kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

বিপিওর প্রতিবেদন

করোনার উপসর্গ নিয়ে ২৮ দিনেই ৭৭৬ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনার উপসর্গ নিয়ে ২৮ দিনেই ৭৭৬ জনের মৃত্যু

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে গত ৪ জুলাই পর্যন্ত করোনার উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ৬৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ দিনে (৭ জুন থেকে ৪ জুলাই) ৭৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে, ৫১৫ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ঢাকা বিভাগ, ৩৫৮ জন। এরপর পর্যায়ক্রমে রয়েছে খুলনা বিভাগ (২০৪ জন), বরিশাল বিভাগ (১৯৩ জন), রাজশাহী বিভাগ (১৭১ জন), সিলেট বিভাগ (৯১ জন), রংপুর বিভাগ (৭৪ জন) ও ময়মনসিংহ বিভাগ (৫৭ জন)।

বাংলাদেশ পিস অবজারভেটরির (বিপিও) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিপিও।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিন ব্যক্তির করোনা শনাক্ত হওয়ার খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের (সিজিএস) গবেষণা প্রকল্প বিপিও দেশে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে প্রতি সপ্তাহে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে আসছে।

বিপিওর প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার কারণে অপমান ও সামাজিকভাবে হেয় করার ২২৩টি ঘটনা ঘটেছে। আর করোনায় আক্রান্ত না হয়েও চিকিৎসা পায়নি ৬৬ জন ব্যক্তি। করোনায় মৃত্যুর কারণে মৃতদেহ দাফন বা শেষকৃত্য করতে অস্বীকারের ঘটনা ঘটেছে ৫২টি। করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় ১২ জনকে, পরিবার ছাড়া হয় ৪৪ জন এবং মেডিক্যাল পেশাজীবী সংক্রান্ত হয়রানির ১৮টি ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া হয়রানি ও অপমানের শিকার হয় ১৩ জন এবং আত্মহত্যা করে দুজন।

করোনাভাইরাসের কারণে ৪ জুলাই পর্যন্ত ১৩৫টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৫৫৩ জন আহত ও ১৮ জন নিহত হয়েছে। সর্বশেষ জুন মাসে করোনাজনিত কারণে সংঘটিত ১৬টি সংঘর্ষের ঘটনায় ৯২ জন আহত ও পাঁচজন নিহত হয়।

করোনাকালে ত্রাণ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির জন্য ৪ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ১০৪ জন জনপ্রতিনিধিকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ত্রাণ আত্মসাৎ ও মানহীন গ্লাভস, মাস্ক, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই), অক্সিজেন সিলিন্ডার বিক্রি, খাদ্যে ভেজাল, দুর্নীতি এবং করোনাভাইরাসসংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘনের মতো অপরাধ ও অনিয়মে জড়িত অভিযোগে ৫৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে ১১ হাজার ২৩৮ জনকে। করোনা সম্পর্কিত গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর ৮৪টি ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৮৭ জনকে। সবচেয়ে বেশি ৩৫ জন গ্রেপ্তার হয়েছে ঢাকা বিভাগে। আর সবচেয়ে কম ছয়জন গ্রেপ্তার হয়েছে রাজশাহী বিভাগে। করোনার কারণে মস্তিষ্ক বিকৃতি সংক্রান্ত ১৩২টি ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মহামারির প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরে আসার প্রবণতা আগের চেয়ে বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ধরনের এক হাজার ৮২১টি ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ এই প্রবণতা ৭ শতাংশ বেড়েছে।

করোনার সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় ১৮৮টি বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। সর্বোচ্চ ৩৭ শতাংশ ঘটেছে বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে। এ ছাড়া ত্রাণসামগ্রী ও কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সহায়তার দাবিতে ২৫ শতাংশ, লকডাউনের নিয়মের বিরোধিতা করে ও বাড়িভাড়া-টিউশন ফি কমানোর দাবিতে প্রতিবাদ আন্দোলন বেড়ে ২১ শতাংশ হয়েছে। পর্যাপ্ত ও মানসম্পন্ন চিকিৎসাসামগ্রীর দাবিতে ৬ শতাংশ বিক্ষোভ হয়েছে। অনিয়মিতভাবে ত্রাণ বিতরণের প্রতিবাদে ৫ শতাংশ বিক্ষোভ হয়েছে। ৪ শতাংশ বিক্ষোভ হয়েছে গণপরিবহনের ভাড়া কমানোর দাবিতে। বাজেটকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ হয়েছে মাত্র ২ শতাংশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা