kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭। ১১ আগস্ট ২০২০ । ২০ জিলহজ ১৪৪১

হংকংয়ের ৩০ লাখ বাসিন্দাকে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের প্রস্তাব

ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া চীনের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




হংকংয়ের ৩০ লাখ বাসিন্দাকে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের প্রস্তাব

ছবি: ইন্টারনেট

‘হংকং নিরাপত্তা আইন’ নিয়ে চীন ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে নতুন বিরোধ তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, হংকংয়ের প্রায় ৩০ লাখ বাসিন্দাকে যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। জনসনের এমন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেইজিং। তারা বলেছে, হংকংয়ের বাসিন্দাদের দেশত্যাগে সহযোগিতা করার সব দায় যুক্তরাজ্যকেই নিতে হবে।

১৯৯৭ সালে এক চুক্তির মাধ্যমে হংকংকে চীনের কাছে হস্তান্তর করে ব্রিটেন। ওই চুক্তি অনুসারে, হংকং ২০৪৩ সাল পর্যন্ত (৫০ বছর) ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নীতিতে পরিচালিত হবে। চুক্তির অধীনে হংকংয়ের নিজস্ব আইন আছে; রাজনৈতিক ব্যবস্থাও আলাদা। এ অবস্থায় গত মঙ্গলবার চীনে পাস হয় বিতর্কিত ‘হংকং নিরাপত্তা আইন’। ওই আইনে বিচ্ছিন্নতাবাদ, কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং বহিরাগত শক্তির সঙ্গে আঁতাত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে আইনটিতে। সমালোচকরা মনে করেন, হংকংয়ের বাসিন্দাদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতেই আইনটি করা হয়েছে।

আইনের সমালোচনা করে গত বুধবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জনসন বলেন, নতুন নিরাপত্তা আইনে হংকংয়ের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই আইনের ফলে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের হংকং ছাড়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

হংকংয়ের প্রায় সাড়ে তিন লাখ বাসিন্দার ব্রিটিশ পাসপোর্ট রয়েছে। জনসনের প্রস্তাব অনুযায়ী, এই সাড়ে তিন লাখের পাশাপাশি হংকংয়ের আরো প্রায় ২৬ লাখ ‘উপযুক্ত’ বাসিন্দা যুক্তরাজ্যে গিয়ে পাঁচ বছর বসবাস করতে পারবেন। পাঁচ বছর পর ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন তাঁরা।

ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী হংকংয়ের বাসিন্দাদের ১৯৮৭ সালে বিশেষ অধিকার দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই অধিকারে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়। ওই বিধি-নিষেধের কারণে এত দিন তাঁরা ভিসা ছাড়া যুক্তরাজ্যে গিয়ে মাত্র ছয় মাস অবস্থান করতে পারতেন। কিন্তু এখন যে প্রস্তাবের কথা বলা হচ্ছে, তাতে হংকংয়ের ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী এবং তাঁদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিরা যুক্তরাজ্যে বসবাসের অধিকার পাবে। তারা পাঁচ বছর পর্যন্ত সেখানে কাজ করার ও লেখাপড়ার অধিকার পাবে। এরপর স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার এবং নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবে।

এদিকে জনসনের এমন প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হংকংয়ের বাসিন্দাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কোনো অধিকার যুক্তরাজ্যের নেই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেন, ‘চীন এ ধরনের প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। এ বিষয়ে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকারও আমাদের আছে। এ ছাড়া হংকংয়ের বাসিন্দাদের দেশত্যাগে সহায়তা করার সব দায়ভার যুক্তরাজ্যকেই নিতে হবে।’

এদিকে হংকংয়ের বাসিন্দাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা ভাবছে অস্ট্রেলিয়াও। গতকাল দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন, হংকংয়ের পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা