kalerkantho

সোমবার । ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ১  জুন ২০২০। ৮ শাওয়াল ১৪৪১

লুকিয়ে ঈদযাত্রী আনার জের

গাইবান্ধায় ট্রাক উল্টে প্রাণ গেল ১৩ জনের

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

২২ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গাইবান্ধায়  ট্রাক উল্টে প্রাণ গেল ১৩ জনের

গোপনে ত্রিপলের নিচে লুকিয়ে রডবোঝাই ট্রাকে ঈদে বাড়ি ফিরছিল তিন শিশুসহ ১৩ জন যাত্রী। প্রবল বৃষ্টি আর ঝোড়ো হাওয়ার মধ্যে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রডবাহী ওই ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে পানিভর্তি খাদে উল্টে পড়ে। ঘটনাস্থলেই রডের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারায় ওই ১৩ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের দুবলাগাড়ী জুনদহ এলাকায় ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে দুর্ঘটনার বেশ পরে স্থানীয়রা দুর্ঘটাকবলিত ট্রাকটি দেখতে পান। নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হলেন—গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের ছোট ভগবানপুর গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে পোশাক শ্রমিক মহসিন মিয়া (২৬), রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ধোরাকান্ত গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে শামছুল আলম (৬৫) ও নাতি সোয়াইত (৭)। সোয়াইতের বাবার নাম সুমন মিয়া। 

সরকারের নিষেধাজ্ঞার পরও পরিবারের লোকজনের সঙ্গে ঈদ করতে এসব মানুষ বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। তাঁরা ট্রাকের ড্রাইভার-হেলপারদের সঙ্গে যোগসাজশে ত্রিপলের নিচে লুকিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় তাঁদের আর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ করা হলো না। গ্রামবাসী জানান, সম্ভবত সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে ট্রাকটি দুর্ঘটনায় পড়ে। বৃষ্টি কিছুটা কমে এলে কিছু মানুষ পথে বের হন। তাঁরা ট্রাকটি দেখতে পান। প্রথমে তাঁরা মালবাহী ট্রাক দুর্ঘটনায় পড়েছে ভাবলেও  কাছে গিয়ে ভেতরে দুমড়ে-মুচড়ে থাকা মানুষ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।

প্রত্যক্ষদর্শী মুকুল মিয়া বলেন, ‘ত্রিপলে ঢেকে গোপনে যাত্রীদের নিয়ে যাচ্ছিল ট্রাকটি। দড়ি দিয়ে চারদিক বাঁধা থাকায় পুলিশ কিংবা অন্য কেউ সন্দেহ করেনি ভেতরে মানুষ আছে। এর ওপর ঝড়-বৃষ্টির সুযোগ নেন চালক। তবে গ্রামবাসী চালক বা তাঁর সহকারীকে দেখতে পায়নি।

গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি আবদুল কাদের জিলানী বলেন, ‘গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে ট্রাকটি উদ্ধারের সময় রডের নিচে চাপা পড়া ১০ জন মধ্যবয়স্ক পুরুষ ও তিন শিশুসহ ১৩ জনের  মরদেহ  উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার করা ট্রাক ও মরদেহগুলো গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। ট্রাকের ড্রাইভারসহ অন্যরা পালিয়ে গেছে।

দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা গেছে, মরদেহ উদ্ধারের সময় সেখানে বাচ্চাদের ছোট খেলনা সাইকেল পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এ ছাড়া অনেকের পরনে ছিল ভালো জামা কাপড়।

পলাশবাড়ী থানার ওসি মাসুদুর রহমান জানান, ঢাকা থেকে রংপুরগামী রডবাহী ট্রাকটি প্রচুর বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার মধ্যে ওই এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ১৩ যাত্রী নিহত হন। ধারণা করা হচ্ছে, নিহতরা সবাই গাজীপুরে পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতেন। ঈদের ছুটিতে তাঁরা বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি আরো জানান, যেহেতু রংপুরগামী ট্রাক, সেহেতু মৃতদের মধ্যে রংপুরের বিভিন্ন উপজেলার মানুষ বেশি থাকতে পারেন।

খবর পেয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন ও  পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। জেলা প্রশাসক তাত্ক্ষণিক নিহতদের জন্য ১০ হাজার টাকা অনুদান দেন। তিনি বলেন, পরে আরো সহায়তা করা হবে।

পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত করা হচ্ছে। দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

বড়াইগ্রামে ট্রাকচাপায় পুলিশের এএসআই নিহত : বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি জানান, নাটোরের বড়াইগ্রামে অজ্ঞাতপরিচয় ট্রাকের চাপায় গোয়েন্দা পুলিশের এএসআই একরামুল ইসলাম (২৯) নিহত হয়েছেন। গতকাল বিকেলে উপজেলার থানার মোড় এলাকায় বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত একরামুল ডিএমপি পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) শাখায় কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি কুষ্টিয়া জেলায়।

বনপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, একরামুল ইসলাম মোটরসাইকেলে কর্মস্থল ঢাকায় ফিরছিলেন। পথে বড়াইগ্রাম থানার মোড় এলাকায় পেছন থেকে একটি অজ্ঞাতপরিচয় ট্রাক তাঁকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। নিহতের সঙ্গে থাকা আইডি কার্ড থেকে জানা যায় তিনি পুলিশের এএসআই পদে ডিএমপি পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি)  শাখায় কর্মরত ছিলেন। লাশ উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে।

বিজয়নগরে দুর্ঘটনায় পিকআপ ভ্যানের চালক নিহত : ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে গতকাল বিকেলে ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে রাজিবুল ইসলাম (২৫) নামে পিকআপ ভ্যানের চালক নিহত হয়েছেন। তিনি ঢাকার ডেমরা এলাকার আজিজুল ইসলামের ছেলে। ইসলামপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আতিকুর রহমান ও খাঁটিহাতা হাইওয়ে পুলিশের এএসআই নিয়ামত উল্লাহ জানান, বীরপাশা এলাকায় পিকআপের সঙ্গে ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে রাজিবুল ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা