kalerkantho

রবিবার । ২১ আষাঢ় ১৪২৭। ৫ জুলাই ২০২০। ১৩ জিলকদ  ১৪৪১

‘জনসমক্ষে মাস্ক অবশ্যই’

বৈশ্বিক মৃত্যু চার লাখ ছাড়াল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



বৈশ্বিক মৃত্যু চার লাখ ছাড়াল

নভেল করোনাভাইরাস মহামারিতে মৃতের সংখ্যা চার লাখ ছাড়াল। ভাইরাসটি শনাক্তের পাঁচ মাসের মাথায় এই বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটল। ইতিমধ্যে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা পৌঁছেছে ৬৯ লাখে। এর বাইরে উপসর্গহীন কভিড-১৯ রোগীদের বেশির ভাগই নথিভুক্ত হয়নি বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে স্বস্তির খবর যে চলতি সপ্তাহে রেকর্ডসংখ্যক করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি সেরে উঠেছে। ভাইরাসটিকে ঠেকাতে বর্তমানে শতাধিক প্রতিষেধক প্রকল্প নিয়ে কাজ চলছে। চলতি বছরের মধ্যেই কার্যকর টিকা উদ্ভাবনের ব্যাপারে আশাবাদী অনেক গবেষক ও প্রতিষ্ঠান।

এদিকে আগের অবস্থান পরিবর্তন করে জনসমক্ষে সাধারণ মানুষকে কাপড়ের মাস্ক ব্যবহার করতে বলেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)। গত শুক্রবার সংস্থার নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয় না যেমন—গণপরিবহন, বিপণিকেন্দ্র, শরণার্থী শিবিরের মতো জায়গাগুলোতে মাস্ক দিয়ে অবশ্যই মুখ ঢাকতে হবে। মেডিক্যাল মাস্ক কেবল স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য সংরক্ষণ থাকা উচিত। তবে ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি যাঁদের শারীরিক অবস্থা খারাপ তাঁদের সুরক্ষার জন্য মেডিক্যাল গ্রেডের মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আর সাধারণ মানুষকে কাপড়ের মাস্ক পরতে বলছে ডাব্লিউএইচও। অবশ্য এ পরামর্শের আগেই বেশ কিছু দেশ জনসমক্ষে নাগরিকদের চলাচলের ক্ষেত্রে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করেছে।

করোনাভাইরাস মহামারির শুরুতে ডাব্লিউএইচও মাস্ক পরার ওপর জোর দেয়নি। সংস্থাটি তখন দুই দল মানুষের মাস্ক পরার পরামর্শ দেয়। এর একদল যারা অসুস্থ বা যাদের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিয়েছে। অন্যদলে আছে স্বাস্থ্যকর্মীরা, যাঁরা করোনাভাইরাস থাকতে পারে এমন ব্যক্তিদের চিকিৎসা বা সেবায় নিয়োজিত। তবে ডাব্লিউএইচও এখন বলছে, জনসমাগমের এলাকাতেও সবার মাস্ক পরে থাকা উচিত। কারণ মাস্ক মুখ থেকে বের হওয়া ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জলকণার মাধ্যমে ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে পারে।

কভিড-১৯ নিয়ে ডাব্লিউএইচওর টেকনিক্যাল প্রধান বিশেষজ্ঞ ড. মারিয়া ফন কেরকোভে বলেন, ‘আমরা সরকারগুলোকে সাধারণ জনগণকে মাস্ক পরতে উৎসাহ দিতে পরামর্শ দিচ্ছি।’ তবে সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গ্রেব্রিয়েসিস মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘শুধু মাস্ক আপনাকে কভিড-১৯ থেকে রক্ষা করতে পারবে না।’

মৃত্যু চার লাখ ছাড়াল : সংক্রমণ শুরুর পাঁচ মাসের মাথায় চার লাখের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিল করোনাভাইরাস। এর আগে তিন লাখ মৃত্যু নথিভুক্ত হয় গত ১৪ মে। অর্থাৎ মাত্র ২৩ দিনের মাথায় আরো এক লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটল। দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু গুনতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে; প্রায় এক লাখ ১১ হাজার ৬২৭। দেশটিতে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। মৃত্যুতে এরপরে আছে যুক্তরাজ্য; সেখানে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ জীবন হারিয়েছে। লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে প্রাণ হারিয়েছে ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ। আর এখন পর্যন্ত প্রাণহানি ঘটেনি উগান্ডা, ভিয়েতনাম, মঙ্গোলিয়াসহ ৩০ দেশ-অঞ্চলে।

বৈশ্বিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার বলছে, অঞ্চল হিসেবে সবচেয়ে মৃত্যু হয়েছে ইউরোপে। সেখানে করোনায় অন্তত এক লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর আছে উত্তর আমেরিকা। সেখানে মৃতের সংখ্যা এক লাখ ৩৪ হাজার ২৯৫। এশিয়ায় প্রাণ গেছে ৩৪ হাজার ৩১৩ জনের। দক্ষিণ আমেরিকায় এই সংখ্যা ৪৭ হাজার ৬৫৭। আফ্রিকায় মৃত্যু হয়েছে চার হাজার ৯৭৬ জনের। ওশানিয়া অঞ্চলে মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে কম; ১২৪।

সার্বিক পরিস্থিতি : ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাব অনুযায়ী, গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল সোয়া ৬৯ লাখ।  মৃত্যু হয়েছে অন্তত চার লাখ মানুষের। সুস্থ হয়েছে প্রায় ৩৪ লাখ ব্যক্তি। চিকিৎসাধীন আছে ৩১ লাখ ২৯ হাজার ২১২ জন। এদের মধ্যে মৃদু উপসর্গ রয়েছে ৩০ লাখ ৭৫ হাজার ৫০৭ জনের (৯৮ শতাংশ)। বাকি ৫৩ হাজার ৭০৫ জনের (২ শতাংশ) অবস্থা সংকটাপন্ন। বৈশ্বিক মৃত্যুর হার ১১ শতাংশ।

আক্রান্তে ষষ্ঠ স্থানে ভারত, অফিস খুলছে কাল : ভারতে এক দিনে আরো ৯ হাজার ৮৮৭ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এ সময়ে প্রাণ গেছে ২৯৪ জনের। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় প্রতিবেশী দেশটিতে করোনার এই চিত্র মিলেছে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ২৯৪ জনের মৃত্যু হওয়ায় ভারতে এখনো পর্যন্ত করোনা প্রাণ কেড়েছে ছয় হাজার ৬৪২ জনের। সংক্রমণের বিচারে ইতালিকে টপকে ৬ নম্বরে এখন ভারত, সংক্রমিতের সংখ্যা দুই লাখ ৩৬ হাজারের বেশি। মাত্র এক সপ্তাহ আগেই ভারত চিনকে টপকে ৯ নম্বরে ছিল, আর এই কদিনেই দেশ পৌঁছে গেল ৬ নম্বরে। এরই মধ্যে আগামীকাল সোমবার থেকে দেশটির অফিস খুলতে যাচ্ছে। পাশাপাশি বেশির ভাগ শপিং মল, রেস্তোরাঁ, হোটেল ও ধর্মীয় উপাসনালয় খোলার অনুমতি দিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। তবে সব জায়গায় মেনে চলতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা কড়া নির্দেশাবলি। ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ধর্মীয় স্থান ও শপিং মলগুলোয় সীমিতসংখ্যক মানুষকে প্রবেশে অনুমতি দেওয়া হবে। ধর্মীয় স্থানগুলোয় কোনোভাবেই প্রতিমা বা দেবালয়কে স্পর্শ করা যাবে না। অফিস খুললেও আপাতত কনটেইনমেন্ট জোনের কোনো বাসিন্দা কাজে যোগ দিতে পারবে না।

ডাব্লিউএইচও থেকে প্রত্যাহারের হুমকি ব্রাজিলের : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ডাব্লিউএইচওর বিরুদ্ধে ‘মতাদর্শগত পক্ষপাতের’ অভিযোগ তুলেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসেনারো। শুক্রবার তিনি এই অভিযোগ তোলার পাশাপাশি ব্রাজিলকে সংস্থা থেকে সড়িয়ে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন ।

কট্টর ডানপন্থী এই নেতা প্রেসিডেন্ট প্যালেসের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি এ মুহূর্তে আপনাদের জানাচ্ছি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ডাব্লিউএইচও ত্যাগ করেছে। ভবিষ্যতে ডাব্লিউএইচও ‘মতাদর্শগত পক্ষপাতমুক্ত’ হয়ে কাজ করবে, না হয় আমরাও সরে যাব।’

বোলসোনারোকে অনেকেই ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনা করে থাকেন। করোনা নিয়ে দুজনেই একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে এসেছেন। ভাইরাসসংক্রান্ত জটিল পরিস্থিতিকে দুজনই প্রাথমিক অবস্থায় সেভাবে গুরুত্ব দেননি। তা ছাড়া লকডাউন বা এ জাতীয় ব্যবস্থার তাঁরা সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্পের মতো, বোলসোনারোও টুইট করেছেন, ক্লোরোকুইন ও হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন জাতীয় ওষুধ কভিড-১৯ চিকিৎসায় দারুণ কার্যকর। সূত্র : ডাব্লিউএইচও, এনডিটিভি, এএফপি।

মন্তব্য