kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

আগুনে নিভল স্বামী স্ত্রী সন্তানের প্রাণ

‘বাড়িওয়ালা অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়েছিলেন’

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

৮ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে




আগুনে নিভল স্বামী স্ত্রী সন্তানের প্রাণ

ঢাকার আশুলিয়ার দুর্গাপুর গ্রামে ভাড়াবাড়িতে থেকে গার্মেন্টে চাকরি করতেন ফাতেমা (২৫) ও আবুল কাশেম (২৮)। এ দম্পতির ১০ বছরের ছেলে আল-আমীন। ফাতেমা আরেক সন্তানের মা হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। সুখের সংসারের স্বপ্নে বিভোর। অথচ গত সোমবার ভোরের আগুনে পুরো পরিবারটি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। ওই ভাড়াবাড়ির অবৈধ গ্যাসলাইনে আগুন ধরে দগ্ধ হয়ে মারা যান সবাই। তাঁদের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার চণ্ডীপাশা এলাকায়। এই মৃত্যুর জন্য আশুলিয়ার ওই বাড়ির মালিকের অবহেলাকে দায়ী করছে স্বজনরা। এ ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে তারা।

স্বজনরা জানায়, ঘটনার পর পরই মারা যায় শিশু আল-আমীন। আর দগ্ধ স্বামী-স্ত্রীকে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান কাশেম। এর পর ফাতেমার চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে না পেরে সোমবার রাতেই পরিবারের লোকজন তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট হাসপাতালে নেওয়ার প্রাক্কালে অ্যাম্বুল্যান্সেই মারা যান ফাতেমা।

অন্যদিকে অবৈধ গ্যাসলাইনের কারণে দুর্ঘটনা ঘটায় বাড়ির মালিক বিষয়টি ধামাচাপা দিতে উঠেপড়ে লেগেছেন। বাড়ির মালিক শহীদ হাজি মোবাইল ফোনে ফাতেমার ভাইকে ঘটনাটি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য শাসাচ্ছেন। ফাতেমার ভাই আবু ছাইদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার নিহতদের বাড়িতে গেলে দেখা যায়, ফাতেমার মা হালিমা বেগম বুক চাপড়ে কান্না করছেন আর বলছেন, ‘আমার বংশ নির্বংশ হয়ে গেল। মেয়ের পেডে তো আরেকজন আছিন। আমি অহন কিতা করবাম।’

আবু ছাইদ জানান, মৃত্যুর আগে কাশেম ও ফাতেমা তাঁকে বলেছেন যে ওই বাড়িতে গ্যাসের সংযোগ থাকলেও সেটি বৈধ ছিল না। সম্প্রতি বাসার অবৈধ গ্যাস সংযোগ লিক হয়ে গ্যাস আসতে থাকে। বিষয়টি তিনি বাড়ির তত্ত্বাবধায়ককে বলেন। পরে ওই তত্ত্বাবধায়ক এসে মিস্ত্রি দিয়ে লাইন মেরামত না করে নিজেই সাবান লাগিয়ে গ্যাসের লিকেজ বন্ধ করে দিয়ে যান। সোমবার ভোরে ফাতেমা চুলার ধরাতে দিয়াশলাইর কাঠি জ্বালানো মাত্রই বিকট শব্দে আগুন ধরে যায়।

আশুলিয়া থানার ওসি মো. রেজাউল হক বলেন, ‘আমি তো করোনায় আক্রান্ত থেকে সদ্য যোগদান করেছি। তবে ঘটনা শুনেছি। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা