kalerkantho

রবিবার। ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭। ৯ আগস্ট ২০২০ । ১৮ জিলহজ ১৪৪১

আম পাড়তে কলার ভেলা

জয়নাল আবেদিন বাবুল, পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও)   

৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আম পাড়তে কলার ভেলা

বন্যা : অতিবর্ষণে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন আমবাগান পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার অতরগাঁওয়ে ডুবে যাওয়া একটি বাগানে কলার ভেলায় চড়ে আম তুলছেন চাষি। ছবি : কালের কণ্ঠ

বর্ষাকালে কলার ভেলায় চড়ে গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষ খালে-বিলে শাপলা ফুল বা কলমি শাক তুলছে—এমন দৃশ্য নতুন কিছু নয়। কিন্তু এ বছর শাপলা কিংবা শাক নয়, ভেলায় চড়ে বাগানে বাগানে ঘুরে গাছ থেকে আম পাড়তে দেখা যাচ্ছে বাগান মালিকদের। আগাম ভারি বর্ষণে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের আম বাগানগুলোতে পানি জমায় আম পাড়তে কলার ভেলার ওপরই ভরসা করতে হচ্ছে চাষিদের।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, পীরগঞ্জে চার হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের প্রায় ৩০০ আম বাগান রয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ বাগান গড়ে উঠেছে নিচু ধানি জমিতে। আগাম বর্ষণে অনেক বাগানেই চার-পাঁচ ফুট পানি জমেছে। আমসহ ছোট ছোট গাছ ডুবে গেছে অনেক বাগানে। ডুবে গিয়ে আমের রং ও স্বাদ নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত গাছ থেকে না নামালে এসব আম আর খাওয়ার উপযোগীই থাকবে না। ফলে কলার ভেলাই এখন ভরসা আম চাষিদের।

গতকাল রবিবার উপজেলার খনগাঁও ইউনিয়নের লোহাগাড়া, বনবাড়ি, অতরগাঁও গ্রামের বাগানগুলোতে আম চাষিদের ভেলায় চড়ে আম তুলতে দেখা যায়। খনগাঁওয়ের ৯ হাজার গাছের একটি বাগানের কেয়ারটেকার সাইদ জানান, তাঁদের বাগানের আম্রপালি জাতের ছোট সব গাছই পানিতে ডুবে গেছে। ফলে আম ফেটে যাচ্ছে। আমে গ্যাস হয়ে এর স্বাদ নষ্ট হচ্ছে। তা ছাড়া করোনাভাইরাসের কারণে বাইরের পাইকাররা আম নিতে আসছেন না। সব মিলিয়ে আমের যা-ও বা দাম ছিল গত কয়েক দিনে তাও কমে গেছে।

আম ব্যবসায়ী রাজ্জাক বলেন, ‘তিন হাজার টাকা মণ দরে বেঁচব বলে আম কিনেছি; কিন্তু এখন আমের দাম ১৫০০/১৬০০ টাকা। আবহাওয়ার কারণে বাইরের পার্টি আসছে না। আমের মানও খারাপ হতে শুরু করেছে।’ আম বাগান মালিক এন কে রানা জানান, অতি বৃষ্টির কারণে আমের রং নষ্ট হওয়াসহ বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে করোনাভাইরাসের কারণে আম বাইরে না যাওয়ায় বেশ ক্ষতিতে পড়েছেন তাঁরা।

পীরগঞ্জ আম বাগান মালিক সমিতির সভাপতি আবু জাহেদ ইবনুল ইকরাম জুয়েল বলেন, আমের পরাগায়ণের সময় বৃষ্টিতে কিছু মুকুল নষ্ট হয়ে যায়। এখন অতিবর্ষণে নষ্ট হতে বসেছে আম। সব মিলিয়ে বাগানীরা বেশ ক্ষতির মুখেই আছেন। আমে বালাইনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। কিন্তু মানসম্মত বালাইনাশক পরিমাপক যন্ত্র কৃষি বিভাগে নেই।

তবে পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার এস এম গোলাম সারোয়ার বলেন, কোনো রোগবালাই নয়, অতিবৃষ্টির কারণেই আমের ক্ষতি হচ্ছে। আম বাজারজাতের বিষয়টি বাগানীদেরই দেখতে হবে। এর পরও এরই মধ্যে পীরগঞ্জ থেকে এক হাজার কেজি আম্রপালি আম বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে কৃষি বিভাগ। পরবর্তী সময়ে অর্ডার পেলে আরো আম পাঠানোর ব্যাপারে সহযোগিতা করা হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা