kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

মানুষের স্রোত ঘাটে ঘাটে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মানুষের স্রোত ঘাটে ঘাটে

ঈদ শেষে ঢাকায় ফিরছে হাজারো মানুষ। মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের শিমুলিয়া ঘাট থেকে গতকাল তোলা ছবি। ছবি : কালের কণ্ঠ

গ্রামের বাড়িতে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে দক্ষিণাঞ্চল থেকে সড়কপথে কর্মস্থল ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। করোনার কারণে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, ইজি বাইকে চেপে যাত্রীরা ভেঙে ভেঙে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় ফিরছে। ঘাটে ঘাটে যেন মানুষের স্রোত নেমেছে। লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ থাকায় ফেরিতে গাদাগাদি করে পাড়ি দিতে গিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি। পাশাপাশি গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।

নৌপথ পাড়ি দিতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে কর্মজীবী মানুষের ঢল নামে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে লঞ্চ সার্ভিস বন্ধ থাকলেও ফেরি চলাচল স্বাভাবিক ছিল। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে মহেন্দ্র, অটোরিকশা, ভ্যান ও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে করে যাত্রীরা ভেঙে ভেঙে দৌলতদিয়া ঘাটে আসছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকার সুযোগে এসব ছোট গাড়ির চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে চার-পাঁচ গুণ বেশি ভাড়া আদায় করছেন। এদিকে করোনা প্রতিরোধে করণীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে হাজার হাজার যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচলকারী ফেরিগুলোতে গাদাগাদি করে নৌপথ পাড়ি দিচ্ছে। এদিকে ৫ নম্বর ফেরিঘাট থেকে বাইপাস সড়কের এক পাশে ফেরি পারের অপেক্ষায় আটকা ছিল প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাসসহ ব্যক্তিগত শতাধিক গাড়ি।

এদিকে বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট অফিস সূত্রে জানা যায়, পদ্মা নদীর পানি বেড়ে গত বুধবার ভোরে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ঘাট পন্টুনের পকেট পথ পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ফেরিতে যানবাহন উঠানামা বিঘ্নিত হয়। পরে ওই দিন র‌্যাকারের সাহায্যে তিনটি ঘাটের মধ্যে দুটি ঘাট মেরামত করেন বিআইডাব্লিউটিএর কর্মীরা। পকেট পথ তলিয়ে যাওয়া অন্য ৩ নম্বর ঘাটটির মেরামতকাজ শেষ হয় গতকাল দুপুরে। 

এদিকে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌপথেও ঢাকামুখী যাত্রীর ঢল নামে। সরকার সাধারণ ছুটি আর বাড়াবে না বলে ঘোষণা দেওয়ায় লোকজন এখন কর্মস্থলমুখী হচ্ছে। তবে লঞ্চ, সি বোট এখনো চলাচল না করায় ফেরিতে গাদাগাদি করে যাত্রীরা পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি না মানায় এখান থেকে করোনা সংক্রমিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

গতকাল সকালে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ফেরি ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, হাজার হাজার মানুষ ছুটছে কর্মস্থল ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলোতে। যখনই ওপার কাঁঠালবাড়ী থেকে কোনো ফেরি আসছে, তাতে মানুষ আর মানুষ ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। মানুষের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছিল ফেরিতে থাকা দু-একটি গাড়িও। শিমুলিয়া ঘাটে আসার পর যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে নেমে ছুটছিল গাড়ি ধরার জন্য। কিন্তু সেখানে গাড়ি না পেয়ে তারা নসিমন, করিমন, পিকআপ ভ্যান, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, গাড়ি ও মাইক্রোবাসে চেপে ঢাকার দিকে ছুটচিল। এতে তাদের কয়েক গুণ ভাড়া বেশি গুনতে হয়েছে। এরপর আবার বিপত্তি ঘটায় ট্রাফিক পুলিশ। ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়া ভাড়ার গাড়ি চলাচলে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় তারা ভাড়ার গাড়িগুলো আটকে দেওয়ায় যাত্রীরা পড়ে যানবাহনসংকটে।

মাওয়া ট্রাফিক পুলিশের টিআই মো. হিলাল উদ্দিন বলেন, ‘গতকাল সকাল থেকে ঢাকামুখী যাত্রীর ঢল নামে। কিন্তু যানবাহনের অভাবে এসব যাত্রী ঢাকায় ফিরতে ভোগান্তিতে পড়ে। ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়া ভাড়ার গাড়ি চলাচল নিষেধ থাকায় আমরা বেশ কিছু ভাড়ায় চালিত মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কার জব্দ করেছি।’

(প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ও মাদারীপুরের শিবচর প্রতিনিধি)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা