kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

অর্ধশতাধিক কারখানায় বিক্ষোভ

মজুরি ও ঈদ বোনাস নিয়ে বাড়ছে শ্রমিক অসন্তোষ

এম সায়েম টিপু   

২০ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মজুরি ও ঈদ বোনাস নিয়ে বাড়ছে শ্রমিক অসন্তোষ

করোনার প্রভাবে গার্মেন্ট খোলা-বন্ধ নিয়ে দোলাচল কাটিয়ে শেষে কারখানা খোলা হলেও এখনো মার্চ মাসের মজুরি পাননি অনেক কারখানার শ্রমিকরা। এ নিয়ে রয়েছে প্রবল অসন্তোষ। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত তিন শতাধিক কারখানা মালিক গত মার্চ মাসের শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করতে পারেননি। এ ছাড়া  গতকাল এপ্রিল মাসের শতভাগ মজুরি ও বোনাসের দাবিতে সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জে অর্ধশতাধিক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে। এদিকে ব্যাংকিং জটিলতা ও ঈদ বোনাস নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় এমন অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে জনিয়েছেন শিল্পাঞ্চল পুলিশ ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ব্যাংকের মাধ্যমে শ্রমিকদের এপ্রিল মাসের মজুরি সরাসরি পাওয়ার কথা থাকলেও ব্যাংকিং জটিলতায় এখনো অর্ধেক কারখানার শ্রমিক এপ্রিল মাসের মজুরি পাননি। ঈদ বোনাস নিয়ে গত শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। ওই আলোচনায় বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, শ্রমিক নেতা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং শ্রম প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় অংশ নেওয়া শ্রমিক নেতা আমিরুল হক আমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিদ্ধান্ত অনুসারে যেসব মালিকের সামর্থ্য আছে, তাঁরা পুরো বোনাস  দেবেন। আর যেসব মালিকের সামর্থ্য নেই, তাঁরা ঈদের আগে ৫০ শতাংশ বোনাস দেবেন। বাকি ৫০ শতাংশ ঈদের পর সমন্বয় করবেন। তবে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ সবাইকে ৫০ শতাংশ বোনাস দেওয়ার কথা উল্লেখ করে চিঠি দিয়েছে। ফলে বর্তমানে বেশির ভাগ মালিক ৫০ শতাংশ বোনাসের দিকে ঝুঁকছেন। এ অবস্থায় বহু কারখানায় শতভাগ বোনাস ও শতভাগ মজুরির দাবিতে শ্রম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এ অসন্তোষ আরো বাড়বে। ঈদ পর্যন্ত শ্রমিকরা রাস্তায় থাকবে। ঈদের পরও মালিকদের অফিস ও বাসার সামনে বিক্ষোভ করবে শ্রমিকরা।’ 

শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গতকাল মঙ্গলবার গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, আশুলিয়ায় অর্ধশতাধিক কারখানার শ্রমিকরা মজুরি ও ঈদ বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। এ ছাড়া কারখানাগুলোয় করোনায় আক্রান্ত শ্রমিকের সংখ্যা গতকাল ১০০ ছাড়িয়েছে।’ 

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যে ঊর্ধ্বগতি, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজে আসা, বেতন না পাওয়া, বাসাভাড়ার চাপ—সব মিলিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। মাসের প্রথম সপ্তাহে মজুরি পাওয়ার কথা থাকলেও অর্ধেকের বেশি কারখানার শ্রমিক এখনো এপ্রিলের মজুরি পাননি। অনেক কারখানায় মার্চের মজুরিও বকেয়া। এ অবস্থায় শ্রমিক অসন্তোষ চরম আকার ধারণ করতে পারে।’

এদিকে তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের সমস্যাও যেন পিছু ছাড়ছে না। প্রণোদনার টাকায় এপ্রিল মাসের মজুরি দেওয়ার কথা থাকলেও শ্রমিকরা এখনো মজুরি পাননি। উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য সরকার পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা বাস্তবায়ন শুরু করলেও অনেক কারখানা এই সুবিধা নিতে পারছে না। এ ছাড়া প্রায় ৯০০ কারখানা প্রণোদনা সুবিধার বাইরে থাকছে। 

বিজিএমইএর কারখানা দুই হাজারের বেশি। এর মধ্যে ঋণের জন্য সংগঠনের কাছ থেকে সনদ নিয়েছে এক হাজার ৩৭৭টি। আর বিকেএমইএর ৮৩৩টি কারখানার মধ্যে ঋণের আবেদন করতে সনদ নিয়েছে ৫১৯টি। অর্থাৎ উভয় সংগঠনের আট শতাধিক কারখানা ঋণের জন্য আবেদনই করেনি। এ ছাড়া আবেদন করা পোশাক কারখানার মধ্যে প্রায় ১০০ কারখানার ঋণ এখনো অনুমোদন করা হয়নি। সব মিলিয়ে প্রায় ৯০০ কারখানা থাকছে প্রণোদনা সুবিধার বাইরে।

বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংক থেকে প্রণোদনার টাকা নিতে এক হাজার ৩৭৭টি কারখানাকে সনদ দেওয়া হয়েছে। তবে কতজন ব্যাংক থেকে ঋণ পেয়েছেন তার হাল নাগাদ তথ্য তাদের কাছে নেই। আবার ব্যাংকিং জটিলতার কারণে ঋণ পেতে সময় লাগছে। ফলে শ্রমিকদের মজুরি দিতেও বিলম্ব হচ্ছে। অবশ্য বিজিএমইএর দুই হাজার কারখানার মধ্যে এক হাজার ৮৯টি কারখানা এরই মধ্যে ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে।

বিকেএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঋণের জন্য আবেদন করা আমাদের সদস্যদের মধ্যে ২২ কারখানার ঋণ অনুমোদন করা হয়নি। বিজিএমইএর এই সংখ্যা আরো বেশি। সব মিলিয়ে ব্যাংকের ঋণ পাচ্ছে না বহু কারখানা।’

শিল্প পুলিশ সূত্র জানায়, শিল্পাঞ্চলের সাত হাজার ৬০০ কারখানার দুই-তৃতীয়াংশ কারখানায় এখনো এপ্রিল মাসের বেতন হয়নি। পরবর্তী মাসের সাত কার্যদিবসের মধ্যে বেতন পরিশোধের আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও শিল্পাঞ্চলের প্রায় চার হাজার ৭১২টি কারখানায় এখনো মজুরি হয়নি। এসব কারখানার অর্ধেক রপ্তানিমুখী। আর তিন শতাধিক কারখানা এখনো মার্চ মাসের মজুরি পরিশোধ করেনি।

অন্যদিকে গতকাল শিল্প পুলিশ জানায়, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শ্রমিকের সংখ্যা এ পর্যন্ত ১২০। এর মধ্যে বিজিএমইএ ৮২, বিকেএমইএ ১৫,  বিটিএমইএ দুই, বেপজা ১০, অন্যান্য ১১।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা