kalerkantho

সোমবার  । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭। ৩ আগস্ট  ২০২০। ১২ জিলহজ ১৪৪১

বিশ্বজয়ে গবেষণা ও শিক্ষকতায় জোর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতকে পা

শরীফুল আলম সুমন   

২ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিশ্বজয়ে গবেষণা ও শিক্ষকতায় জোর

অনেক শিক্ষার্থীর কাছে স্বপ্নের নাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ খ্যাত শিক্ষাভূমিটি গতকাল বুধবার পা দিয়েছে শতকে। করোনার এই সময়ে জন্মদিনের জমকালো কোনো আয়োজন না থাকলেও সব আনন্দ-উচ্ছ্বাস তুলে রাখা হয়েছে শতবার্ষিকীর দিনটির জন্য। সেই দিনটি আসবে ক্যালেন্ডারের পাতা ঘুরে ঠিক এক বছর পর ২০২১ সালের ১ জুলাই। মেধা লালনের এ শিক্ষালয় যাত্রা শুরু করেছিল ১৯২১ সালের ১ জুলাই। ক্যাম্পাস শতকে পা দিলেও আশা-জাগানিয়া খ্যাতির ‘পালক’ খুব একটা গাঁথা হয়নি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুকুটে। দেশসেরা এ বিদ্যাপীঠকে বিশ্বের বুকে মুগ্ধতা ছড়াতে হলে গবেষণায় জোর ও মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আনার ব্যাপারে মত দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। একই সঙ্গে ছাত্রসংসদের নির্বাচনও অব্যাহত রাখা জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

গত ১০ জুন প্রকাশিত যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডসের (কিউএস) বিশ্বসেরা এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় স্থান পায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ৮০১ থেকে ১০০০-এর মধ্যে। গতবারের জরিপেও একই স্থানে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়টি। অথচ পাশের দেশ ভারতের ২১টি ও পাকিস্তানের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় আছে এ তালিকায়। যাদের অনেকগুলোর অবস্থানই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ওপরে। কিউএস র্যাংকিংয়ে ছয়টি সূচকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক মান নিরূপণ করা হয়। এগুলো হলো একাডেমিক খ্যাতি, চাকরির বাজারে সুনাম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, শিক্ষকপ্রতি গবেষণা-উদ্ধৃতি, আন্তর্জাতিক শিক্ষক অনুপাত ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অনুপাত।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে গবেষণা খাতে তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ওই বছর তারা ব্যয় করেছে দুই কোটি সাত লাখ টাকা। যদিও গবেষণা খাতে এই ব্যয়কে অত্যন্ত কম হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ও একাডেমিক খ্যাতিতে দিন দিন পিছিয়ে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

তবে অতীতে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বাঙালির সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিকসহ প্রতিটি অর্জনের পেছনে অনবদ্য ভূমিকা রেখেছে দেশের শ্রেষ্ঠ এই শিক্ষাঙ্গন।

একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই ছিল দেশের শিক্ষার্থীদের একমাত্র আকাঙ্ক্ষার শিক্ষাভূমি। কিন্তু যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশে এখন ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১০৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে নানা বিষয় চালু হয়েছে। ফলে উচ্চশিক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দে শিক্ষার্থীদের চাহিদায়ও ভিন্নতা এসেছে। অনেকেই এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে রেখেই বিভিন্ন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চোখ রাখছেন।

ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া উচিত। করোনা প্রতিরোধে বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই এগিয়ে এসেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেও বিজ্ঞান শিক্ষায় এগিয়ে যেতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অসাধারণ সব অর্জন আছে। পরবর্তী ১০০ বছরেও এ বিশ্ববিদ্যালয় সে পথেই হাঁটবে বলে আমার প্রত্যাশা।’ শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দেখতে হবে কে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ৩০-৪০ বছর সময় দিতে পারবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার পাশাপাশি একজন শিক্ষকের সততা ও মানবিকতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।’

শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক, রাজনৈতিক ইতিহাস খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এর পেছনে অন্যতম ভূমিকা ছিল ছাত্রসংসদের। আগে বড় বড় নেতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতেন। তাঁরা বক্তব্য দিতেন। শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে অনেক কিছু শিখত। এখনো নিয়মিত নির্বাচনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।’

 

 

মন্তব্য