kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

শতবর্ষে ঐতিহ্যের বিদ্যাপীঠ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শতবর্ষে ঐতিহ্যের বিদ্যাপীঠ

৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা। বাঙালির সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিকসহ প্রতিটি অর্জনের পেছনে অনন্য ভূমিকা রেখেছে দেশের শ্রেষ্ঠ এই বিদ্যাপীঠ। পৃথিবীর আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের এত অর্জন নেই। জাতির বাতিঘর হিসেবে যুগ যুগ ধরে আলো বিলিয়ে চলা এই বিশ্ববিদ্যালয় আজ বুধবার পা দিচ্ছে শতবর্ষে।

১৯২১ সালের এই দিনে ঐতিহ্যবাহী এ বিশ্ববিদ্যালয়টি আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছিল। এখন শতবর্ষের ঈর্ষণীয় ঐতিহ্যে স্বমহিমায় দণ্ডায়মান ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ নামে খ্যাত এই বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২১ সালের ১ জুলাই জাতি উদ্যাপন করবে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শতবার্ষিকী। ওই বছরই উদ্যাপিত হবে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীও।

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকালে স্বাধীন জাতিসত্তার বিকাশের লক্ষ্যে বিশ শতকের দ্বিতীয় দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৯১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ। এর মাত্র তিন দিন আগে ভাইসরয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আবেদন জানিয়েছিলেন ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, ধনবাড়ির নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকসহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। ওই বছরের ২৭ মে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তে ব্যারিস্টার আর নাথানের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠিত হয়। ১৯১৩ সালে প্রকাশিত হয় নাথান কমিটির ইতিবাচক রিপোর্ট এবং ওই বছরই ডিসেম্বর মাসে সেটি অনুমোদিত হয়। ১৯১৭ সালে গঠিত স্যাডলার কমিশনও ইতিবাচক প্রস্তাব দিলে ১৯২০ সালের ১৩ মার্চ ভারতীয় আইনসভা পাস করে ‘দ্য ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট (অ্যাক্ট নং-১৩) ১৯২০’। শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় উন্মুক্ত হয় ১৯২১ সালের ১ জুলাই।

১৯৪৭ সালের পর রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত প্রদেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে এ দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার স্ফুরণ ঘটতে থাকে একের পর এক ঘটনার ধারাবাহিকতায়। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং এর পরবর্তী সব জন-আন্দোলন ও সংগ্রামে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে গৌরবময় ভূমিকা। মুক্তিযুদ্ধে এ বিশ্ববিদ্যালয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্দয় আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়। এতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ছাত্র-ছাত্রীসহ শহীদ হয়েছেন বহুজন।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এ ছাড়া বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, পদার্থবিজ্ঞানী আব্দুল মতিন চৌধুরী, পদার্থবিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়া, অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ, কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, কবি বুদ্ধদেব বসু, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল আন্দোলনের নেত্রী জাহানারা ইমাম, কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ, হুমায়ুন আজাদ, লেখক জাফর ইকবাল, ইসলামী চিন্তাবিদ আসাদুল্লাহ আল-গালিবসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী। 

প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পরে দীর্ঘদিন এই শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষকতা করেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। শতবর্ষ উপলক্ষে প্রিয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি প্রত্যাশা রেখে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যায়ের দুটি দায়িত্ব পালন করতে হয়। প্রথমটি শিক্ষাগত ও দ্বিতীয়টি সামাজিক। শিক্ষাগত জায়গায় জোর দিতে হলে যারা মেধাবী তরুণ তাদের শিক্ষকতায় আনতে হবে। গবেষণা ও প্রকাশনায় জোর দিতে হবে, শিক্ষকদের এ কাজে উৎসাহিত করতে হবে। অতীতে দেখেছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবীরা এলেও থাকেন না। শিক্ষক নিয়োগে মেধা, আগ্রহ ও যোগ্যতা বিবেচনায় নিতে হবে। মেধাবীরা এলেই শিক্ষার মান উন্নত হবে।’

চলমান করোনা সংক্রমণের মধ্যে স্বল্পপরিসরে দিবসটি উদ্যাপন করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। দিবসটি উপলক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেছেন, ‘মুজিববর্ষের এই অসামান্য কালপর্বে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর ও ব্যাপক।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা