kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

ন্যাশনাল ব্যাংকের ৬০ লাখ টাকাসহ চারজন গ্রেপ্তার

৮০ লাখ টাকার বস্তাটি হাতিয়ে নেয় টানা পার্টি!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ন্যাশনাল ব্যাংকের ৬০ লাখ টাকাসহ চারজন গ্রেপ্তার

কোতোয়ালি থানার ইসলামপুর শাখার ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে তোলা ৮০ লাখ টাকা খোয়া যায়। গতকাল ৬০ লাখ টাকা উদ্ধার এবং দুটি পিস্তলসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। ছবি : কালের কণ্ঠ

ন্যাশনাল ব্যাংকের ‘খোয়া’ যাওয়া টাকার বস্তার ৮০ লাখ টাকার মধ্যে ৬০ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ওই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে চারজনকে দুটি বিদেশি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন হান্নান ওরফে রবিন ওরফে রফিকুল ইসলাম (৫০), মো. মোস্তাফা (৫২), মো. বাবুল মিয়া (৫৫) ও পারভীন (৩১)।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে ডিবি কার্যালয়ে গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুব আলম এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, গত সোমবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে হান্নান ও তাঁর সহযোগীরা মূলত ‘টানা’ দলের সদস্য। তিনি জানান, গত ১০ মে দুপুরে ন্যাশনাল ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে টাকা সংগ্রহ করে ব্যাংকের মাইক্রোবাসটি ইসলামপুর শাখায় যায়। ব্যাংকের একজন নির্বাহী কর্মকর্তা ও একজন সিকিউরিটি গার্ড যখন টাকা আনতে ওপরে উঠেন, তখন একজন সিকিউরিটি গার্ড ও  মাইক্রোবাসের চালক গাড়িতেই ছিলেন। এ সুযোগে হান্নানসহ তাঁর সহযোগীরা সেখানে এসে ‘টাকা আনতে দেরি হচ্ছে’ দেখে গাড়ির চালককে ওপরে পাঠান। চালক ওপরে উঠলে হান্নানের সহযোগীরা সিকিউরিটি গার্ডকে বিভিন্ন কথাবার্তায় অন্যমনস্ক রাখেন। আর হান্নান গাড়ির দরজা খুলে টাকার বস্তা নিয়ে কোনো দিকে দৃষ্টিপাত না করে রিকশা নিয়ে আরমানিটোলায় একটি বাসায় চলে যান। সেখানে তাঁর সহযোগীদের ২৫ হাজার করে টাকা দিয়ে বাকি টাকা তিনি নিজের কাছে রেখে দেন।

গতকাল সকালে ডিবি কার্যালয়ে যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, গত ১০ মে রাজধানীর পুরান ঢাকায় বিভিন্ন শাখা থেকে উত্তোলন করা ন্যাশনাল ব্যাংকের ৮০ লাখ টাকার একটি বস্তা গাড়ি থেকে খোয়া যায়। দিনদুপুরে ঘটে যাওয়া ওই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করে ন্যাশনাল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। দায়ের করা মামলাটি কোতোয়ালি থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশের কয়েকটি টিম ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সোমবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৬০ লাখ টাকা ও দুটি বিদেশি পিস্তল।

বাকি ২০ লাখ টাকা সম্পর্কে তিনি বলেন, তাঁরা বিভিন্নভাবে তা খরচ করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, চক্রের মূল হোতা হান্নানের বিরুদ্ধে ত্রিশের অধিক মামলা রয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে গেণ্ডারিয়া ও যাত্রাবাড়ী থানায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে বলে যোগ করেন।

প্রসঙ্গত, ওই দিন পুরান ঢাকার বাবুবাজার আসার পর গাড়ির একজন নিরাপত্তাকর্মী দেখতে পান ৮০ লাখ টাকার একটি ব্যাগ গাড়িতে নেই। ওই দিনই টাকার দায়িত্বে থাকা চারজনকে আটক করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁদের কাছ থেকে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা পুলিশ সড়কের বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বলে জানিয়েছেন অভিযানের তদারককারী গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার রাজীব আল মাসউদ।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা