kalerkantho

সোমবার । ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৫  মে ২০২০। ১ শাওয়াল ১৪৪১

করোনাজয়ী

‘মনে সাহস থাকলে সহজেই মুক্তি সম্ভব’

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

২২ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘মনে সাহস থাকলে সহজেই মুক্তি সম্ভব’

‘সিঙ্গাপুরের মানুষের কাছ থেকে আমি প্রতিদিন শিখছি। প্রবাসীদের প্রতি তাদের বিনয়ী মনোভাব আমাকে মুগ্ধ করেছে। এটা আরো বেশি বুঝতে পেরেছি যখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছি। এখানকার ডাক্তার, নার্স, এসেনশিয়াল সার্ভিস প্রভাইডার—তাদের ভালোবাসা ভোলার মতো নয়।’

এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে কথাগুলো লিখেছেন সিঙ্গাপুরপ্রবাসী করোনাজয়ী মোবারক পাঠান পুনম। তাঁর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকার বড় বাজারে। করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠার পর গত মঙ্গলবার সিঙ্গাপুর সেনাবাহিনীর ক্যাম্প থেকে তিনি ছাড়পত্র পেয়েছেন। আইসোলেশন সেন্টার থেকে তাঁকে ওই ক্যাম্পে এনে রাখা হয়েছিল। এরপর সিঙ্গাপুরের নিয়ম অনুযায়ী বর্তমানে আছেন একটি হোটেলে। সেখানে কিছুদিন থাকার পর নিজের বাসায় ফিরে যাবেন মোবারক। বাসায় পাঁচ দিন থাকার পর কাজে যোগ দিতে পারবেন। তবে কম্পানি তাঁকে এখনো বেতন দিয়ে যাচ্ছে।     

গত ১০ মের সেই ফেসবুক স্ট্যাটাসে এক শিশুর পাঠানো একটি কার্ড পোস্ট করে এই করোনাজয়ী লিখেন, ‘নিচের উইশ কার্ডটি একটু আগে কোনো এক প্রাইমারি স্কুলের বাচ্চার পাঠানো। চোখে পানি চলে আসে। আমি জানি, পুরো সিঙ্গাপুর আজ আমার সঙ্গে আছে, আমি একা নই।’

মোবারক কালের কণ্ঠের কাছে তুলে ধরেছেন তাঁর সুস্থ হওয়ার গল্প। তিনি জানান, টানাহমেরার চাগিং এলাকার কটি কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠানে ডকুমেন্ট কন্ট্রোলার পদে চাকরি করেন তিনি। সেখানেই একটি বাসায় থাকতেন। ওই বাসা থেকেই করোনায় আক্রান্ত হন বলে তাঁর ধারণা। তাঁর কক্ষের একজন আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি অসুস্থবোধ করেন। গত ২৬ এপ্রিল তিনি করোনা উপসর্গ বুঝতে পারেন। বিষয়টি বাসার সিকিউরিটি গার্ডকে জানালে তিনি মেডিক্যাল ক্যাম্পের সহায়তা নেন। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই অ্যাম্বুল্যান্স গিয়ে তাঁকে আইসোলেশন সেন্টারে নিয়ে যায়। ২৭ এপ্রিল থেকে একটি হাসপাতালে এবং ৩০ এপ্রিল থেকে ১১ মে পর্যন্ত এক্সপো এক্সিবিশন নামের আইসোলেশন সেন্টারে ছিলেন। অবস্থার উন্নতি হওয়ায় সেখান থেকে তাঁকে আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়। সাত দিন ওই ক্যাম্পে রাখার পর মঙ্গলবার থেকে আইবিআইএস নামের একটি হোটেলে রাখা হয়েছে তাঁকে।

মোবারক জানান, আইসোলেশন সেন্টারে একজনকে একটি কক্ষে রাখা হয়। ২৪ ঘণ্টাই ডাক্তার, নার্সরা সেখানে অবস্থান করেন। নিজ থেকেই প্রাথমিক অবস্থা জানার ব্যবস্থা আছে। জ্বর ও রক্তচাপ মাপার যন্ত্র দেওয়া আছে। ডাক্তার, নার্সরা বেশ যত্নশীল। রোগীদের সঙ্গে নেচে-গেয়ে তাদের মন ভালো রাখার চেষ্টা করেন তাঁরা। আইসোলেশনে ‘আনন্দঘন’ সময় কাটায় বুঝতেই পারেননি যে তিনি অসুস্থ। ডাক্তার ও নার্সরা নিয়মিত সেবা দিয়েছেন। স্কুলের শিক্ষার্থীরা শুভেচ্ছা উপহার পাঠিয়েছে। পরিবারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে ফ্রি মোবাইল ডাটা দেওয়া হয়েছে। খাবার থেকে শুরু করে কোনো কিছুরই কমতি ছিল না। এসব কিছুর জন্য মানসিকভাবে চাঙ্গা ছিলেন তিনি।

মোবারক বলেন, ‘শুরুতে আমি খুব ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরে মনে হয়েছে, মনে সাহস থাকলে করোনা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে যদি সবার সহযোগিতা পাওয়া যায় তাহলে এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া কঠিন কিছু নয়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা