kalerkantho

রবিবার। ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭। ৯ আগস্ট ২০২০ । ১৮ জিলহজ ১৪৪১

অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল চালকদের দুর্দশা

চুক্তিতে চলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় চালক-যাত্রী দুই পক্ষই, অ্যাপ সুবিধা চান চালকরা

জহিরুল ইসলাম   

৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল চালকদের দুর্দশা

রাজধানীর একটি কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ছাত্র হামিদুর রহমান। বাবা নেই। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে গ্রামে থাকা পরিবারের ও নিজের পড়ার খরচ চালিয়ে আসছিলেন তিনি। বেতন কম হওয়ায় হিমশিম খেতে হচ্ছিল। পরে এক বন্ধুর কাছে রাইড শেয়ারিংয়ের বিষয়টি বিস্তারিত জেনে কিস্তিতে মোটরসাইকেল কেনেন ছয় মাস আগে। আয়ও হচ্ছিল ভালো। প্রতি মাসে কিস্তির সাত হাজার টাকা দিয়েও হাতে ২০ হাজার টাকা থাকত। কিন্তু করোনায় সব ওলটপালট হয়ে গেছে। এখন চার ভাগের এক ভাগও আয় নেই। না দেওয়া যাচ্ছে কিস্তির টাকা, না পারছেন পরিবারের জন্য পাঠাতে।

দিশাহারা হামিদ টিকে থাকতে লড়াই করে যাচ্ছেন। তাঁর মতে, অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং আবার পুরোদমে চালু করলে তাঁর মতো অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।

গতকাল রবিবার দুপুরে আজিমপুর মোড়ে যাত্রীর জন্য অপেক্ষমাণ হামিদ অশ্রুসজল চোখে কথাগুলো বলছিলেন। শুধু হামিদ নয়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশে ৬৬ দিনের টানা সাধারণ ছুটির কারণে এমন সংকটে পড়েছেন অ্যাপভিত্তিক যাত্রীসেবা খাতের কয়েক লাখ রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেলচালক।

সংশ্লিষ্ট চালকরা বলছেন, অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিংয়ের মোটরসাইকেল চালু থাকলে সীমিত আকারে চলা বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু যাত্রী পাওয়া যেত। কিন্তু বন্ধ থাকায় চুক্তিভিত্তিক যাত্রী পরিবহন করতে হচ্ছে। এতে কখনো যাত্রীর লোকসান হচ্ছে, কখনো নিজেদের লোকসান হচ্ছে। ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর ও কয়েকটি জেলায় গেলেও অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রী পাওয়া যেত। এখন যাত্রী কম হওয়ায় ভাড়া বেশি চাইতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আগের ভাড়ার অর্ধেকেই যেতে হচ্ছে। তাঁদের মতে, ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী (পিপিই), হ্যান্ড গ্লাভস, মাস্ক ব্যবহার করলে মোটরসাইকেলে নিরাপদে চলা সম্ভব।

জানা যায়, দেশে বর্তমানে ১২টি প্রতিষ্ঠান রাইড শেয়ারিংয়ের লাইসেন্স নিয়েছে। আবেদন করেছে আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সাধারণ ছুটিতে গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাইড শেয়ারিং কম্পানিগুলোর যানবাহনসেবা তখন পুরোপুরি বন্ধ ছিল। কিন্তু মোটরসাইকেলচালকরা চুক্তিতে যাত্রী বহন করছিলেন।

জানা যায়, রাইড শেয়ারিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ ব্যবহারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গত ২১ জুন সনদপ্রাপ্ত ২৫৫টি মোটরযান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত ১ জুলাই আরো এক হাজার ৬৩৫টি মোটরযান চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। তবে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে রাইড শেয়ারিং অ্যাপের মাধ্যমে মোটরসাইকেল চালানোর অনুমতি দেয়নি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) লোকমান হোসেন মোল্লা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিংয়ে মোটরসাইকেল চলার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আসলে গণপরিবহনসহ বিভিন্ন মাধ্যমের সীমিত চলার মধ্যে ফাঁকা জায়গা বা ব্যক্তিগত দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব। কিন্তু মোটরসাইকেলে সেটা সম্ভব না। তাই বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।’

চালকদের ভালোমন্দ এবং অ্যাপ চালু হওয়ার বিষয়ে জানতে উবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে লিখিতভাবে যোগাযোগ করলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ সম্পর্কে পাঠাওয়ের নির্বাহী পরিচালক হুসেইন এম ইলিয়াস কালের কণ্ঠকে বলেছেন, ‘কর্তৃপক্ষীয় সিদ্ধান্তে আমরা হতাশ। রাজধানী ও আশপাশে বিপুল যাত্রী সাধারণের জন্য অল্পসংখ্যক রাইড শেয়ারিং যানবাহনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা অপর্যাপ্ত। মোটরসাইকেলচালক যুবকদের দুর্দশা বেড়েছে। বিষয়গুলো নিয়ে বিআরটিএর সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রাখছি।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা