kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

লিবিয়ায় বন্দিশালায় আটকা শত শত বাংলাদেশি

► বনানী থানায় ৩৩ জনের নামে মামলা
► বিদেশে থাকা আসামিদের ধরতে চাওয়া হয়েছে ইন্টারপোলের সহযোগিতা

ওমর ফারুক   

৬ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লিবিয়ায় বন্দিশালায় আটকা শত শত বাংলাদেশি

লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যার ঘটনা অনুসন্ধান করতে নেমে সেখানকার বন্দিশালায় শত শত বাংলাদেশি আটক থাকার কথা জানাচ্ছেন তদন্তকারীরা। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত মানবপাচারকারীদের ধরতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ইন্টারপোলের মাধ্যমে বিদেশে থাকা পাচারকারীদের গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত ২৮ মে লিবিয়ার মিজদাহ শহরে মানবপাচারের শিকার ২৬ বাংলাদেশি নিহত হন। আহত হন আরো ১১ জন। এ ঘটনায় ঢাকা, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর ও মাগুরায় ১২টি মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি ও র‌্যাব। এসব মামলার সঙ্গে যুক্ত তদন্তকারীরা বলছেন, লিবিয়ার বন্দিশালায় শত শত বাংলাদেশি মানবেতর অবস্থায় আছেন। সেসব বন্দিশালা সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি জানতে লিবিয়ায় আহত ১১ জনের সঙ্গে কথা বলা হবে। তদন্তকারীদের একটি দল লিবিয়া যেতে পারে।

তদন্তের স্বার্থে লিবিয়ায় মুক্তিপণ দিয়ে দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। পাশাপাশি নিখোঁজ বাংলাদেশিদের তালিকা করা হচ্ছে।

সিআইডির ডিআইজি ইমতিয়াজ জানান, লিবিয়ায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পল্টন ও বনানী থানায় সিআইডি বাদী হয়ে তিনটি মামলা করেছে। পল্টন থানায় দায়ের করা একটি মামলার আসামি ৩৮ জন। আরেকটি মামলায় আসামি করা হয়েছে ১৬ জনকে। আর বনানী থানার মামলার আসামিসংখ্যা ৩৩ জন। এ ছাড়া ৪০-৫০ জন অজ্ঞাত আসামি রয়েছে মামলাগুলোতে। 

তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, পাচারকারী চক্রের গডফাদারদের ধরতে পারলে নিখোঁজ ও বন্দিশালায় থাকা বাংলাদেশিদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। সেসব তথ্য সংগ্রহ করছে সিআইডি। সিআইডি প্রতিটি মামলায় ছায়া তদন্ত শুরু করেছে।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর পল্টন থানায় ১৬ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন শরীয়তপুরের এক ব্যক্তি। মামলাটি তন্তদের দায়িত্ব পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগ। গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।’ এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আসামিরা ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ঢাকায় টাকা নিয়েছে। আর এখানেই তাদের কাগজপত্র তৈরি করা হয়েছে। এ কারণে ঘটনাস্থল হিসেবে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।’ 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লিবিয়ায় বাংলাদেশিদের হত্যার ঘটনায় সারা দেশে মানবপাচারকারীদের শনাক্ত করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই মধ্যে মানবপাচার চক্রের হোতা কামাল উদ্দিন ওরফে হাজী কামালকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ ও ঢাকা থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বুধবার গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে সেন্টু শিকদার ও নার্গিস আক্তার নামে দুই মানবপাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করবে সিআইডি।

সিআইডির ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মানবপাচারকরীরা মানুষকে জিম্মি করে যে টাকা কামাই করেছে, তা তারা ভোগ করতে পারবে না। তাদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে এ ব্যাপারে কাজ শুরু হয়েছে।’

বনানী থানায় মামলা : রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত বেঙ্গল টাইগার্স ওভারসিস কম্পানির বিরুদ্ধে লিবিয়ায় মানবপাচারের অভিযোগে মামলা হয়েছে। সিআইডির হিউম্যান ট্রাফিকিং অ্যান্ড ভাইস স্কোয়াড অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের উপপরিদর্শক কামরুজ্জামান বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার বনানী থানায় মামলাটি করেন। মামলায় ৩৩ জনের নামে ও অচেনা ৬০-৬৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে একজন মিসর, একজন দুবাই ও একজন লিবিয়ায় অবস্থান করছে। মানবপাচারকারীদের মধ্যে নোয়াখালীর তিন ভাই নিজেদের গুডলাক ছদ্মনাম ব্যবহার করত বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। আসামিরা হলেন—বেঙ্গল টাইগার ওভারসিস লিমিটেডের মালিক মাদারীপুরের জুলহাস শেখ, নুর হোসেন শেখ, রবি, ইলিয়াস, কিশোরগঞ্জের ভৈরবের জাফর, শাওন, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের রব মোড়ল, কুষ্টিয়ার হাজী কামাল, ফরিদপুরের বক্কর সর্দার, রুজভেল্ট ট্রাভেল এজেন্সির পরিচালক আকবর হোসেন, রফিকুল ইসলাম সেলিম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হোসাইন, ফরিদপুরের আবদুর রহমান তৌহিদ, নোয়াখালীর কাজী শরিফ, কাজী ইসমাইল হোসেন (বর্তমানে মিসরে), কুষ্টিয়ার সাদ্দাম হোসেন (বর্তমানে দুবাইয়ে), কুমিল্লার সনাতন দাস ওরফে দাদা, আবদুল্লাহ  (বর্তমানে লিবিয়ার বেনগাজীতে আছে), মাদারীপুরের নজরুল, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির কালিয়াপুর গ্রামের তিন ভাই রুবেল মির্জা, নাসির উদ্দিন মির্জা ও রিপন মির্জা (তাদের ছদ্মনাম গুডলাক)। এ ছাড়া আরো আসামিরা হলেন—মাদারীপুরের মিরাজ হাওলাদার, রাসেল মীর, রাজন ওরফে বুলেট, মোমিন, কুমিল্লার চান্দিনার শরিফ হোসেন, সোহেল পাঞ্জারী, হারুন, জাকির মিয়া ও নড়াইলের  কালিয়ার মোক্তার মোল্লা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা