kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

তমা গ্রুপের মাস্ক

চুরিতে জড়িত বিমান ও কাস্টমসের লোকজন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চুরিতে জড়িত বিমান ও কাস্টমসের লোকজন

যেন চোরের খনিতে পরিণত হয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ঢাকা কাস্টম হাউস। এ দুটি প্রতিষ্ঠানের রক্ষকরাই এখন ভক্ষকের ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের অপকর্মের কারণে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তমা গ্রুপের দীর্ঘদিনের সুমান ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক। জানা গেছে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তদন্তে চুরির ঘটনাটি বেরিয়ে এলে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি তমা গ্রুপ কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের জন্য তিন লাখ এন-৯৫ মাস্ক আমদানি করে। কিন্তু শাহজালাল বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে আমদানি কার্গো এলাকায় আমদানি করা ওই পণ্যের (এন-৯৫ মাস্ক) চালানের একাংশ চুরি হয়ে যায় এবং এসব পণ্য কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে জমা দেওয়ার পর গণনায় তিন প্যাকেট কম পাওয়া যায়।

বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নিয়ে একটি মহল স্বাস্থ্য খাতে মাস্ক কেলেঙ্কারি ও অনিয়ম-দুর্নীতি বলে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়। এতে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। নানামুখী সমালোচনার মুখে পড়ে তমা গ্রুপ কর্তৃপক্ষ। পরে তারা বিষয়টি জানিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করে। এরপর বেবিচকের তদন্তে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসে। মাস্ক চুরির সঙ্গে বাংলাদেশ বিমান ও ঢাকা কাস্টম হাউসের অসাধু বেশ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর জড়িত থাকার প্রমাণ পায় তদন্ত কমিটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমানের নির্দেশে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি সপ্তাহব্যাপী তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে উঠে আসে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরের চুরির সঙ্গে জড়িতদের নামের তালিকা। তিনি আরো জানান, মাস্ক চুরির সঙ্গে বাংলাদেশ বিমানের কার্গো শাখা ও ঢাকা কাস্টম হাউসের অসাধু বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে।

এদিকে বিমানবন্দরের অভ্যন্তর ও ঢাকা কাস্টমে চুরির ঘটনার দায় এসে পড়ে তমা গ্রুপের ওপর। এ ঘটনায় একটি মহল ও কিছু মিডিয়া হাউস তমা গ্রুপের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে। যার কারণে দীর্ঘদিনের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুণ্ন হয় এবং বেকায়দায় পড়তে হয় তমা গ্রুপ কর্তৃপক্ষকে।

এ বিষয়ে তমা গ্রুপের চেয়ারম্যান মানিক বলেন, ‘ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হয়, আমাদের মাস্কগুলো বিমানবন্দর থেকে খোয়া গেছে। এ ঘটনায় আমাদের কম্পানির সুনাম নষ্ট হয়েছে। যারা এমন চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিচারের কাঠগড়ায়  দাঁড় করানো উচিত।’

বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘বিমানবন্দরে তমা কনস্ট্রাকশনের আমদানি করা মাস্ক চুরির সঙ্গে বিমান ও ঢাকা কাস্টম হাউসের বেশ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিমান ও কাস্টম সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ চুরির ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা