kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

প্রকাশ্যে তাণ্ডব, মুমূূর্ষু যুবক হাসপাতালে

► যুবলীগের নাম ভাঙিয়ে চলা প্রধান আসামি এখনো গ্রেপ্তার হননি
►আহত যুবকের জ্ঞান ফেরেনি; কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে পাকস্থলীর অংশ

লায়েকুজ্জামান   

২ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রকাশ্যে তাণ্ডব, মুমূূর্ষু যুবক হাসপাতালে

অভিযুক্ত সালাউদ্দিন

প্রকাশ্য দিবালোকে চাকু, রামদা, হকিস্টিক দিয়ে কুপিয়ে-পিটিয়ে এক যুবককে ক্ষতবিক্ষত করেন দুর্বৃত্তরা। ঘটনার দুই দিন পর রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলা দায়ের হলেও কথিত যুবলীগ নেতা, প্রধান আসামি সালাউদ্দিন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। হামলায় গুরুতর আহত যুবক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ১০২ নম্বর ওয়ার্ডের ২৮ নম্বর শয্যায় এখনো সংজ্ঞাহীন। এরই মধ্যে তাঁর পাকস্থলীর একটি অংশ কেটে ফেলতে হয়েছে। তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

গত ২৪ মে বিকেল ৩টার দিকে পল্লবী থানার মুসলিম বাজারে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার যুবকের নাম মামুন। তিনি একজন পোশাক শ্রমিক। তাঁর বাবা মন্টু সৈয়ল ছিলেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরে প্রচুর অর্থবিত্তের মালিক হওয়া সালাউদ্দিনের সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের দহরম-মহরম সম্পর্ক রয়েছে। তবে যুবলীগে তাঁর কোনো পদ নেই বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন।

মামলার বাদী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালিয়েছে।

গতকাল শনিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, মামুনকে দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচারের জন্য অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হচ্ছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন। প্রথম দফা অস্ত্রোপচারে তাঁর পাকস্থলীর একটি অংশ কেটে ফেলতে হয়েছে।

গত ২৬ মে পল্লবী থানায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা (নম্বর ১৩) করেন আহত মামুনের বড় ভাই নাসিরউদ্দিন মিলন।

মিরপুর-১২ নম্বর সেকশনের ব্যবসায়ী, স্থানীয় বাসিন্দারাসহ মামলার বাদী মিলন জানান, গত ২০ মে মামুনের বন্ধু রানা মুসলিম বাজারের ‘বিসমিল্লাহ বিরিয়ানি হাউস’ থেকে বিরিয়ানি কেনেন। বিরিয়ানি কম দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। এতে দোকানের ম্যানেজারের সঙ্গে তাঁর বচসা হয়। এই দোকানের মালিক সালাউদ্দিন। ঘটনার সময় অনুপস্থিত সালাউদ্দিন পরে জানতে পেরে রানাকে হত্যার হুমকি দেন। এতে ভয় পেয়ে আত্মগোপন করেন রানা। ঘটনার দিন ২৪ মে বিকেলে সালাউদ্দিন তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে রানাকে খুঁজতে বের হন। এ সময় তাঁরা রানার বন্ধু মামুনকে সামনে পেয়ে হামলা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার দিন বিকেল ৩টার দিকে মামুন মুসলিম বাজার মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে ১২ নম্বর সেকশনের ‘ত’ ব্লকের বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় সালাউদ্দিনসহ ১০-১২ জন তাঁর ওপর হামলা করেন। সালাউদ্দিন তাঁর হাতে থাকা মাংস কাটার ছুরি দিয়ে প্রথমে মামুনের পেটে আঘাত করেন। মামুন মাটিতে পড়ে গেলে কয়েকজন তাঁকে রামদা দিয়ে কোপাতে থাকে। বাকিরা হকিস্টিক দিয়ে পেটাতে থাকে। একপর্যায়ে মামুন উঠে দৌড় দিলেও সন্ত্রাসীরা তাঁকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে এবং আবারও কুপিয়ে-পিটিয়ে জখম করে। মামুনের চিৎকারে আশপাশের বাড়িঘর থেকে নারী-পুরুষসহ বাজারের লোকেরা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা চলে যায়। সন্ত্রাসীদের আঘাতে মামুনের পেট, মাথা ও পায়ে গুরুতর জখম হয়। এ ঘটনার ধারণ করা ভিডিও কালের কণ্ঠ’র কাছে রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সালাউদ্দিন পাঁচ বছর আগেও কসাইয়ের কাজ করতেন। মুসলিম বাজারে ‘বিসমিল্লাহ মাংস ঘর’ নামে তাঁর একটি দোকান ছিল। তখন থেকেই তিনি নিজেকে যুবলীগের নেতা পরিচয় দেওয়া শুরু করেন। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ছবিসহ সৌজন্য ব্যানার-ফেস্টুন টাঙাতে থাকেন। বর্তমানে সালাউদ্দিন পাঁচটি বিরিয়ানির দোকান ও চারটি বাড়ির মালিক।

তবে মাংস কাটার চরিত্র বদলে সালাউদ্দিন এখন ‘মানুষ কাটার দিকে’ এগিয়েছেন বলে মন্তব্য একজন স্থানীয় বাসিন্দার। তিনিসহ অনেকেই অভিযোগ করেন, নেতাদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে সালাউদ্দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। প্রভাবশালী অনেক নেতার সঙ্গে তাঁর ছবিও রয়েছে পোস্টারে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আসামিকে পাওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া আমার ভাই করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় আমি বিপাকে রয়েছি।’ আসামি কেন গ্রেপ্তার হচ্ছে না জানতে চাইলে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) এমরানুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আসামি ধরার চেষ্টা করছি। হয়তো দ্রুত গ্রেপ্তার হয়ে যাবে।’

আসামি সালাউদ্দিনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা