kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭। ১১ আগস্ট ২০২০ । ২০ জিলহজ ১৪৪১

লোকসানে ব্যবসা ছাড়ছেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা

► অনেকে নতুন কিছু করার চেষ্টা করছেন
► পেশা বদলাচ্ছেন কেউ কেউ

ফারজানা লাবনী   

৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লোকসানে ব্যবসা ছাড়ছেন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা

বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষে চাকরির পেছনে না ছুটে সোহেল রহমান রাজধানীর মিরপুর ১৩ নম্বরে একটি ফাস্ট ফুডের দোকান দেন। তাঁর দোকানের বেশির ভাগ ক্রেতা আশপাশের স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী। মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে সরকারি নির্দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এতে অনেকটাই ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে সোহেলের দোকান। এ অবস্থায় চলতি মাসে দোকান ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। রাজশাহী থেকে আম এনে অনলাইনে বিক্রি করছেন। সোহেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আয় না থাকলেও দোকানে কর্মরত ছেলে দুটিকে বেতন দিতে হয়েছে। ভাড়া আছে। তাই বাধ্য হয়ে ছেড়ে দিলাম।’

সোহেলের মতো অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বাধ্য হয়ে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন। করোনা পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক সময়ের মতো ব্যবসা করতে পারছেন না তাঁরা। আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় নতুন কিছু করার চেষ্টা করছেন। আর এ পরিস্থিতি শুধু রাজধানীতে নয়, করোনার কারণে সারা দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পড়েছেন বিপাকে।

খুলনার চা-সিগারেট বিক্রেতা আবদুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগে ঢাকা থেকে ছোটদের পোশাক এনে ফুলতলা থানা বাজারের দোকানে দিতাম। কিন্তু করোনার কারণে আগের মতো ঢাকায় গিয়ে মাল আনতে পারছি না। বিক্রি কমে গেছে। এখন বাধ্য হয়েই চা-পান-সিগারেট বিক্রি করছি।’

ঢাকার একটি জুতার কারখানায় কাঁচামাল সরবরাহ করতেন মফিজ মিঞা। কিন্তু করোনার প্রাদুর্ভাবে কারখানা লোকসানে পড়ে। মফিজের কাছ থেকে মাল নেওয়া বন্ধ করে দেয় তারা। এ অবস্থায় পরিবার নিয়ে বাগেরহাটে নিজের গ্রাম সুগন্ধিতে ফিরে গেছেন তিনি। মফিজ এখন রিকশা চালান।  

শুধু অল্প আয়ের ব্যবসায়ীরা নন, ভালো নেই বড় ব্যবসায়ীরাও। তাঁদেরও অনেকে পুরনো ব্যবসার পাশাপাশি নতুন কিছু করার চেষ্টা করছেন।

বাংলাদেশ রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি মো. হাতিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনার কারণে অনেক কম্পানি পুরনো অর্ডার বাতিল করে দিয়েছে। নতুন অর্ডার নেই বললেই চলে। নতুন মালও আসেনি। আগের মজুদ দিয়ে কারখানা চলছে। এ মাসের ১০ তারিখের মধ্যে মাল না পৌঁছালে কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি হবে।’ এভাবে চলতে থাকলে অন্য কোনো ব্যবসার কথা ভাবতে হবে বলে জানান তিনি।

চীন থেকে ফটোকপিসহ এর কালি ও যন্ত্রাংশ আমদানি করে অ্যাডভান্স অফিস ইকুইপমেন্ট। এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অনেক ক্রেতা করোনার কারণে লোকসানে থাকায় মাল নিলেও ঠিকমতো দাম পরিশোধ করতে পারছেন না। বাকিতে নিচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে অন্য ব্যবসা করতে হবে।’

দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি মো. মুনতাকিম আশরাফ  বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ক্রমাগত লোকসানে অনেকে পুরনো ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। অনেকে পুরনো ব্যবসার পাশাপাশি নতুন ব্যবসা শুরুর চেষ্টা করছেন।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘করোনার কারণে অনেকের আয়-রোজগার কমেছে। অনেকের ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। এসব ব্যক্তি কষ্টে আছে। অনেকে বেঁচে থাকার তাগিদে নতুন কাজ করার চেষ্টা করছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা