kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭। ৭ আগস্ট  ২০২০। ১৬ জিলহজ ১৪৪১

হলি আর্টিজান হামলা

ফুলে ফুলে শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফুলে ফুলে শ্রদ্ধা

গুলশানে হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় নিহতদের স্মরণে গতকাল স্বজনসহ অন্যরা শ্রদ্ধা জানান। ছবি : কালের কণ্ঠ

হলি আর্টিজান বেকারিতে নৃশংস জঙ্গি হামলার চার বছর পূর্ণ হয়েছে গতকাল বুধবার। ভয়াবহ এ হামলায় নিহতদের প্রতি ফুল দিয়ে স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানানো হয়। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পুলিশ, র‌্যাব এবং কয়েকটি দেশের কূটনীতিকরা শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন। গুলশান ২-এর ৭৯ নম্বর সড়কের শেষ মাথায় গুলশান লেকের পারে হলি আর্টিজান বেকারির সামনে কাপড় টানিয়ে তৈরি করা একটি মঞ্চে ফুল দিয়ে তাঁরা নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় ফুল দিয়ে প্রথম শ্রদ্ধা জানান র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি, আমরা এক ধাপ এগিয়ে আছি। জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা যখনই কোনো পরিকল্পনা করছে, তখনই আমরা গোয়েন্দা তথ্য পেয়ে কাজ করছি, তাদের আটক করতে সক্ষম হচ্ছি। বর্তমানে জঙ্গিবাদ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

পরে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘হলি আর্টিজান হামলার পর আমরা একের পর এক জঙ্গি আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েছি। জঙ্গিদের সক্ষমতা যে পর্যায়ে ছিল সেটি এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে এসেছে। তাদের  ছোটখাটো সক্ষমতা থাকতে পারে। কিন্তু বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটানোর সক্ষমতা নেই।’ র‌্যাব ও পুলিশের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেখানে আসেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার। এরপর পৃথকভাবে ইতালি ও জাপানের রাষ্ট্রদূত ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলায় পুলিশের আত্মত্যাগকে স্মরণ করতে পুরনো গুলশান থানার সামনে ২০১৮ সালের ১ জুলাই ‘দীপ্ত শপথ’ নামে একটি ভাস্কর্য তৈরি করা হয়। গতকাল দীপ্ত শপথেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ডিএমপি কমিশনার, র‌্যাবের ডিজি, বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন, ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন বিভাগ ও গুলশান থানা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের নেতারা।

গুলশানের লেকপারের দোতলা ওই বাড়িটি এখন সুনসান। জঙ্গিদের নৃশংস হামলা এবং পরে যৌথ বাহিনীর অভিযানের কোনো চিহ্ন এখন আর সেখানে নেই। ২০১৬ সালের ১৩ নভেম্বর পুলিশ বাড়িটি মালিকদের বুঝিয়ে দেয়। মালিকদের একজন সাদাত মেহেদী গণমাধ্যমকে জানান, ভবনটিতে এখন তাঁরা বসবাস করছেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার সর্বসাধারণের জন্য স্থানটি উন্মুক্ত করা হয়নি। ফলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিদেশি কূটনীতিক ছাড়া আর কেউ এবার শ্রদ্ধা জানাতে আসেননি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা