kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

জুলাইজুড়ে বন্যা থাকার পূর্বাভাস

♦ মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হওয়ায় বাড়বে বৃষ্টিপাত ♦ ভাঙনে দিশাহারা বানভাসি মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জুলাইজুড়ে বন্যা থাকার পূর্বাভাস

চলতি জুলাই মাসজুড়েই বন্যা থাকবে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এর কারণ হিসেবে তারা বলছে, আগামী শুক্রবার থেকে প্রবল সক্রিয় হবে মৌসুমি বায়ু। এর প্রভাবে সারা দেশেই ব্যাপক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। উজানেও বৃষ্টিপাত হবে। এতে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরেক দফা অবনতি হবে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বৃষ্টির ফলে পদ্মার পানি আগামী শনিবার থেকে ১০ দিন বাড়বে। এই সময়ে দেশের মধ্যাঞ্চল, অর্থাৎ রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও চাঁদপুর জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আরো বলছে, ব্রহ্মপুত্র, যমুনাসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি কিছুটা কমলেও আগামী শনিবার থেকে বাড়তে পারে। ফলে বানভাসি মানুষ দ্বিতীয় দফায় দুর্ভোগে পড়বে।

ভারতের অরুণাচল ও মেঘালয়ে ভারি বর্ষণের ফলে টানা আট দিন ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি বাড়তে পারে। এতে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। মেঘনা অববাহিকায়ও পানি বাড়ার কথা জানিয়েছে সতর্কীকরণকেন্দ্র।

দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যার পানি কমতে শুরু করায় বন্যাদুর্গতদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা দিয়েছিল। কিন্তু ভাঙনের কবলে পড়ে তারা দিশাহারা হয়ে পড়েছে।

গত এক সপ্তাহে গাইবান্ধার চারটি উপজেলায় শতাধিক বসতবাড়ি ও কয়েক একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। গত তিন দিন বাঙ্গালী নদীর ভাঙনে সাঘাটা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের কয়েক একর ফসলি জমি নদীতে চলে গেছে। ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদের পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় এই ভাঙন শুরু হয়েছে। 

তবে  গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ী উপজেলায় করতোয়া নদীর পানি বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই নদীর পানি ৯৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে। এর প্রভাবে বাঙ্গালী, কাটাখালী ও আলাই নদীতেও বৃদ্ধি পাচ্ছে পানি। ফলে গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ী উপজেলার নিচু এলাকাগুলো তলিয়ে যাচ্ছে।

ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে গতকাল বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদ গাইবান্ধা শহর পয়েন্টে ৪৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

সিরাজগঞ্জে কয়েক দিন ধরে যমুনার পানি কমছে। তবে ভাঙন থামছে না, বিশেষ করে যমুনার তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের বাইরের অংশে ভাঙনের তীব্রতা বেশি। কাজিপুর সদর ইউনিয়নের কাটাতলা নৌকাঘাটের ১০০ মিটারের মধ্যে ভাঙন শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ঘাট এলাকার ৫০টির মতো ঘরবাড়ি ও দোকান অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই ঘাটের মাত্র ৩০০ মিটার উজানে গতকাল দুপুর থেকে আকস্মিক ভাঙন শুরু হয়। এতে কিছু আবাদি জমিসহ কয়েকটি গাছের বাগান নদীর পেটে চলে গেছে। স্থানীয়রা ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

জেলায় সার্বিকভাবে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও এখনো পানিবন্দি রয়েছে নিম্নাঞ্চলের ২১৬টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী রণজিৎ কুমার গতকাল জানান, গত ২০ ঘণ্টায় যমুনার পানি ১৬ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার বন্যায় জেলার পাঁচ উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

(প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন গাইবান্ধা প্রতিনিধি ও সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা