kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

স্প্যানিশ শিখছি গান শুনছি আর সাবধান থাকছি

নিয়াজ মোরশেদ

সনৎ বাবলা   

১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্প্যানিশ শিখছি গান শুনছি আর সাবধান থাকছি

একা সময় কাটাতে তাঁর খুব খারাপ লাগে না। কিন্তু সেটা যখন আরোপিত বন্দিজীবন হয় তখন মনে চাপ বাড়ে, জীবনের আকাশে উঁকি মারে আশঙ্কার মেঘ। চার দেয়ালে আটকে থাকা জীবন ১০০ দিন পার করেও মুক্তির বার্তা দেয় না নিয়াজ মোরশেদকে, বরং ভেতরের মানুষটা সতর্কবাণী উচ্চারণ করে, ‘তোমার এখনো বাইরে যাওয়ার সময় হয়নি।’

অন্যরা যায় যাক, এই তারকা দাবাড়ুর ঘরের বাইরে পা ফেলা নিষেধ! দেশে করোনার আগ্রাসন প্রবল, জীবনের আপাত রক্ষাকবচ লকডাউন হলেও জীবিকার সংকটে সেই জীবন মুষড়ে পড়ছে বিষাদে। তাই লকডাউন উঠিয়ে সরকার কিছু বিধি-নিষেধের মধ্যে মানুষকে আবার জীবনের স্রোতে ফেরানোর চেষ্টা করছে। মানুষও তার মতো সুরক্ষিত থেকে ঘরে-বাইরে করছে। কিন্তু গ্র্যান্ড মাস্টার নিয়াজ মোরশেদের সেই উপায় নেই। ঘর থেকে দুই পা ফেলে একবার আকাশের দিকে চেয়ে বুক ভরে নিঃশ্বাস নেওয়ার সাধ্য নেই, ‘করোনার এই দুঃসময়ে নিজেকে নিয়ে আমার ভয়টা বেশি। ছোটবেলা থেকেই আমার ফুসফুস দুর্বল, কোনো ফ্লু হলে কিংবা ছোটখাটো অসুখের প্রভাব শরীরে খুব টের পাই। তাই অন্যদের তুলনায় করোনার সংক্রমণ আমার জন্য খুব ভীতিকর হবে।’ দুয়ারে করোনা দাঁড়িয়ে দেখার পর কেউ সঙ্গিন ফুসফুস নিয়ে লড়াইয়ে নামার দুঃসাহস দেখাতে পারে না। স্যানিটাইজারে ধোয়া, মাস্কে মোড়ানো এক জীবন পার করছেন উপমহাদেশের প্রথম গ্র্যান্ড মাস্টার।

হালের দুর্যোগে এ এক অদ্ভুত জীবন ব্যবস্থা। তাই বলে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকা যায় না, মানুষ তার মতো করে দুঃসমর পার করার উপায় খুঁজে বের করে। দেশের তারকা দাবাড়ুও খুঁজে নিয়েছেন উপভোগের কিছু অনুষঙ্গ, ‘সময়টা খারাপ কাটছে না। নিজের শখগুলো নিয়ে মেতে আছি এ বন্দি সময়ে। এখন যেমন স্প্যানিশ ভাষা শিখছি, অনেকখানি শিখে ফেলেছি। সুবাদে স্প্যানিশ গানগুলো শুনে মজা পাচ্ছি—গানের ভাষা আলাদা, তবে দুই প্রান্তের মানুষের ভাব যেন কোথাও না কোথাও গিয়ে মিলে যায়। এ ছাড়া অন্যান্য মিউজিকের কাজ করছি, বিভিন্ন ডকুমেন্টারি দেখছি।’ এর মধ্যে সব সময় নতুন কিছু জানা ও শেখার আগ্রহ প্রবল। বিশেষ করে বিভিন্ন ভাষার প্রতি অনুরাগ তাঁর আগে থেকেই। সুবাদে ফ্রেঞ্চ, তুর্কি ও খানিকটা রুশ ভাষার চর্চা। সঙ্গে লকডাউনে যোগ হয়েছে স্প্যানিশ ভাষা। এটা শেখার কারণ নেহাত কৌতূহল নয়, পেছনে কিছু কার্যকারণও আছে, ‘আমার আমেরিকায় পড়ুয়া ছেলে স্প্যানিশ ভাষায় দিব্যি গল্প করে তার দক্ষিণ আমেরিকার বন্ধুদের সঙ্গে। মাথামুণ্ডু বুঝি না বলে তখন আমি ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকি। ভাষাটা শেখা থাকলে আর এই সমস্যা হয় না। ছেলের সঙ্গে ফোনে এখন এই ভাষাতেই কথা বলি...। তা ছাড়া দক্ষিণ আমেরিকা ও উত্তর আফ্রিকা দেখা হয়নি। নতুন জায়গায় নতুন মানুষ ও সংস্কৃতির সঙ্গ আমি খুব উপভোগ করি। ভাষাটা জানা থাকলে ভ্রমণ তথা দেশ দেখা ও মানুষকে জানা সম্পূর্ণ হয়।’

ঘোর অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটছে সবার জীবন। পৃথিবী আবার কখন তার মায়াভরা রূপ নিয়ে সবার সামনে উন্মুক্ত হবে, কে জানে। হয়তো একদিন হবে, তত দিনে যে সময় অনেক গড়িয়ে যাবে। দেশের প্রথম গ্র্যান্ড মাস্টারের জীবনের বাকি সময়টুকু তাই অনেক মূল্যবান, ‘জীবনের কঠিন সময় পার করছি। করোনাকাল পার করতে গিয়ে বুঝছি, জীবনের বাকি সময়টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বয়স এখনই ৫৪ হয়ে গেছে, আর কিছু সময় হয়তো পাব। এর মধ্যে অনেক কাজ করতে হবে, অনেক কিছু দেখতে হবে।’ করোনা-উত্তরকালে তাই নিজের অসম্পূর্ণ জীবনকে নিয়ে যেতে চান পূর্ণতার পথে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা