kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

ডিএনসিসির ৭০% বাড়িতে এডিসের উপযুক্ত পরিবেশ

প্রথম দিন ১১৯৬৯ বাড়ি-স্থাপনা পরিদর্শন ♦ ১৩১টিতে পাওয়া গেছে এডিসের লার্ভা ♦ আজ থেকে মাঠে নামছে ডিএসসিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডিএনসিসির ৭০% বাড়িতে এডিসের উপযুক্ত পরিবেশ

প্রজনন মৌসুম শুরুর আগেই এডিস মশার বিরুদ্ধে সমন্বিত চিরুনি অভিযান শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। গতকাল শনিবার থেকে শুরু হওয়া ১০ দিনের এই অভিযানের প্রথম দিন পরিদর্শন করা ৭০ শতাংশ বাড়ি ও স্থাপনায় এডিসের বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ পেয়েছে সংস্থাটি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের বাহক এডিস মশার বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান শুরু হচ্ছে আজ রবিবার। রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে একযোগে এই অভিযান পরিচালনার বিষয়টিকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কীটতত্ত্ববিদরা। এতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

ডিএনসিসি সূত্র জানিয়েছে, গতকাল অভিযানের প্রথম দিনে মোট ১১ হাজার ৯৬৯ বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন সিটি করপোরেশনের কর্মীরা। এর মধ্যে আট হাজার ৩৮০টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ পাওয়া গেছে। ১৩১টি বাড়িতে পাওয়া গেছে এডিসের লার্ভা। এর আগে এডিসের লার্ভা পাওয়ায় বেশ কয়েকটি ভবন মালিককে সতর্ক করা হয়েছিল। দ্বিতীয় দফার অভিযানে আবারও আটটি ভবনে এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ৫৯ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন সংস্থাটির ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এদিকে ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে এডিসের বিরুদ্ধে আজ চিরুনি অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে ডিএসসিসি। মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এর উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে। আলাদা মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনার চেয়ে একসঙ্গে দুই সিটি করপোরেশনের সমন্বিত চিরুনি অভিযানে ভালো ফল আসবে বলে মনে করছেন কীটতত্ত্ববিদরা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মশকনিধন কাজে নগরবাসীকে সম্পৃক্ত করা গেলে ভালো ফল আসে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন চিরুনি অভিযানের মাধ্যমে মূলত সচেতনতা সৃষ্টি এবং মশার উৎসস্থল ধ্বংসে নগরবাসীকে অবহিত করবে। একসঙ্গে অভিযানটি শুরু হওয়ায় ফল ভালো আসবে। তবে এর বাইরে মশা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় কার্যকরী ওষুধ মজুদ রাখতে হবে।’  

ডিএনসিসি জানিয়েছে, শুক্রবার বাদে সপ্তাহের প্রতিদিনই চলবে তাদের চিরুনি অভিযান। এবারের অভিযানে প্রতিটি ওয়ার্ডকে ১০টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। আবার প্রতিটি সেক্টরকে ১০টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিদিন প্রতিটি ওয়ার্ডের একটি সেক্টরে অর্থাৎ ১০টি সাব-সেক্টরে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এভাবে আগামী ১০ দিনে সিটি করপোরেশনের সব কটি ওয়ার্ডে অভিযান সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ডিএনসিসি।

প্রতিটি সাব-সেক্টরে ডিএনসিসির চারজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও একজন মশকনিধনকর্মীসহ প্রতি ওয়ার্ডে মোট ৫০ জন করে কর্মী কাজ করছেন। গতকাল চিরুনি অভিযানের সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ৯ জন কীটতত্ত্ববিদ, ডিএনসিসির তিনজন কীটতত্ত্ববিদ এবং স্বাস্থ্য বিভাগ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের সব তথ্য ডিএনসিসির ডাটাবেসে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। পরে মশক নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে কোনো কৌশল নির্ধারণ করতে এই ডাটাবেসের তথ্য ব্যবহার করা হবে।

ডিএনসিসির উপপ্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তফা সারোয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চিরুনি অভিযান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত একযোগে পরিচালনা করা হচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে। এ ছাড়া বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। প্রথমবার কোনো বাড়ি বা স্থাপনায় এডিসের লার্ভা পাওয়া গেলে সতর্ক করা হচ্ছে। কিন্তু দ্বিতীয়বার লার্ভা পাওয়া গেলে জরিমানার আওতায় আনা হচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা