kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ আষাঢ় ১৪২৭। ৭ জুলাই ২০২০। ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

মিতু হত্যার চার বছর

‘কৌশলে’ মামলার তদন্ত পিবিআইয়ে ঠেলে হাঁপ ছাড়ল সিএমপি

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

৫ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘কৌশলে’ মামলার তদন্ত পিবিআইয়ে ঠেলে হাঁপ ছাড়ল সিএমপি

বহুল আলোচিত সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল থেকে নিজেদের কৌশলে বিরত রেখেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। ‘কৌশলগত’ কারণে মামলার তদন্তের দায় এড়াতে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রায় সাড়ে তিন বছর তদন্ত কার্যক্রম আটকে রেখে নতুন গন্তব্যে পাঠিয়ে সিএমপি যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। কিন্তু মামলাটি এখন ‘অধিকতর তদন্তঝুঁকির মধ্যে’ পড়েছে বলে পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা মনে করছেন।

সিএমপি ও পিবিআই—দুটিই ছিল হত্যা মামলাটির বাদী এবং পরবর্তী সময়ে ‘হত্যার নির্দেশদাতা’ হিসেবে নাম উঠে আসা বাবুল আক্তারের কর্মস্থল। ২০১৬ সালে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার কিছুদিন আগেই বদলি হয়ে পিবিআইয়ের ঢাকা কার্যালয়ে যোগ দেন বাবুল আক্তার। ওই সময় তিনি সদ্য পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন। মিতু হত্যার দিন তাঁকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। সিএমপিতে তাঁর মামলাটি তদন্ত চলে সাড়ে তিন বছর। পিবিআইয়ের কাছে মামলাটি যায় ছয় মাস আগে। কবে নাগাদ এই তদন্ত শেষ হবে সেই বিষয়ে বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং পিবিআই চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মঈন উদ্দিন নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারেননি।

সাড়ে তিন বছর তদন্তের পরও মামলার অভিযোগপত্র দাখিল না করার বিষয়ে জানতে চেয়ে ফোন করা হয় মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমানকে। তিনি অপর প্রান্ত থেকে সাড়া দিয়ে ‘ব্যস্ত’ উল্লেখ করে খুদে বার্তা পাঠান।

পরক্ষণে অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) শ্যামল কুমার নাথ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান মামলার তদন্ত প্রায় শেষ করে এনেছিলেন। এর মধ্যে আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইয়ে পাঠানো হয়েছে।’

এদিকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ ও পিবিআই কর্মকর্তারা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, তদন্তাধীন মামলা সাধারণত স্থানান্তরের আদেশ দেওয়া হয় না। অভিযোগপত্র দাখিলের পর আদালতের কাছে যদি মনে হয় অধিকতর তদন্তের প্রয়োজন আছে, তখনই শুধু মামলাটি অন্য একটি সংস্থার কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু মিতু হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রথম অভিযোগপত্র দাখিল করেননি। এর আগেই আদালতের নির্দেশে মামলাটি পিবিআইয়ে স্থানান্তরিত হয়। কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনজনের ভাষ্য অনুযায়ী, সিএমপি চায়নি স্পর্শকাতর এই মামলাটির অভিযোগপত্র দাখিল করতে। তাই কৌশলে মামলাটি পিবিআইয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মামলার তদন্তের অগ্রগতি বিষয়ে জানতে চাইলে পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও তদন্তকারী কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন বলেন, ‘আদালতের নির্দেশের পর গত জানুয়ারি মাসে মামলার ডকেট আমার হাতে এসেছে। মামলাটি এখন তদন্তাধীন আছে। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।’

২০১৬ সালের ৫ জুন চট্টগ্রাম মহানগরীর জিইসির মোড় এলাকায় ছেলেকে স্কুলে নেওয়ার পথে দুর্বৃত্তের গুলি ও ছুরিকাঘাতে নিহত হন মিতু। এরপর ওই বছরের ২২ জুন থেকে বাবুল আক্তারের সোর্স মুছা সিকদারের স্ত্রী পান্না আক্তার দাবি করে আসছেন, তাঁর স্বামী মুছাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। এরপর এখন পর্যন্ত মুছার খোঁজ পাওয়া যায়নি।

ইতিমধ্যে মিতু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামি ও অস্ত্র সরবরাহকারী এহতেশামুল হক ভোলা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে গেছেন। এখন কারাগারে আছেন তিন আসামি শাহজাহান, ওয়াসিম ও আনোয়ার। এ ছাড়া সন্দেহভাজন আসামি রাশেদ ও নবী ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা গেছেন। আসামি রবিন ও গুন্নু মিয়া জামিনে আছেন। এদিকে মিতু হত্যাকাণ্ডের পর হত্যার ‘নির্দেশদাতা’ হিসেবে বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় তাঁকে ওই সময় পুলিশ বাহিনী থেকে অবসরে পাঠানো হয়। তিনি এখন মামলার তদন্তের বিষয়ে খোঁজ রাখেন না বলে জানা গেছে। গতকাল ফোন করা হলেও অপর প্রান্ত থেকে সাড়া দেননি তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা