। ওই দিন রাতে মেয়েটি আবার তাঁর স্বামীর কাছে ফিরছিলেন। রাত ৯টার দিকে মেয়েটি কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাটে পৌঁছেন। তাঁর স্বামী শিমুলিয়া ঘাটে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কাঁঠালবাড়ী ঘাটে মেয়েটি ফেরিতে ওঠার পর একটি স্পিডবোট নিয়ে চালকসহ তিন যুবক মেয়েটিকে দ্রুত শিমুলিয়া ঘাটে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ফুসলিয়ে স্পিডবোটে তোলে। পরে স্পিডবোটটি কাঁঠালবাড়ীর বুড়ার খেয়াঘাটে পৌঁছলে থেমে যায়। এ সময় চালক তেল আনার কথা বলে নেমে গেলে তিন যুবক মাসুদ মোল্লা, মাহবুব মৃধা, নুর মোহাম্মদ হাওলাদার মেয়েটিকে চরে নামিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে স্পিডবোটের চালক তেল নিয়ে ফিরে এলে ওই যুবকরা পালিয়ে যায়। পরে চালক ফারুক মেয়েটিকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। গভীর রাতে মেয়েটির স্বামী বিষয়টি জানার পর কাঁঠালবাড়ীতে আসেন। 

বুধবার ধর্ষিতার আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী এ ঘটনায় আপসরফার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে শিবচর থানার উপপরিদর্শক বিষ্ণুপদ হীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। পুলিশ স্পিডবোটের চালকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিন ধর্ষক মাসুদ মোল্লা (২৫), মাহবুব মৃধা (৩০) ও নুর মোহাম্মদ হাওলাদারকে (২৪) গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার মাসুদ কাঁঠালবাড়ী এলাকার ফকিরকান্দি গ্রামের তনু মোল্লার ছেলে। মাহবুব মৃধা একই এলাকার রশিদ মৃধার ছেলে আর নুর মোহাম্মদ হাওলাদার একই এলাকার সামাদ হাওলাদারের ছেলে।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘আমার স্বামী প্রজেক্টে রান্নার কাজ করেন। তাঁর কাছে যাওয়ার পথে ফেরিতে দেরি হওয়ায় ওরা আমাকে স্পিডবোটে তাড়াতাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে চরে নিয়ে নির্যাতন চালায়।’

শিবচর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, ধর্ষণের ঘটনায় ফারুক, মাসুদ মোল্লা, মাহবুব মৃধা ও নুর মোহাম্মদ হাওলাদার এই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধর্ষিতা নারী আসামিদের শনাক্ত করেছেন। আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। ভিকটিম মেডিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা