kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

ইতালি বিমানবন্দর থেকেই ১৬৭ বাংলাদেশিকে ফেরত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইতালি বিমানবন্দর থেকেই ১৬৭ বাংলাদেশিকে ফেরত

ইতালির রোমের ফিউমিসিনো এবং মিলানের মালপেনসা বিমানবন্দরে অবতরণ করা ১৮২ বাংলাদেশির মধ্যে ১৬৭ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। গতকাল বুধবার দুটি ভিন্ন ফ্লাইটে এই দুই বিমানবন্দরে অবতরণ করলে তাঁদের নামতে না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। জানা যায়, রোমে আসা ফ্লাইটে এক বাংলাদেশি নারী সন্তানসম্ভাবনা থাকায় তাঁকে ফেরত না পাঠিয়ে অ্যাম্বুল্যান্স ডেকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়।

ঢাকা থেকে রোমগামী ওই যাত্রীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইতালির সরকার। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় গত মঙ্গলবার এক সপ্তাহের জন্য বাংলাদেশ থেকে সব ধরনের ফ্লাইট স্থগিত ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে রোম বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। ইতালির গণমাধ্যম সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

কাতার এয়ারওয়েজ সূত্র জানায়, আগামীকাল শুক্রবার ভোররাতে ১৬৭ বাংলাদেশিকে নিয়ে ফিরে আসবে কাতার এয়ারওয়েজের একটি বিমান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে ইতালিগামী কোনো যাত্রী আপাতত বহন করবে না বিমান সংস্থাটি।

এর আগে গত সোমবার ঢাকা থেকে রোম যাওয়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটের ২১ যাত্রীর করোনাভাইরাস পজিটিভ শনাক্ত হয়। এর আগে যাওয়া বিশেষ ফ্লাইটেরও ১৮ যাত্রী পজিটিভ শনাক্ত হন।

গতকাল রাত সাড়ে ১০টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় বিমানটি ফিউমিসিনো বিমানবন্দরের পাঁচ নম্বর টার্মিনালে অবস্থান করছিল বলে স্থানীয় গণমাধ্যম আইএল মেসেজারোর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়। কাতার এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষ বলেছে, ‘বিমানটি ঢাকা থেকে রোমে আসেনি। যে কারণে বাংলাদেশি যাত্রীদের বিমান থেকে নামতে দেওয়া উচিত। কাতার এয়ারওয়েজ ইতালির সরকারের বিমান পরিবহন সংক্রান্ত সব ধরনের বিধি-বিধান সতর্কতার সঙ্গে অনুসরণ করছে।’

আইএল মেসেজারো জানিয়েছে, ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কাতার এয়ারওয়েজের ওই বিমানের ১৬৭ বাংলাদেশি আরোহী ইতালিতে প্রবেশ করতে পারবেন না। এমনকি বিমান থেকে বিমানবন্দরের ভেতরেও তাঁরা যেতে পারবেন না। তবে জরুরি চিকিৎসাসেবার দরকার হলে বিমান থেকে নামার অনুমতি পাবেন।

কাতার এয়ারওয়েজের ওই ফ্লাইটেই বাংলাদেশি যাত্রীদের রোমের স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় দোহায় ফেরত পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে বিমানটিতে থাকা অন্যান্য দেশের ৮০ যাত্রীর নামার অনুমতি মিলেছে। বিমানবন্দরে তাঁদের করোনার নমুনা পরীক্ষা শেষে কোয়ারেন্টিনে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আরোহীদের মধ্যে বাংলাদেশি একজন নারী অসুস্থ বোধ করায় স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তা চেয়েছিলেন। কিন্তু ইতালীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই নারী দীর্ঘ যাত্রার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এর সঙ্গে কভিড-১৯-এর সম্পর্ক নেই। ফ্লাইটটি ফিউমিসিনো বিমানবন্দরে অবতরণের পর বিমান থেকে সবাই নামতে পারবেন না বলে পাইলট ঘোষণা দেওয়ার পর সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়। এ ঘোষণার পর বাংলাদেশি যাত্রীরা তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেন। পাকিস্তানি নাগরিক আকাফিম বলেন, ইসলামাবাদ ত্যাগ করার সময় কেউই তাঁর শরীরের তাপমাত্রা মেপে দেখেননি। শুধু ইতালিতেই তাঁর তাপমাত্রা মাপা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা