kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

ধরলা ব্রহ্মপুত্র জিঞ্জিরাম ঝিনাই পদ্মায় পানি বাড়ছে

বেড়েছে ভাঙন নতুন জনপদ প্লাবিত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বেড়েছে ভাঙন নতুন জনপদ প্লাবিত

পদ্মায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় মাদারীপুরের শিবচরে বেড়েছে নদীভাঙন। সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও। স্রোতের তোড়ে বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়ার এই চিত্র উপজেলার চরজানাজাত এলাকার। ছবি : কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামে বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্রের পানি ধীরে ধীরে কমলেও ধরলা নদীর পানি বাড়ছে। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বাড়ায় নতুন করে তলিয়েছে শেরপুরের জনপদ। যমুনা নদীর পানি অনেকটা কমলেও এখনো তা বিপত্সীমার ওপরে। জিঞ্জিরাম, ঝিনাই নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। পদ্মায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

জামালপুরে গতকাল বন্যার পানিতে ডুবে ও বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ফরিদপুরে পানিতে ডুবে মারা গেছে এক শিশু।

কালের কণ্ঠ’র সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধি ও প্রতিবেদকদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত—

কুড়িগ্রাম : গতকাল শুক্রবার বিকেলে ধরলা নদীর পানি বিপত্সীমার ৫৩ ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপত্সীমার ৪২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। হাজার হাজার ঘরবাড়ি এখনো ডুবে আছে বন্যার পানিতে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৫৬টি ইউনিয়নের ৫৭৯টি গ্রাম পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। ১৬ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাত হাজার ৩০০ হেক্টর জমির ফসল ডুবে গেছে।

শেরপুর : পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বৃদ্ধির ফলে সদর উপজেলার চরপক্ষিমারী ইউনিয়নের কুলুরচর-বেপারীপাড়া গ্রামের বাড়িঘরে পানি ঢুকেছে। এতে অনেকে পাশের জামালপুর শহর রক্ষা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। এ ছাড়া আগে থেকেই সেখানে রয়েছে শতাধিক পরিবার। ব্রহ্মপুত্রের প্রভাবে শাখা মৃগী নদীতেও পানির স্রোত বেড়েছে। এতে নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ও চরঅষ্টাধর ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকার  নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। 

জামালপুর : ব্রহ্মপুত্র, জিঞ্জিরাম ও ঝিনাই নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন তলিয়ে গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, বন্যায় এ পর্যন্ত জেলার সাতটি উপজেলায় ১৩ হাজার ৩৪৩ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গতকাল বন্যার পানিতে ডুবে শিশুসহ দুজন এবং ডুবে যাওয়া সেচপাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সময় দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। 

সিরাজগঞ্জ : যমুনা নদীর পানি কিছুটা কমলেও গতকাল বিপত্সীমার ৩৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ কারণে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে ২১৬টি গ্রামের ২৫ হাজার মানুষ।

রাজবাড়ী : পদ্মার গোয়ালন্দ পয়েন্টে গতকাল ছয় সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপত্সীমার ৪৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ফলে উপজেলা এলাকার নদীতীরবর্তী বিভিন্ন গ্রাম এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়েছে।

ফরিদপুর : পদ্মার পানি বেড়ে যাওয়ায় ফরিদপুর সদরের তিনটি ইউনিয়ন নর্থ চ্যানেল, ডিক্রিরচর ও আলীয়াবাদ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ছয় সহস্রাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। চরভদ্রাসন উপজেলা সদরের পূর্ব বিএসডাঙ্গি গ্রামে বন্যার পানিতে ডুবে গতকাল সাকিব মণ্ডল (১০) নামের এক শিশু মারা গেছে।

মাদারীপুর : পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় শিবচরের চরাঞ্চলের তিন ইউনিয়নে ভাঙন বেড়েছে। এরই মধ্যে ১২০টির বেশি ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে একাধিক স্কুল ভবন, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, কমিউনিটি ক্লিনিক, বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। 

পঞ্চগড় : টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি আর উজানের ঢলে ভেঙে গেছে দেবীগঞ্জ উপজেলার রাঙ্গাপানি সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক। এতে স্থানীয় লোকজন দুর্ভোগে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত সংযোগ সড়ক মেরামতের নির্দেশ দিয়েছেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।

বন্যার্তদের পাশে শুভসংঘ : গাইবান্ধার ফুলছড়ির বালাসীঘাটসংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নেওয়া ৫০টি পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবারসহ সাবান, ওয়াশিং পাউডার, ম্যাচ, মোমবাতি ও খাবার স্যালাইন বিতরণ করেছেন কালের কণ্ঠ’র শুভসংঘের বন্ধুরা। গতকাল বিকেলে শুভসংঘের জেলা ও গাইবান্ধা সরকারি কলেজ শাখার বন্ধুরা যৌথভাবে এসব বিতরণ করেন।

শুভসংঘের বন্ধুদের ধন্যবাদ জানিয়ে ভাসারপাড়ার গৃহবধূ আমেনা বেগম বলেন, ‘এটি (বাঁধে) আশ্রয় নেওয়ার পর থাক্যি এখন পর্যন্ত কাঁইয়ো সাহায্য নিয়্যা আসে নাই। আল্লাহ তোমারঘরের ভালো করব্যে।’ রসুলপুরের করিম মিয়া বললেন, ‘পেপারেত খালি তো খবর থাকে জানি। তামরা ফির মানসেক বিপদে সাহায্য করে এটা জানা আছিলো না। কালের কণ্ঠ’র ভালো হোক।’

জেলা ফটোগ্রাফি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কুদ্দুস আলম বলেন, ‘শুভসংঘের দায়িত্ববোধ আমাকে মুগ্ধ করেছে। এই উদ্যোগ অন্যদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।’

শুভসংঘের জেলা কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক লতা সরকার বলেন, ‘বাঁধে প্রায় ২০০ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আমরা সবার কাছে পৌঁছতে পারিনি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আরো সাহায্য করার চেষ্টা করব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা