kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭। ১১ আগস্ট ২০২০ । ২০ জিলহজ ১৪৪১

বন্যা বাড়াচ্ছে জীবনকষ্ট

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বন্যা বাড়াচ্ছে জীবনকষ্ট

ধরলার প্রবল ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানার সারডোব বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। বন্যার ঝুঁকির মুখে পড়েছে ২০টি গ্রাম। ছবি : কালের কণ্ঠ

বানের পানির সঙ্গে বাড়ছে দুর্দশা, বাড়ছে জীবনকষ্ট। দুর্গত এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। পানিবন্দি মানুষের যেন হাহাকার চলছে। অনেক বানভাসি মানুষ ত্রাণ চোখেই দেখছে না। এদিকে তিন দিন কমার পর ফের তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করেছে। ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। ওই তিন নদীর পানি এখনো বিপত্সীমার ওপর দিয়ে বইছে। বাড়ছে করতোয়া নদীর পানিও। যমুনার পানির প্রবল স্রোতে ধসে গেছে সিরাজগঞ্জের শিমলা-২ নম্বর স্পারের ১০০ মিটার এলাকা। বিভিন্ন পয়েন্টে যমুনার পানি বাড়তির দিকে রয়েছে। এ ব্যাপারে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

রাজবাড়ী : গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া গেজ স্টেশন পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর পানি আট সেন্টিমিটার বেড়ে বিপত্সীমার ৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া সদরের মহেন্দ্রপুর ও পাংশার সেনগ্রাম পয়েন্টে এখনো পানি বিপত্সীমার নিচে রয়েছে। এতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন ফসল ও বিস্তীর্ণ এলাকা। পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে স্রোতের তীব্রতা। ফলে বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ভাঙন। রতনদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেহেদী হাসিনা পারভীন জানান, পানি বাড়ার কারণে তাঁর ইউনিয়নের হরিণবাড়ী চরসহ নদী-তীরবর্তী কয়েকটি নিচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) : উপজেলার পদ্মাপারের দেবগ্রাম, দৌলতদিয়া ও উজানচর এই তিনটি ইউনিয়ন এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সেখানে গ্রামীণ সড়ক ও হাঁটা পথ তলিয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

শিবচর (মাদারীপুর) : পদ্মার পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে মাদারীপুরের শিবচরের চরাঞ্চলের তিন ইউনিয়নে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর ফলে চরজানাজাত ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বাড়িসহ শতাধিক ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে একাধিক স্কুল ভবন, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, কমিউনিটি ক্লিনিক, বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

নীলফামারী : অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তার পানি ফের বাড়তে শুরু করেছে। গতকাল সকাল থেকে দফায় দফায় পানি বেড়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বিপত্সীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। গত বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ওই পয়েন্টে নদীর পানিপ্রবাহ ছিল বিপত্সীমার ২৩ সেন্টিমিটার নিচে। তিস্তার উজানে ভারতের উত্তরাংশে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ওই নদীর পানি আরো বাড়ার শঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এদিকে তিস্তার পানি নিয়ে বিপাকে রয়েছে ডিমলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও গয়াবাড়ি ইউনিয়নের ১৫ গ্রামের পাঁচ সহস্রাধিক পরিবার।

সিরাজগঞ্জ : যমুনার পানির প্রবল তোড়ে ধসে গেছে  সিরাজগঞ্জের শিমলা-২ নম্বর স্পারের ১০০ মিটার  এলাকা। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড ধসের বিস্তৃতি ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিলেও এলাকাজুড়ে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।  স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল আলম জানান, বুধবার রাতে শিমলা স্পারের প্রায় ১০০ মিটার এলাকা ধসে যায়। তবে ধস ঠেকাতে পাউবো দুপুর পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

গাইবান্ধা : ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদের পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। গতকাল সকাল ৬টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি এবং দুপুর ১২টায় ঘাঘটের পানি বিপত্সীমার ৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। অন্যদিকে তিস্তার পানি এক সেন্টিমিটার বেড়েছে।

কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি কমতে থাকায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গতকাল বিকেলে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপত্সীমার ৫৩ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি বিপত্সীমার ২৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চরাঞ্চলে হাজার হাজার ঘরবাড়ি এখনো পানিতে তলিয়ে আছে। দুর্গত এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের পাশাপাশি গবাদি পশুর খাদ্যের অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে।

ধুনট (বগুড়া) : যমুনা নদীতে পানি বাড়ার ফলে তীরবর্তী সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনটের ১৪টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের প্রায় এক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রায় চার হাজার চারণভূমি প্লাবিত হয়েছে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা