kalerkantho

রবিবার। ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭। ৯ আগস্ট ২০২০ । ১৮ জিলহজ ১৪৪১

কথা বললেই ৫০০ টাকা জরিমানা

নাটোর প্রতিনিধি   

৭ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




কথা বললেই ৫০০ টাকা জরিমানা

নাটোরের সিংড়ায় চারটি পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে একঘরে করে রেখেছেন গ্রাম্য মাতবররা। এসব পরিবারের সদস্যদের নামাজ পড়তে মসজিদে যাওয়াও বারণ। এমনকি তাদের সঙ্গে প্রতিবেশী কেউ কথা বললে তাদেরও রেহাই নেই। গুনতে হবে পাঁচ শ টাকা জরিমানা। উপজেলার ইটালী ইউনিয়নের বুড়িকদমা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারগুলো অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছে।

জানা যায়, প্রায় আট মাস আগে বুড়িকদমা গ্রামে পীরস্থানের জমি দখল করে বাড়ি করেন জিল্লুর রহমান নামের এক ব্যক্তি। অপরদিকে স্থানীয় মান্নান ও তাঁর পক্ষের লোকজন ওই স্থানে মাদরাসা নির্মাণের প্রস্তাব তোলেন। এ নিয়ে দুই পক্ষে শুরু হয় বিবাদ। বিষয়টি নিয়ে মান্নান ও তাঁর ভাইদের বিরুদ্ধে একজোট হন গ্রামের কিছু মাতবর। তাঁরা মান্নানদের ভোগদখলে থাকা ২০ শতাংশ জমিতে ঈদগাহ করার প্রস্তাব তোলেন। মান্নান ও তাঁর ভাইয়েরা এর প্রতিবাদ করলে রাতের আঁধারে ওই জমির সব গাছপালা ও সবজির ক্ষেত বিনষ্ট করা হয়।

সম্পদ বিনষ্ট করার বিষয়টি সিংড়া সার্কেলের এএসপি জামিল আকতার এবং সিংড়া থানার ওসি নুর-এ-আলম সিদ্দিকীকে অবহিত করেন মান্নান ও তাঁর ভাইয়েরা। এরপর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলামসহ দুই পক্ষকে নিয়ে সালিসে ঈদগাহ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিনিময়ে মান্নান ও তাঁর ভাইদের মাটি ভরাট ও গাছের ক্ষতিপূরণ বাবদ ৭৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এর পর থেকেই মান্নান ও তাঁর ভাইদের একঘরে করে রাখেন মাতবররা।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বুড়িকদমা গ্রামে আগে থেকেই ঈদগাহ থাকার পরও স্থানীয় মাতবর রেজাউল, আবদুর রশিদ, আনিসুর, হাবিল, হামিদুল, রশিদ, আনসার ও রনির নেতৃত্বে উদ্দেশ্যমূলকভাবে নতুন ঈদগাহ করা হয়েছে। একঘরে করে রাখা হয়েছে মান্নান, তাঁর ভাই মোস্তফা, মোতালেব ও মহব্বতকে। তাঁদের সঙ্গে গ্রামের কেউ কথা বললেই পাঁচ শ টাকা জরিমানা আদায়ের হুমকি দিয়ে রেখেছেন মাতবররা।

ভুক্তভোগী আবদুল মান্নান বলেন, ‘গ্রামের কয়েক ব্যক্তি একজোট হয়ে আমাদের একঘরে করে রেখেছে। গ্রামের সব কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে। মূলত আমাদের গ্রামছাড়া করতে মরিয়া ওই পক্ষ। ওরা আমাদের মেরে ফেলতে চাইছে।’

ফটিক নামের এক প্রতিবেশী বলেন, ‘মান্নানের পক্ষে কথা বলায় আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। সন্তানের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তার কথা ভেবে পাশের গ্রাম খোলাবাড়িয়ায় আশ্রয় নিয়েছি।’

গ্রাম্য মাতবর রেজাউল ও আব্দুর রশিদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘মান্নান ও তার ভাইয়েরা সমাজে নানা রকম বিশৃঙ্খলা তৈরি করায় গ্রামবাসী তাদের এড়িয়ে চলে। একঘরে করে রাখার অভিযোগ সঠিক নয়।’

তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ জানান, মান্নান ও তাঁদের পরিবারকে একঘরে করে রেখেছেন স্থানীয় কিছু ব্যক্তি। 

স্থানীয় ইটালী ইউপির চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, ‘একঘরে করে রাখার সত্যতা পাওয়া গেলে বিষয়টি সুরাহা করার চেষ্টা করব।’

সিংড়া থানার ওসি নুর-এ-আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘একঘরে করার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এর সত্যতা পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা