kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

খাদ্যসংকটে ৪৬ শতাংশ জেলে চড়া সুদে ঋণ করেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



খাদ্যসংকটে ৪৬ শতাংশ জেলে চড়া সুদে ঋণ করেছে

বঙ্গোপসাগরে মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞার ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছে উপকূলীয় এলাকার প্রায় ৭০ শতাংশ জেলে। কাজ না থাকায় এই মুহূর্তে উপকূলীয় প্রায় অর্ধেক জেলে পরিবার খাদ্য সংকটে ভুগছে। তাই চড়া সুদে ঋণ করতে বাধ্য হয়েছে প্রায় ৪৬ শতাংশ জেলে। বেসরকারি সংস্থা কোস্ট ট্রাস্টের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এতে কোস্ট ট্রাস্টের গবেষক ইকবাল উদ্দিন জানান, উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, পটুয়াখালী, খুলনা ও বাগেরহাটের ২৮৪টি জেলে পরিবার থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়ে সরকারি সহায়তা হিসেবে চালপ্রাপ্তদের ৬৭.৫ শতাংশ বলেছে, এই চাল তাদের সংসার চালানোর জন্য যথেষ্ট নয়। কারণ সংসারের অন্যান্য খরচের জন্য নগদ কোনো সহায়তা নেই। ৯৬.১ শতাংশ জেলেই এ সময়টায় সামাজিক নিরাপত্তা খাতের আওতায় আর কোনো ধরনের সহায়তা পায়নি। ফলে সংসারের প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে সুদে টাকা ধার করেছে ৭৯.৯ শতাংশ জেলে, আগাম শ্রম বিক্রি করেছে ৪২.১ শতাংশ এবং মহাজনের কাছে চড়া সুদে ঋণ করেছে ৪৫.৭ শতাংশ জেলে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ৬৫.৮ শতাংশ জেলে পরিবার সরকারি সহায়তার চাল পেলেও ৩৪.২ শতাংশ এখনো তা পায়নি।

অন্যদিকে ৪০ শতাংশ জেলের অভিযোগ, সব শর্ত পূরণ করলেও তাদের নাম এই সরকারি সাহায্যপ্রাপ্তদের তালিকায় উঠেনি, ফলে তারা কিছুই পায়নি।

সমুদ্রে মৎস্য আহরণ ছাড়া ৯৫.৪ শতাংশ জেলেরই বিকল্প কোনো আয়ের উৎস না থাকায় নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন তাদের জন্য বিকল্প আয় নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে গবেষণা প্রতিবেদনে। কোস্ট ট্রাস্টের সুপারিশে নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের জন্য চালের বদলে নগদ সহায়তা, সহজ ঋণ বা আর্থিক সাহায্য, জেলেদের একটি

সঠিক তালিকা প্রণয়ন, বাল্যবিয়ে রোধ ও শিক্ষার হার বাড়াতে সচেতনতা ও প্রণোদনামূলক কার্যক্রম, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমন্বয় করে ‘মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ সময়’ নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সারা দেশের মানুষের মৎস্য চাহিদা পূরণ করলেও জেলেরা বরাবরই বঞ্চিত।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা