kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

অবৈধভাবে ইউরোপ যাত্রা

সাগর পেরিয়ে ইতালিতে আরো ৭৭ বাংলাদেশি

মেহেদী হাসান   

৩ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাগর পেরিয়ে ইতালিতে আরো ৭৭ বাংলাদেশি

ছবি: ইন্টারনেট

পথে পথে মৃত্যু সত্ত্বেও অবৈধভাবে সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাত্রা থেমে নেই। মানবপাচারকারীচক্রের নির্বিচার গুলিতে গত সপ্তাহে লিবিয়ায়ই নিহত হয়েছে ২৬ বাংলাদেশি। ওই ঘটনার দিকে যখন সবার দৃষ্টি তখন অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আরেকটি দল অবৈধভাবে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইতালিতে পৌঁছেছে।

ইতালি থেকে পাওয়া খবরে জানা যায়, গত রবিবার ইতালির লাম্পেদুসা দ্বীপের তিন মাইল দূরের জলসীমায় ৯৩ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করে ওই দেশটির কোস্ট গার্ড। ওই ৯৩ জনের মধ্যে ৭৭ জনই বাংলাদেশি। এ ছাড়া মরক্কোর সাতজন ও মিসরের দুজন আছে বলে জানা গেছে। বাকিরা কোন দেশের সে বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়নি। তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে একটি জাহাজে কোয়ারেন্টিনে রাখার কথা ইতালির একটি সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশী ওই ব্যক্তিরা লিবিয়ার জুয়ারা থেকে রওনা হয়েছিল। আন্তর্দেশীয় মানবপাচারকারী চক্র ইউরোপে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে অবৈধভাবে নৌকায় করে সাগর পাড়ি দিতে উদ্বুদ্ধ করে থাকে। বছরের এই সময়টা সাগর শান্ত থাকায় নৌকায় করে পাড়ি দেওয়ার জন্য নিরাপদ বলে ধরা হয়। তবে বিভিন্ন সময় বিপুলসংখ্যক অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যুও হয়েছে ভূমধ্যসাগরে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়ায় অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে আন্তর্দেশীয় চক্র ওই দেশটিকে ইউরোপে মানবপাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে লিবিয়া কর্তৃপক্ষও বিভিন্ন সময় লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়া ঠেকাতে উদ্যোগ নিয়েছে। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর অন্তত ৪৭৯ জন বাংলাদেশিকে ইউরোপে যাওয়ার সময় তারা উদ্ধার করেছে। ওই রুট হয়ে সুদান, মালি, আইভরি কোস্ট, সোমালিয়া, নাইজেরিয়া, ইরিত্রিয়া, দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ইউরোপে পাচার করা হয়। তবে আফ্রিকার দেশগুলোর বাইরে বাংলাদেশির সংখ্যাই সেখানে বেশি।

ইউএনএইচসিআরের আরেক হিসাবে দেখা গেছে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ভূমধ্যসাগর ও স্থলপথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপে ঢোকা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় নবম স্থানে আছে বাংলাদেশ। ওই চার মাসে ৬৯৩ জন বাংলাদেশি অবৈধভাবে ইউরোপে ঢুকেছে। ধারণা করা হয়, তাদের বড় অংশই গেছে ইতালিতে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, কয়েক লাখ টাকা খরচ করে অবৈধভাবে ইউরোপে ঢুকতে পারলেও খুব অল্পসংখ্যক ব্যক্তিই ইউরোপে দীর্ঘ মেয়াদে আশ্রয় পাচ্ছে। বিশেষ করে সাগরপথে ইউরোপে ঢোকা বাংলাদেশিদের ইউরোপে শরণার্থী মর্যাদা পাওয়ার হার বেশ কম। অন্যদিকে অবৈধদের ফিরিয়ে আনতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের একটি সমঝোতা রয়েছে। এর আওতায় এরই মধ্যে অনেককে বাংলাদেশে ফেরতও পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা