kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় হাত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতের তাগিদ

► বিশ্বে এক দিনে সর্বোচ্চ এক লাখ ৩০ হাজার শনাক্ত
► ভারতে নতুন রোগী ১০ হাজার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় হাত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতের তাগিদ

কভিড-১৯ মোকাবেলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে হাত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে তাগিদ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)। সংস্থাটির এ অঞ্চলের পরিচালক ড. পুনম ক্ষেত্রপাল সিং গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানিয়েছেন। করোনাকালে গতকাল পালিত বিশ্ব ধাত্রী দিবস সামনে রেখে এ বিবৃতি দেওয়া হয়।

ডাব্লিউএইচও ও ইউনিসেফ পরিচালিত সমীক্ষা তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ৩৫ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হাত পরিচ্ছন্নতা সুবিধার অভাব আছে। স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো যাতে কভিড-১৯ সংক্রমণের কেন্দ্রস্থল না হয়ে ওঠে, সে জন্য হাতের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া জীবাণুবাহিত অন্যান্য রোগে বিশ্বে প্রতিবছর ৮০ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে। এ বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঠেকাতে হাতের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা জরুরি। করোনা মহামারিতে নিরাপদ সেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকর্মী, বিশেষ করে নার্স ও মিডওয়াইফদের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও উপকরণ সরবরাহ করতে হবে।

ড. পুনম ক্ষেত্রপাল সিং বলেন, সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের প্রবেশ ও বহির্গমনস্থলসহ সবখানে হাত পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) পরিধান ও খোলার স্থান, টয়লেট, মেডিক্যাল বর্জ্যের ভাগাড়—এসব জায়গায় হাতের স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই মানতে হবে।

তিনি আরো বলেন, করোনা মহামারির পরবর্তী ধাপ মোকাবেলায় সরকারি-বেসরকারি বাণিজ্যিক ভবন, বাস ও ট্রেন স্টেশন, বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দরে সবাই যাতে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে হাত পরিষ্কার করে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। হাত পরিষ্কারে সাবান-পানি কিংবা হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

এক দিনে সর্বোচ্চ করোনা রোগী শনাক্ত

বৈশ্বিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের উপাত্ত বলছে, এক সপ্তাহ ধরে বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতিতে মিশ্র অবস্থা দেখা যাচ্ছে। গত ডিসেম্বরে চীনের উহানে নতুন করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পাঁচ মাসের মাথায় গত বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদিন এক লাখ ২৯ হাজার ৯৯৮ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি ধরা পড়ে। এর আগে গত ২৯ মে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (এক লাখ ২৫ হাজার ৫১১) নতুন রোগী শনাক্ত হয়। অন্যদিকে এক দিনে সর্বোচ্চসংখ্যক ব্যক্তি সুস্থ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে একই সপ্তায়। গত ৩ জুন রেকর্ড এক লাখ ৫৩ হাজার ৬৯৯ জন কভিড-১৯ থেকে সেরে ওঠেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চসংখ্যক রোগী সুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটে ৩১ মে। এদিন এক লাখ ৯ হাজার ৪৫১ জন ব্যক্তি সুস্থ হয়েছেন বলে বিভিন্ন রাষ্ট্র নথিভুক্ত করেছে।

প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস এখন পর্যন্ত বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৬৭ লাখ ৬২ হাজার ছাড়িয়েছে। এ সময় মারা গেছে তিন লাখ ৯৪ হাজারের বেশি মানুষ। আর সুস্থ হয়েছে পৌনে ৩৩ লাখ। বিশ্বে বর্তমানে সাড়ে ৫৫ হাজার রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন, যা চিকিৎসাধীন ব্যক্তির ২ শতাংশ।

ভারতে নতুন রোগী ১০ হাজার

ভারতে এক দিনে প্রায় ১০ হাজার নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৯ হাজার ৮৫১ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল দুই লাখ ২৬ হাজার ৭৭০ জন।

এদিকে এ সময়ের মধ্যে দেশটিতে নতুন করে আরো ২৭৩ জনের প্রাণহানি হয়েছে। তাতে করে ভারতে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৩৪৮ জনে। দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

করোনা মহামারিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে ভারত বিশ্বে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে। এদিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম স্থানে, ব্রাজিল দ্বিতীয় স্থানে, রাশিয়া তৃতীয় স্থানে, যুক্তরাজ্য চতুর্থ স্থানে, স্পেন পঞ্চম স্থানে ও ইতালি ষষ্ঠ স্থানে আছে।

ভারতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে এক লাখ ৯ হাজার ৪৬১ জন সুস্থ হয়ে উঠায় তাদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত সক্রিয় রোগীর সংখ্যা এক লাখ ১০ হাজার ৯৬০ জন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র এক কর্মকর্তা জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে এ পর্যন্ত ৪৮.২৭ শতাংশ রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন। ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর মধ্যে বিদেশি নাগরিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২৭৩ জনের মধ্যে মহারাষ্ট্রের আছেন ১২৩ জন। এ ছাড়া দিল্লিতে ৪৪ জন, গুজরাটে ৩৩ জন, উত্তর প্রদেশে ১৬ জন, তামিলনাড়ুতে ১২ জন, পশ্চিমবঙ্গে ১০ জন, তেলেঙ্গানা ও মধ্যপ্রদেশে ৬ জন করে, কর্ণাটক, বিহার ও রাজস্থানে ৪ জন করে, অন্ধ্রপ্রদেশ ও কেরালায় ৩ জন করে, উত্তরাখণ্ডে ২ জন এবং জম্মু ও কাশ্মীর, হরিয়ানা ও ঝাড়খণ্ডে ১ জন করে মারা গেছেন।

এদিকে সংক্রমণের তীব্রতা সত্ত্বেও ভারতে আগামী সোমবার থেকে খুলে যাচ্ছে সব ধরনের অফিস, শপিং মল, উপাসনালয় এবং রেস্তোরাঁ। করোনাভাইরাস ঠেকাতে গত মার্চ থেকে জারি করা দীর্ঘ লকডাউনে ধসে পড়া অর্থনীতি সচল করতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখন সব কিছু সচল করে দিয়ে লোকজনকে কাজে ফেরাচ্ছেন। তবে ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার জারি রাখছে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি।

শনাক্তে চীনকে ছাড়াল পাকিস্তান

পাকিস্তানে শনাক্ত হওয়া কভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা চীনে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সন্ধ্যা নাগাদ পাকিস্তানে ৮৯ হাজার ২৪৯ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। একই সময়ে চীনের সরকারি হিসাবে দেশটিতে মোট কভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ছিল ৮৩ হাজার ২৭।

কড়াকড়ি শিথিলের পর প্রতিবেশী দেশগুলোর মতো পাকিস্তানেও নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। বৃহস্পতিবারে দেশটিতে কভিড-১৯-এ আক্রান্ত ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক ডন। সব মিলিয়ে পাকিস্তানে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮১৬-তে।

মৃত্যুতে ইতালিকে ছাড়াল ব্রাজিল

লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে করোনায় প্রাণহানি ৩৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এ সংখ্যা করোনায় অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত ইউরোপের দেশ ইতালির চেয়েও বেশি। বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস অন্তত এক হাজার ৪৭৩ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান বলছে, গতকাল সন্ধ্যার মধ্যে ব্রাজিলে কভিড-১৯ রোগে প্রাণহানি ৩৪ হাজার ছাড়িয়েছে। একই সময় পর্যন্ত ইতালিতে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে ৩৩ হাজার ৬৮৯ জনের।

ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রের পর লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে এখন ভাইরাসটি দাপট দেখাচ্ছে। ব্রাজিল ছাড়াও ওই অঞ্চলের মেক্সিকো, পেরু ও চিলির পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সূত্র : ডাব্লিউএইচও, এএফপি, বিবিসি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা