kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ আষাঢ় ১৪২৭। ৭ জুলাই ২০২০। ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

১৩ ঘণ্টা ডুবে থাকা সুমন বেপারী সুস্থ

‘১০ মিনিট পানির নিচে ছিলাম’

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি   

১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘১০ মিনিট পানির নিচে ছিলাম’

নৌদুর্ঘটনা : বুড়িগঙ্গায় ডুবে যাওয়া লঞ্চ মর্নিং বার্ড তুলে আনা হয় বেলুন পদ্ধতি ব্যবহার করে। ছবি : মঞ্জুরুল করিম

‘আমি আর মাসুদ লঞ্চের ইঞ্জিন রুমের সামনে বসে গল্প করছিলাম। একটা শব্দ কানে আসে। কিছু বোঝার আগেই লঞ্চটা ডুবে যায়। এরপর আমার আর কিছু মনে নেই। ১৩ ঘণ্টা কিভাবে পানির নিচে ছিলাম আল্লাহই জানে। আমি একটুও জ্ঞান হারাইনি। আমার কাছে মনে হয়েছে, আমি মনে হয় ১০-১৫ মিনিট পানির নিচে ছিলাম।’ হাসপাতালের বিছানায় বসে কথাগুলো বলছিলেন সুমন বেপারী (৩২)।

গত সোমবার সকালে বুড়িগঙ্গা নদীতে ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে ৩৩ জনের লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটলেও ১৩ ঘণ্টা পর অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয় সুমনকে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগে গিয়ে কথা হয় সুমন বেপারীর সঙ্গে। জানিয়েছেন, ইঞ্জিনরুমের লাইফ টিউব ধরে ভেসে ছিলেন লঞ্চের ভেতরে একটি এয়ার পকেটে (বাতাস আটকে থাকা স্থান)। ভয় পেয়েছিলেন। তবে লঞ্চ উদ্ধার হলে বেঁচে যাবেন—এমন আশা ছিল তাঁর। লঞ্চ নড়ে উঠলে তিনি সেখান থেকে বের হয়ে আসেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সুমন এখন অনেকটাই সুস্থ।

সোমবার রাত সোয়া ১০টার দিকে সবাইকে চমকে দিয়ে অলৌকিকভাবে ভেসে ওঠেন সুমন বেপারী। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী ডুবুরিদল দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে জরুরি বিভাগে ভর্তি করে। নিম্ন রক্তচাপ ছাড়া তাঁর গুরুতর কোনো সমস্যা ছিল না। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে মিটফোর্ড হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে মেডিসিন বিভাগে স্থানান্তর করা হয়।

সুমনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ী থানার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের মৃত ফজল বেপারীর ছেলে তিনি। আট ভাই ও এক বোনের মধ্যে সুমন সবার ছোট। পেশায় ফল ব্যবসায়ী। সদরঘাট টার্মিনাল থেকে বিভিন্ন লঞ্চে ফল বিক্রি করেন। প্রতিদিনই মুন্সীগঞ্জ থেকে সকালে আসেন, সারা দিন কাজ শেষে আবার লঞ্চে করেই রাতে বাসায় চলে যান।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা