kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

করোনার ধাক্কা

বন্ধ হচ্ছে বইয়ের দোকান ধুঁকছে প্রকাশনা ব্যবসা

আজিজুল পারভেজ   

২২ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বন্ধ হচ্ছে বইয়ের দোকান ধুঁকছে প্রকাশনা ব্যবসা

বইয়ের দোকান কবিতাক্যাফেতে এমন আড্ডা এখন শুধুই স্মৃতি। — ফাইল ছবি

করোনা মহামারির ধাক্কা লেগেছে রাজধানীর জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রগুলোতেও। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বইয়ের দোকান এবং বইকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সৃজনশীল আড্ডার জায়গা বুকক্যাফে। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে লড়ছে সৃজনশীল প্রকাশনা ব্যবসাও। এ অবস্থায় সৃজনশীল প্রকাশনা ব্যবসা ও বইয়ের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা চাইছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বিজ্ঞাপন

দুঃসংবাদ হিসেবে প্রথমেই এসেছে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের বুকক্যাফে ‘দীপনপুর’ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কাঁটাবনের ‘কবিতাক্যাফে’, বইয়ের দোকান মধ্যমা ও নালন্দা, বনানীর পেন্সিল। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে তিন-চার মাস ধরে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ। কোনো আয় নেই। দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতনসহ অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ সম্ভব না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

নৃশংস হত্যার শিকার প্রকাশক ফয়সল আরেফীন দীপনের স্মৃতি রক্ষায় তাঁর সহধর্মিণী রাজিয়া রহমান জলি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বুকক্যাফে ‘দীপনপুর’। ২০১৭ সালের ১৩ জুলাই দীপনের ৪৫তম জন্মদিনে যাত্রা করে প্রতিষ্ঠানটি। এখানে বই বিক্রির পাশাপাশি আড্ডা, অনুষ্ঠান আয়োজন ও খাবারদাবারের ব্যবস্থা ছিল। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে টানা তিন মাস বন্ধ থাকায় আর্থিক সংকটে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। উদ্যোক্তা রাজিয়া রহমান জানান, এই অচলাবস্থার মধ্যে আর চালাতে পারছেন না। চলতি মাস শেষে ‘দীপনপুর’ বন্ধ করা ছাড়া উপায় দেখছেন না।

২০১৮ সালে এক হাজার ১০০ বর্গফুট জায়গা নিয়ে যাত্রা করে ‘কবিতা ক্যাফে’। ছিল কয়েক হাজার বইয়ের সম্ভার। পাশাপাশি ক্যাফেতে ছিল হালকা নাশতা থেকে শুরু করে মধ্যাহ্নে খাবারের ব্যবস্থা। ছিল অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যবস্থাও। সপ্তাহে দু-তিনটি শিল্প-সাহিত্যভিত্তিক অনুষ্ঠান হতো। কবিতা ক্যাফের পরিচালক নাহিদা আশরাফি জানান, কর্মীদের বেতন ও ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে এক লাখ ২০ হাজার টাকার মতো ব্যয় হয়। করোনার ধাক্কায় অনুষ্ঠানাদি বন্ধ। ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

নালন্দা প্রকাশনীর কাঁটাবনের আউটলেটও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। প্রকাশক জুয়েল রেদোয়ান বলেন, মাসে ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা খরচ! অথচ চার মাস ধরে দোকানে কোনো লোক আসে না! তাই বন্ধ করে দিতে হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তরুণ কবি আলমগীর শাহরিয়ার লিখেছেন, ‘দীপনপুর করোনাকালে বিপর্যস্ত হয়ে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলার ঘোষণা দিয়েছে। কথা হলো, অনেকেই প্রণোদনা পায়, তাহলে করোনাকালে বিপর্যস্ত বইয়ের দোকানগুলো কেন সরকারের সহায়তা পাবে না?’

প্রকাশক খোন্দকার সোহেল বলেন, “কাঁটাবনের কেবল মধ্যমা কিংবা নালন্দা নয়, আরো বেশ কয়েকটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান তাদের আউটলেট বন্ধ করে দিচ্ছে। নীলক্ষেতের পুরনো বইয়ের দোকান ‘মোস্তফা বইঘর’ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। একজন প্রকাশক তাঁর প্রতিষ্ঠানের একমাত্র কম্পিউটার বিক্রি করে দিয়েছেন সংসারের খরচ মেটানোর জন্য বলে জেনেছি। ”

আজিজ সুপার মার্কেটের উৎস প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী মোস্তফা সেলিম জানান, সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থাগুলো বেঁচে থাকতে নানা কৌশল নিচ্ছে। অনেকে কর্মচারী ছাঁটাই করছে। কেউ বা ব্যয় কমানোর জন্য গুদাম বন্ধ করে দিয়ে বই অফিস কিংবা বাসায় নিয়ে যাচ্ছে।

প্রকাশক রবীন আহসান বলেন, ‘শ্রাবণ প্রকাশনীর মাসিক ব্যয় আড়াই লাখ টাকা। তা থেকে এক লাখ টাকা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কোনো কর্মচারী ছাঁটাই হচ্ছে না। গোডাউন বন্ধ করে সব বই অফিসে রাখার ব্যবস্থাসহ আরো নানা দিকে ব্যয় বন্ধ করা হয়েছে। শ্রাবণ বইগাড়িটা বন্ধ করে দিলে আরো ৭৫ হাজার টাকা ব্যয় কমত; কিন্তু সেটা করছি না। কারণ বইয়ের পাঠক তৈরিতে শ্রাবণ বইগাড়ি আমার জীবনের লড়াইয়ের অংশ!’



সাতদিনের সেরা