kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

সর্বনিম্ন পাসের হার কারিগরিতে

১৩০০-এর মধ্যে ৮০৫ নম্বর ব্যাবহারিক, এর পরও ফল নিম্নমুখী

শরীফুল আলম সুমন   

২ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সর্বনিম্ন পাসের হার কারিগরিতে

এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার সর্বনিম্ন, ৭২.৭০। এরপর ৭৮.৭৯ শতাংশ নিয়ে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে সিলেট বোর্ড। অর্থাৎ সবচেয়ে খারাপ ফল করা সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ে প্রায় ৬ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছে কারিগরি। আর গড় পাসের হারের (৮২.৮৭) সঙ্গে এ পার্থক্য প্রায় ১০ শতাংশের। জিপিএ ৫ প্রাপ্তিতেও অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে কারিগরির শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, কারিগরি বোর্ড এতটা পিছিয়ে পড়ায় এবার এসএসসি ও সমমানের ফল আশানুরূপ হয়নি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) প্রায় পুরোটাই ব্যাবহারিকনির্ভর, এক হাজার ৩০০ নম্বরের মধ্যে ৮০৫ ব্যাবহারিক। ট্রেড-১ ও ট্রেড-২ দুটি বিষয়ের ২০০ নম্বরের মধ্যে ১৪০ ব্যাবহারিক। কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন, শারীরিক শিক্ষা, গ্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রয়িং ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্ট—এই চারটি বিষয় ২০০ নম্বরের, যার পুরোটাই ব্যাবহারিক। এমনকি বাংলার ১০০ নম্বরের মধ্যে ব্যাবহারিক ৪০। এর পরও কারিগরি বোর্ডে পাসের হার এত কম হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

অথচ সাধারণ শিক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে সর্বোচ্চ ১১৫ নম্বরের ব্যাবহারিক, মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষায় যা ৪০। আরো দুটি বিষয়ে ব্যাবহারিক থাকলেও তা এসএসসির মূল নম্বরের সঙ্গে যুক্ত হয় না।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড অন্যান্য বোর্ডের চেয়ে ভিন্ন। অন্যান্য বোর্ড মূলত পরীক্ষার দায়িত্বে থাকলেও কারিগরি বোর্ড পরীক্ষা, কারিকুলাম প্রণয়ন, পরিদর্শনসহ সব ধরনের কাজই করে। অনেকেরই অভিযোগ, কারিগরিতে দক্ষ বোর্ড চেয়ারম্যান না থাকায় শিক্ষার্থী বাড়ছে না, পড়ালেখার মানও নিম্নমুখী হচ্ছে। ২০১৬ সালে এই বোর্ডে পাসের হার ছিল ৮৩.১১ শতাংশ। অথচ মাত্র চার বছরের ব্যবধানে কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ।

গত বছর কারিগরি বোর্ডে চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দিয়েছেন ড. মো. মোরাদ হোসেন মোল্ল্যা। তিনি মানসম্পন্ন কারিগরি শিক্ষার বদলে নিয়োগ, দরপত্র, কেনাকাটাসহ নানা ধরনের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ আছে। গত বছর ২৫টি পদে ৪২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে বড় ধরনের লেনদেনের অভিযোগ পাওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তা স্থগিত হয়। রেজিস্ট্রেশন জালিয়াতির মাধ্যমে হঠাৎ করে যে কাউকে পরীক্ষায়ও বসিয়ে দেন বোর্ড কর্মকর্তারা, আছে এমন অভিযোগও। বোর্ডে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলমান থাকায় কেনাকাটায় অনিয়মের কথাও উঠেছে। ফলে কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোর পড়ালেখার খোঁজখবর নেওয়ার সময় বোর্ড কর্মকর্তাদের নেই।

তবে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মোরাদ হোসেন মোল্ল্যা ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘কারিগরিতে লো কোয়ালিটির ছেলে-মেয়েরা পড়তে আসে। অভিভাবকরাও চান না তাঁদের সন্তান পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অথবা কৃষি ডিপ্লোমায় পড়ুক। যারা সাধারণ শিক্ষায় একেবারেই পারে না তারাই কারিগরিতে আসে। এ জন্যই ফল ভালো হয় না। ফিজিকস, কেমিস্ট্রি, ম্যাথ ও ইংরেজিতে খারাপ করে।’ শিক্ষকরা ভালো ফলাফলের জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি। এবার কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এক লাখ ৩১ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। পাস করেছে ৯৫ হাজার ৮৯৫ জন। জিপিএ ৫ পেয়েছে চার হাজার ৮৮৫ জন, যা ৩.৭০ শতাংশ। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্তির গড় ৬.৬৬ শতাংশ।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা