kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হলো বেক্সিমকোর তৈরি ৬৫ লাখ পিপিই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হলো বেক্সিমকোর তৈরি ৬৫ লাখ পিপিই

মহামারি করোনাভাইরাস মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী বা পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ থেকে ৬৫ লাখ পিপিই আমদানির কার্যাদেশ দিয়েছে প্রেসিডন্ট ট্রাম্পের দেশ। সে মোতাবেক দেশের টেক্সটাইল খাতের নেতৃস্থানীয় ব্র্যান্ড বেক্সিমকো মার্কিন ব্র্যান্ড হেইনসের কাছে ৬৫ লাখ পিপিই গাউনের চালান পাঠিয়েছে। এই চালান গেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছে।

পিপিই রপ্তানির এই মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে গত সোমবার ঈদের দিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার। এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাত্র দুই মাসের মধ্যে আমরা আমাদের বিশ্বমানের উৎপাদন, প্রযুক্তিগত ও ডিজাইন দক্ষতা এবং সক্ষমতা প্রয়োগ করে পিপিই তৈরি করতে শুরু করি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাপী অতিপ্রয়োজনীয় পিপিইর সরবরাহ বৃদ্ধিতে অবদান রাখে বেক্সিমকো।’ তিনি বলেন, ‘এক সংকটময় সময়ে বাংলাদেশ মাত্র দুই মাসের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতের জন্য এ মুহূর্তে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিশ্বের এক গুরুত্বপূর্ণ বাজারে রপ্তানি করছে। তাও আবার ১০-২০ হাজার নয়, ৬৫ লাখ পিস। এ এক অভাবনীয় অর্জন।’

এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রথম বড় ধরনের পিপিইর চালান যাচ্ছে। বিশ্ববাজারের জন্য বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যায় বৈশ্বিকমানের পিপিই উৎপাদনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানায় যুক্তরাষ্ট্র। বেক্সিমকো ও হেইনসের চুক্তিতে আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে মহান এ দেশ দুটি কভিড-১৯ মোকাবেলায় কিভাবে লড়াই করছে।’

বেক্সিমকো টেক্সটাইলসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও গ্রুপ পরিচালক সৈয়দ নাভেদ হোসেন বলেন, ‘কভিড-১৯ ভাইরাসের কারণে বিশ্বের কার্যপদ্ধতি পাল্টে গেছে। তাই বেক্সিমকোকেও জরুরিভিত্তিতে সক্রিয় হতে হয়েছে। মাত্র দুই মাসের মধ্যে আমরা আমাদের বিশ্বমানের উৎপাদন, প্রযুক্তিগত ও ডিজাইন দক্ষতা এবং সক্ষমতা প্রয়োগ করে পিপিই তৈরি করতে শুরু করি।’ অনুষ্ঠানে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জামালউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বেক্সিমকোকে অর্থায়নের সুযোগ পেয়ে জনতা ব্যাংক গর্বিত।’

বেক্সিমকো ফার্মার ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাজমুল হাসান এমপি বলেন, ‘আমরা বিপুল পরিমাণ বিশ্বমানের পিপিই উৎপাদনকারী দেশের কাতারে যোগ দিলাম। মহামারির প্রথম দিকে দেশে পিপিইর প্রচুর চাহিদা ছিল এবং বেক্সিমকো পিপিই আমদানি করে দেশের স্বাস্থ্য খাতের প্রয়োজন মেটাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।’

বিশ্বমানের উৎপাদন ও গমবষণা স্থাপনা সমৃদ্ধ বাংলাদেশের একমাত্র এফডিএ সনদপ্রাপ্ত ফার্মাসিউটিক্যালস কম্পানি বেক্সিমকো ফার্মা সম্প্রতি বিশ্বের প্রথম কম্পানি হিসেবে রেমডেসিভিরের জেনেরিক সংস্করণ উৎপাদন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ এই রেমডেসিভিরকে কভিড-১৯ রোগের চিকিৎসায় জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। প্রাথমিক ক্লিনিক্যাল উপাত্ত থেকে জানা যাচ্ছে যে এই ওষুধ কভিড-১৯ ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা