kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিক গ্রেপ্তারে সম্পাদক পরিষদের নিন্দা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিক গ্রেপ্তারে সম্পাদক পরিষদের নিন্দা

করোনা মোকাবেলায় অব্যবস্থাপনার সমালোচনা করায় সম্প্রতি সম্পাদকসহ সাংবাদিক, লেখক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা ও গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অবাধ ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ বিনষ্ট ও গণমাধ্যমের কর্মীদের ওপর পুলিশের ক্রমবর্ধমান পদক্ষেপে উদ্বেগ প্রকাশ করছে সংগঠনটি। গতকাল মঙ্গলবার সম্পাদক পরিষদের সভাপতি মাহফুজ আনাম ও সাধারণ সম্পাদক নঈম নিজামের পাঠানো এক বিবৃতিতে এই নিন্দা ও উদ্বেগ জানানো হয়।

বিবৃতিতে সম্পাদক পরিষদ জানায়, গত কয়েক মাসে প্রায় ৪০ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে ৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব গ্রেপ্তারের ঘটনা এমন এক ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে স্বাভাবিক সাংবাদিকতার কাজও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সম্পাদক পরিষদ জানায়, বাংলাদেশের গণমাধ্যম জনগণকে তথ্য জানানোর পাশাপাশি সাফল্য ও প্রত্যাশার সংবাদ পরিবেশন করছে, মহামারি মোকাবেলায় অপ্রতুল পদক্ষেপের কথা তুলে ধরছে এবং পুনর্গঠনের পথ খুঁজে পেতে আলোচনার সুযোগ করে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ সময় গণমাধ্যমের ওপর আঘাত আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনাকেই বিপন্ন করবে।

সম্পাদক পরিষদ আরো জানায়, গভীর উদ্বেগের সঙ্গে আমরা আরো লক্ষ করছি, অন্য আইনের চেয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা এখন অনেক বেশি হচ্ছে। এর কারণ হলো, এ আইনের আওতায় পুলিশ পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেপ্তার করতে পারে এবং এ আইনের বেশির ভাগ ধারাই অজামিনযোগ্য। ফলে এ আইনে গ্রেপ্তার হওয়ার পর একজন ব্যক্তিকে কারাগারেই থেকে যেতে হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্পাদক পরিষদ মনে করে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন একটি গোষ্ঠীর হাতিয়ার হয়ে উঠেছে, যারা গণমাধ্যমবিরোধী ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাবিরোধী। তারা এ আইনের যথেচ্ছ ব্যবহার করছে। বিগত আড়াই বছরের অভিজ্ঞতায় আমাদের কাছে আরো স্পষ্ট হয়েছে যে মুক্ত মত ও মুক্ত গণমাধ্যমের স্বার্থে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অবশ্যই বাতিল করতে হবে।

বিবৃতিতে সম্পাদক পরিষদ বলেছে, আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার সব সাংবাদিকের অবিলম্বে মুক্তি ও তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ও ব্যক্তিস্বার্থে যাঁরা এ আইনের চরম অপব্যবহার করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা