kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

মহানুভবতা

পরিকল্পনামন্ত্রী নিলেন নতুন ‘পরিকল্পনা’

পৈতৃক ভিটাটাই দিয়ে দিলেন অসহায়দের

শামস শামীম, সুনামগঞ্জ    

১০ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পরিকল্পনামন্ত্রী নিলেন নতুন ‘পরিকল্পনা’

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সুনামগঞ্জের সেই পৈতৃক বাড়ি। ছবি : কালের কণ্ঠ

পেছনে ফেলে আসা ধূসর স্মৃতি মনের ফ্রেমে বেঁধে রাখাটাই মানুষের সহজাত নিয়ম। এবার সেই ছক থেকে বেরিয়ে এলেন একজন। তিনি মানুষের কাছেও প্রিয়জন। পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবেও আছে নামডাক। হাওরের দেশ সুনামগঞ্জের সজ্জন সেই মানুষটির নাম এম এ মান্নান। বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি জীবনে পেয়েছেন অনেক। সুনাম-যশ-খ্যাতি, কোনো ধ্রুপদিরই যেন কমতি নেই। পরিকল্পনামন্ত্রী, হয়তো বা তাই নিজের পৈতৃক ভিটাটা নিয়েও এমন নতুন ‘পরিকল্পনা’ নিলেন। পৈতৃক ভিটাটা গরিব অসহায় মানুষের কল্যাণে দান করে এবার অনেক মানুষের মনে শীতল পরশ বোলালেন তিনি।

সুনামগঞ্জের ডুংরিয়ার কোটি টাকা দামের পৈতৃক ভিটা পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান গত মঙ্গলবার সরকারকে দলিল করে দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসকের কাছে মন্ত্রীর পক্ষে দলিলটি হস্তান্তর করেন তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (রাজনৈতিক) হাসনাত হোসাইন। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে হাওরাঞ্চলের অসহায়, দুস্থ, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, পিছিয়ে পড়া দরিদ্র নারীদের প্রশিক্ষণ ও কর্মমুখী করার স্বপ্ন নিয়ে তিনি এই জমি দান করেছেন। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এখানে মন্ত্রীর মা আজিজুন্নেসার নামে ‘আজিজুন্নেসা টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠা করবে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ প্রকল্পে এটি অনুমোদনও লাভ করেছে।

জানা যায়, পরিকল্পনামন্ত্রীর নিজ গ্রাম ডুংরিয়ায় ৪১ শতক জমি রয়েছে। সেই জমি সরকারকে দান করতে পরিবারের সব সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। গত বছর পারিবারিক সম্মতি পাওয়ার পর তিনি বাড়িটি দান করার বিষয়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরে আবেদন করেন। দান করা জমিতে মন্ত্রীর মা প্রয়াত আজিজুন্নেসার নামে হাওরাঞ্চলের নারীদের জন্য একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র কিংবা ইনস্টিটিউট করার স্বপ্নের কথাও জানান তিনি। তাঁর স্বপ্নের এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রে যাতে হাওরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া অসহায় নারীরা বিভিন্ন মেয়াদে অবস্থান করে কম্পিউটার, বুটিক, সেলাইসহ বিভিন্ন ধরনের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ নিতে পারে সে কথাও আবেদনে জানিয়েছিলেন তিনি। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রতিবেদনও দিয়েছিল। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও পরিদর্শনে আসেন একাধিকবার। তাঁরা এসে এখানে নারীদের কল্যাণে কী কী করা যায় তার একটি সুপারিশও তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছেন। তবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এখানে একটি টেক্সটাইল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের অনুমোদনও দিয়েছে।

মন্ত্রীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সব প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর গত মঙ্গলবার পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এলাকায় এসে সচিব, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে রেজিস্ট্রি করে দেন। গতকাল সকালে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ সরকারের পক্ষে দলিলটি গ্রহণ করেন।

ছোটবেলায় বাবা আরফান উল্লাহকে হারান পরিকল্পনামন্ত্রী। মা আজিজুন্নেসা মারা মারা যান ২০১০ সালের ১২ মার্চ। সুনামগঞ্জে এলে তিনি শান্তিগঞ্জের নতুন একটি টিনশেডের বাড়িতে থাকেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয় একজন সজ্জন মানুষ। তিনি তাঁর পৈতৃক ভিটা মায়ের নামে প্রশিক্ষণকেন্দ্র করার জন্য দান করে দিয়ে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে আজ (বৃহস্পতিবার) দলিলটি হস্তান্তর করেছি। আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এটি পাঠিয়ে দেব।’

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘আমি পরিবারের সবার সঙ্গে কথা বলে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়কে জমিটি দান করতে পেরে সবাই খুশি। আমার মায়ের নামের এই প্রতিষ্ঠানে যাতে হাওরাঞ্চলের অসহায়, দরিদ্র, বিধবা, দুস্থ, স্বামী পরিত্যক্তা নারীরা আবাসিক প্রশিক্ষণ নিয়ে জীবনযুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াতে পারে সেই স্বপ্ন দেখছি আমি। নারীরা এখান থেকে কম্পিউটার, বুটিক, সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হবে। নারীরা এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে যদি স্বাবলম্বী হতে পারে, সেখানেই আমার সার্থকতা।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা