kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

৮৬ দিন পর শনাক্তের চেয়ে সুস্থ বেশি

► মৃত্যুতে বিশ্বে চতুর্থ ব্রাজিল
► দ্রুত রোগী বাড়ছে পেরু ও চিলিতে
►দিল্লি সীমান্ত এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ
► মস্কোয় সংক্রমণের তীব্রতা, তবু লকডাউন শিথিল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



৮৬ দিন পর শনাক্তের চেয়ে সুস্থ বেশি

করোনা মহামারিতে এক দিনে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয় গত ২৯ মে। সেদিন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী বাড়ে প্রায় সোয়া লাখ। এর পরপরই অবশ্য কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছে। পরের দুই দিন ধারাবাহিকভাবে নতুন রোগীর সংখ্যা যেমন কমেছে, তেমনি আক্রান্তের চেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষ সুস্থ হওয়ার খবর এসেছে এক দিন বাদেই। ৮৬ দিন পর গত রবিবার এক দিনে শনাক্ত হওয়া রোগীর চেয়ে সেরে উঠা ব্যক্তির সংখ্যা বেশি দেখা গেছে। এর আগে সর্বশেষ এমনটি হয়েছিল ৪ মার্চ। সেদিন শনাক্ত হয় দুই হাজার ২৯৮ জন আর সুস্থ হয় দুই হাজার ৫৮০ জন। এর পর থেকেই সেরে উঠা ব্যক্তির চেয়ে নতুন রোগীর সংখ্যা বাড়ছিল। বৈশ্বিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই চিত্র মিলেছে।

গত ১০ দিনে বিশ্বে সেরে উঠা ও নতুন রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত রবিবার এক দিনে এক লাখ আট হাজার ৭৬৮ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে সুস্থ হয়েছে এক লাখ ৯ হাজার ৪৫১ জন রোগী। আগের দিন ৩০ মে নতুন রোগী শনাক্ত হয় এক লাখ ২৪ হাজার ১০২ জন। সেদিন সেরে ওঠে ৭৮ হাজার ৩৯১ জন। এর আগের দিন ২৯ মে বিশ্বে রেকর্ড এক লাখ ২৫ হাজার ৪৭৩ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি ধরা পড়ে। ওই দিন সুস্থ হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা ৬৬ হাজার ৯০৬।

একইভাবে গত ৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সেরে উঠা ব্যক্তির চেয়ে নতুন করে অধিকসংখ্যক ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। অবশ্য এর আগেও সুস্থ হওয়ার সংখ্যায় উল্লম্ফন ঘটেছে। গত ২২ মে সুস্থ হয় প্রায় এক লাখ সাত হাজার জন। এর আগের ও পরের দিন এই সংখ্যা ৬০ হাজারেরও কম ছিল। ২৩ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত এক দিনে সুস্থ হওয়া লোকের সংখ্যা ছিল সর্বনিম্ন ৫৫ হাজার, সর্বোচ্চ ৮৪ হাজার।

প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস এখন পর্যন্ত বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৬৩ লাখ ১২ হাজার ছাড়িয়েছে। এ সময়ে মারা গেছে পৌনে চার লাখ মানুষ। আর সুস্থ হয়েছে প্রায় পৌনে ২৯ লাখ করোনা রোগী। বিশ্বে বর্তমানে ৫৪ হাজার রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন, যা চিকিৎসাধীন লোকের ২ শতাংশ। ১০ দিন ধরে সংকটাপন্ন রোগীর সংখ্যা স্থিতিশীল আছে।

মৃত্যুতে বিশ্বে চতুর্থ ব্রাজিল : নভেল করোনাভাইরাসে প্রাণহানির সংখ্যায় ফ্রান্সকে ছাড়িয়ে বিশ্বে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে ব্রাজিল। করোনার নতুন কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠা লাতিন আমেরিকার দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ২৯ হাজার ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইতালির পর এখন ব্রাজিলেই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

আর আক্রান্তের দিক দিয়ে শীর্ষ দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পরই অবস্থান করছে ব্রাজিল (পাঁচ লাখ)। এর পরও দেশটির প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো ধারাবাহিকভাবে এ সংকটকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করছেন। করোনায় ব্রাজিলের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাজ্যগুলোতে জারি করা লকডাউনের সমালোচনা করে আসছেন তিনি।

ব্রাজিলে প্রাণহানির সংখ্যা খুবই দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুই সপ্তাহেই দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে, যেখানে যুক্তরাজ্যে লাগছে দুই মাস, ফ্রান্সে চার মাস ও ইতালিতে পাঁচ মাস। নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা কম হওয়ায় দেশটিতে আক্রান্ত ও মৃতের প্রকৃত সংখ্যা আরো অনেক বেশি হবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দ্রুত রোগী বাড়ছে পেরু ও চিলিতে : পেরুতে গত রবিবার নতুন করে আট হাজার ৮০০ লোক করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। রোগীর সংখ্যার হিসাবে লাতিন আমেরিকায় ব্রাজিলের পরই এখন পেরুর অবস্থান। পেরুতে করোনাভাইরাসে মারা গেছে চার হাজার ৫০৬ জন। মৃতের সংখ্যার দিক থেকে এটি এ অঞ্চলের তৃতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যা। প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ব্রাজিল ও মেক্সিকো।

পেরুতে মাসব্যাপী কড়াকড়িভাবে লকডাউন চলছে। এ ছাড়া জারি রয়েছে রাত্রিকালীন কারফিউ। তা সত্ত্বেও সংক্রমণ খুব দ্রুতগতিতেই বেড়ে যাচ্ছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মার্টিন ভিজকারা সতর্ক করে বলেছেন, তাঁরা মাত্র সংকটের অর্ধেক পথে রয়েছেন।

এদিকে প্রতিবেশী দেশ চিলিতে গত রবিবার এক দিনে মারা গেছে আরো ৫৭ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৫৪। প্রাণহানির নতুন এ সংখ্যা ঘোষণা করতে গিয়ে দেশটির উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী পলা দাজা বলেছেন, ‘গত ১০০ বছরের মধ্যে আমরা সবচেয়ে বড় ধরনের মহামারি মোকাবেলা করছি।’ একে ভয়ংকর চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশে খুবই কঠিন সময় পার করছি।’

মস্কোয় সংক্রমণের তীব্রতা, তবু লকডাউন শিথিল : রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় করোনাভাইরাস মোকাবেলায় নেওয়া কঠোর পদক্ষেপগুলো শিথিল করা হচ্ছে। গতকাল খুলে দেওয়া হয়েছে শপিং মল ও পার্ক; যদিও করোনাভাইরাস সংক্রমণের দিক থেকে বিশ্বে রাশিয়া বর্তমানে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

মহামারি করোনা সংক্রমণের সর্বোচ্চ চূড়া পার হয়েছে—রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ ঘোষণা দেওয়ার পর এক কোটি ২০ লাখ লোকের শহর মস্কোয় নিষেধাজ্ঞাগুলো শিথিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। মস্কোয় গত ৩০ মার্চ লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এ সময়ে অনুমতি নিয়ে শুধু জরুরি কাজে বাইরে যেতে পারত শহরবাসী। বর্তমানে লকডাউন শিথিলের বিষয়ে মস্কোর মেয়র সার্গেই সবিয়ানিন বলেন, সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নিয়মিত হাঁটার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অবশ্য সপ্তাহে তিনবারের বেশি কেউ এ সুযোগ পাবে না। তবে অবশ্যই তাদের মাস্ক পরতে হবে।

এদিকে মস্কো কর্তৃপক্ষ বলেছে, আগামী ১৪ জুন পর্যন্ত শহরে বড় ধরনের কোনো জমায়েত করা যাবে না।

তবে সরকারের এসব সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। লোকজন নানা হাস্য রসাত্মক কৌতুকের মাধ্যমে সরকারের নেওয়া এসব সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছে। তারা করোনা সংক্রমণ তীব্র থাকা সত্ত্বেও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের এ উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

এদিকে গত রবিবার রাশিয়ায় নতুন করে আরো ৯ হাজার লোক করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার লাখ পাঁচ হাজার এবং মারা গেছে চার হাজার ৬০০ জন।

দিল্লি সীমান্ত এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ : করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ায় এক সপ্তাহের জন্য ভারতের রাজধানী দিল্লির সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এ ঘোষণা দেন। তবে জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী ও সরকারি পাস থাকা ব্যক্তিরা যাতায়াত করতে পারবেন।

কেজরিওয়াল বলেন, ‘সীমানা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে, যাতে শহরের হাসপাতাল ও চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে করোনা সংক্রমিত ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়। যে মুহূর্তে আমরা সীমানা খুলব, শহরের বাইরে থেকে লোকজন চিকিৎসার জন্য দিল্লিতে আসবে। দিল্লির হাসপাতালগুলো এখানকার মানুষের জন্যই সংরক্ষণ করা উচিত।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা