kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭। ১১ আগস্ট ২০২০ । ২০ জিলহজ ১৪৪১

করোনা উপসর্গ

ইমেরিটাস অধ্যাপক পুলিশ সদস্যসহ ১২ জনের মৃত্যু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইমেরিটাস অধ্যাপক পুলিশ সদস্যসহ ১২ জনের মৃত্যু

করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অবসরপ্রাপ্ত ইমেরিটাস অধ্যাপক ফকরুল ইসলাম (৮৬)। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে তাঁর মৃত্যু হয়। একই উপসর্গ নিয়ে গত বুধবার দিবাগত রাতে হাসপাতালের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে আরেকজনের।

আরো চার জেলায় বুধবার ও গতকাল করোনার উপসর্গ (জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট) নিয়ে প্রাণ গেছে এক পুলিশ কনস্টেবলসহ ১০ জনের। এর মধ্যে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের কভিড-১৯ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান পাঁচজন। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় : ড. ফকরুল ইসলাম রাবির ফলিত রসায়ন বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ছিলেন। তাঁর বাড়ি রাজশাহী নগরীর কাজিহাটা এলাকায়। মারা যাওয়া অন্যজন রামপদ (৬০) জেলার চারঘাট উপজেলার রাসপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জ্বর, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে গত বুধবার বিকেলে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলেন, দুপুর ১টার দিকে ফকরুল ইসলামকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। করোনার উপসর্গ থাকায় করোনা ওয়ার্ডে রেখে ভর্তির কাজ চলছিল। এর মধ্যেই তিনি মারা যান। মৃত দুজনেরই নমুনা সংগ্রহ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে লাশ দাফন ও সৎকারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কুমিল্লা : মারা যাওয়া পাঁচজন হলেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ইউসুফ আলী (৪৯), কুমিল্লা নগরের ঠাকুরপাড়ার নাবিল (২৮), দেবীদ্বার উপজেলার হাজি জব্বার আলী (৮০), ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দুদ মিয়া (৬৪) ও কুমিল্লা সদর উপজেলার রিনা আক্তার (৫৩)। কুমেক হাসপাতালের কভিড ইউনিটের তথ্য শাখার সহকারী সার্জন মুক্তা রানী ভূঁইয়া জানান, গত বুধবার সকাল থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে চারজন আইসিইউয়ে এবং একজন আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

কুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. মজিবুর রহমান বলেন, ‘জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিল রোগীরাই এখানে বেশি আসেন। অনেক রোগীই আসেন একেবারে শেষ পর্যায়ে সংকটাপন্ন অবস্থায়। ফলে চিকিৎসকদের শত চেষ্টা ব্যর্থ করে অনেকেই মারা যান।’

ঝালকাঠি ও রাজাপুর : ১০ দিন ধরে জ্বর, বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্টে ভুগে গত বুধবার রাতে মারা গেছেন ঝালকাঠির রাজাপুর থানার পুলিশ কনস্টেবল ফিরোজ সিকদার (৫৬)। তাঁকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে বুধবার রাতে তাঁকে ঢাকায় নেওয়ার পথে মাওয়াঘাট এলাকায় অ্যাম্বুল্যান্সের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার রাজপাশা গ্রামের মৃত আবদুর রশীদের ছেলে। গতকাল তাঁকে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।

ফরিদপুর : গত বুধবার দিবাগত রাতে ফরিদপুর করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজন মারা যান। তাঁরা হলেন ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ১০ হাজার গ্রামের এক ব্যক্তি (৫২) ও ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মহল্লার এক বৃদ্ধ (৯৪)। তাঁরা জ্বর, সর্দি, কাশিসহ করোনার বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে গত ৩০ জুন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক সাইফুর রহমান জানান, মৃত্যুর পর তাঁদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

গোপালগঞ্জ : করোনার উপসর্গ নিয়ে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে বুধবার রাতে ও গতকাল দুজনের মৃত্যু হয়। তাঁরা হলেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের মোতালেব মিয়া (৬৮) ও শহরতলির মানিকদাহ গ্রামের দিপংকর শিরালী (৩৪)। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. অসিত কুমার মল্লিক বলেন, শ্বাসকষ্ট, সর্দি, জ্বর, কাশি নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ওই দুজন। বুধবার তাঁদের নমুনা সংগ্রহ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে লাশ দাফন করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা